Wednesday, January 8, 2020

Lord Arthur Savile's Crime – Oscar Wilde - Translation in Bengali Part 1 of 4 - লর্ড আর্থার সেভিলের অপরাধ - অস্কার ওয়াইল্ড - বাংলা অনুবাদ গল্প

Lord Arthur Savile's Crime – Oscar Wilde - Translation in Bengali Part 1 of 4
LORD ARTHUR SAVILE’S CRIME –Oscar Wilde - Translation in Bengali Part 1 of 4


লর্ড আর্থার সেভিলের অপরাধ - অস্কার ওয়াইল্ড - বাংলা অনুবাদ গল্প

ইস্টারের আগে এটাই লেডি উইণ্ডারমিয়ারের (Windermere) শেষ অভ্যর্থনা, ফলে বেন্টিঙ্ক (Bentinck) হাউস আজ লোকে লোকারণ্য। এসেছেন ছয় জন কেবিনেট মন্ত্রী, দামী সাজে সজ্জিতা মহিলারা ঘুরঘুর করছেন, এদিক-সেদিক। পিকচার গ্যালারির শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন কার্লশ্রুহের (Carlsrühe) প্রিন্সেস সোফিয়া। গড়ন তাঁর তাতারদের মত ভারি, কুতকুতে কালো চোখ, গলায় মহামূল্যবান পান্নার মালা। সুর চড়িয়ে কথা বলছেন তিনি বিশ্রী ফরাসীতে, আর হেসে লুটিয়ে পড়ছেন তার উদ্দেশে বলা প্রত্যেকটা কথার শেষে। বেন্টিঙ্ক হাউসে আজ মানুষজনের এক অদ্ভুত জগাখিচুড়ি (medley) অভিজাত বংশীয়েরা - গল্প করছেন উৎসাহী (Radicals) লোকদের সঙ্গে, পাশাপাশি দাড়িয়ে আছেন, জনপ্রিয় ধর্মোপদেষ্টা আর বিখ্যাত নাস্তিক (sceptics), যাজকের দল পিছু নিয়েছেন সুন্দরী (stout prima-donna ) অপেরা গায়িকার। সিড়িঘরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রয়াল অ্যাকাডেমির কয়েকজন সভ্য। খাবারের টেবিল যেন জ্ঞানী-গুণী মানুষ দিয়ে ঠাসা ছিল। সত্যি বলতে কি, এটা লেডি উইণ্ডারমিয়াবের সর্বশ্রেষ্ঠ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানগুলোর অন্যতম। স্বয়ং প্রিন্সেস থাকলেন প্রায় রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত। তাঁকে বিদায় দিয়ে লেডি উইণ্ডারমিয়ার ফিরে এলেন পিকচার গ্যালারিতে। সেখানে বিখ্যাত এক অর্থনীতিবিদ গম্ভীরভাবে সঙ্গীতের বৈজ্ঞানিক তর্ক বোঝাচ্ছিলেন হাঙ্গেরীর এক সঙ্গীতজ্ঞকে, সে-পর্ব শেষ করে গল্প জুড়ে দিলেন তিনি পেইসলির ডাচেসের (Duchess of Paisley) সঙ্গে। হাতির দাঁতের মত শাদা, লেডি উইণ্ডারমিয়ারের কণ্ঠদেশ, বড় বড় নীল চোখে (forget-me-not eyes) সুগভীর আহবান, সোনার মত চুল- নেমে এসেছে কাধের নিচে। ইতিমধ্যে বিয়ে হয়েছে তাঁর তিন বার, কিন্তু স্বামীবদল করলেও তিনি প্রেমিক বদল করেননি, তাই তাঁর সম্বন্ধে গুজব রটানো লোকজন অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছে। নিঃসন্তান লেডি উইণ্ডারমিয়ারের বয়স এখন চল্লিশ, কিন্তু চেহারা প্রায় যুবতীর মত। কেউ জানে না, এই বয়সেও তিনি এমন আছেন কিভাবে। তবে মহিলা জানেন, আমোদপ্রীতিই হলো তার বয়স ধরে রাখার রহস্য। গ্যালারির চারপাশে নজর বুলিয়ে পরিষ্কার কণ্ঠে তিনি বলে উঠলেন, ‘আমার কিরোম্যান্টিস্ট কোথায় গেলেন?...
আপনার কী.....বললেন?জানতে চাইলেন ডাচেস।
কিরোম্যান্টিস্ট (cheiromantist - হস্তরেখাবিদ) বর্তমানে তাকে ছাড়া আমার সময়ই কাটতে চায় না
কিরোম্যান্টিস্ট! সত্যি আপনার শব্দচয়নের কোন তুলনা নেই!’ বললেন ডাচেস, যদিও ঠিক বুঝতে পারলেন না, শব্দটার অর্থ কি। তবে তাঁর মনে হলো, কিরোম্যান্টিস্ট আর কিরোপোডিস্ট (cheiropodistআচিল বা কড়ার চিকিৎসক) এক জিনিস নয়।
প্রতি হপ্তায় তিনি আমার হাত দেখেন দুবার,’ বললেনলেডি উইণ্ডারমিয়ার।আর প্রতিবারই বলেন মজার মজার সব কথা।
হুঁ,বললেন ডাচেস আপন মনে, ‘হাত দেখেন-ইনিও তাহলে এক ধরনের চিকিৎসক।
তার সঙ্গে আপনার পরিচয় করিয়ে দেব।
পরিচয়বললেন ডাচেস।তার মানে তিনি কি এখানেই আছেন?-
নিশ্চয়। তাঁকে ছাড়া কোন পার্টি দেয়ার কথা আমি ভাবতেও পারি না। তিনি বলেছেন, আমার হাত পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিক (psychic), তবে বুড়ো আঙুলটা আর সামান্য খাটো হলে আমি হতাম পুরোপুরি হতাশাবাদী (pessimist), কোন মঠেই হয়তো কেটে যেত জীবনটা।
এতক্ষণে বুঝলাম?ডাচেসের বুকের ওপর থেকে যেন একটা ভার নেমে গেল।তিনি তাহলে একজন জ্যোতিষী। সৌভাগ্যের কথা বলেন, তাই না?
দুর্ভাগ্যের কথাও,জবাব দিলেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার। এই তো গত বছরই তিনি বললেন, স্থল এবং জল দুজায়গা থেকেই প্রাণহানির আশঙ্কা আছে আমার। কি আর করি, পুরো বছরটাই প্রায় কাটিয়ে দিলাম একটা বেলুনে, প্রতি সন্ধ্যায় খাবার টেনে তুলতাম। দুর্ভাগ্যের কথাটা লেখা ছিল আমার কড়ে আঙুলে কিংবা হাতের
তালুতে, এই মুহূর্তে ঠিক মনে পড়ছে না। মাই ডিয়ার ডাচেস, প্রত্যেক মানুষের মাসে অন্তত একবার হাত দেখানো উচিত। তাহলেই তিনি বুঝতে পারবেন, কোনটা করা উচিত আর কোনটা অনুচিত। অবশ্য অশুভ ব্যাপারগুলো মানুষ টের পায়, তবু অনেক আগেই কেউ সাবধান করে দিলে কী যে শান্তি! যাই হোক, মি. পজার্সকে (Mr. Podgers) কেউ ডাকতে না গেলে আমার নিজেকেই যেতে হবে।
আমি যাচ্ছি, লেডি উইণ্ডারমিয়ার, পাশ থেকে বলে উঠলেন লম্বা, সুদর্শন এক পুরুষ। এতক্ষণ তিনি হাসিমুখে মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন দুই মহিলার কথোপকথন।
ধন্যবাদ, লর্ড আর্থার; কিন্তু তাঁকে সম্ভবত আপনি চিনতে পারবেন না।
নিশ্চয় পারব। তাঁর চমৎকারিত্বের যে-বর্ণনা আপনি দিলেন, তাতে চিনতে, ভুল হবার নয়। শুধু বলুন চেহারাটা কেমন, এখনই তাঁকে এনে হাজির করছি আপনার সামনে।
বেশ। তাঁর চেহারা কিন্তু মোটেই কিরোম্যান্টিস্টদের মত নয়। মানে, গোপনীয়তা বা রহস্যময়তার লেশমাত্রও নেই তার চেহারায়। কিন্তু -ব্যাপারে আমার কী করার আছে বলুন? মানুষের চেহারা জিনিসটাই এমন জটিল! আমার সমস্ত পিয়ানোবাদক গুলোর চেহারা কবিদের মত আর কবিগুলোর চেহারা অবিকল পিয়ানোবাদকদের মত। শুধু কি তাই, গত বছর ডিনারে ডেকেছিলাম ভয়ঙ্কর এক বোমাবাজকে, অথচ সে হুবহু পাদরীদের মত দেখতে। যাই হোক, আমার কিরোম্যান্টিস্ট একজন গাট্টাগোট্টা, মানুষ, মাথাজোড়া টাক, চোখে সোনার ফ্রেমের চশমা। অর্থাৎ, পারিবারিক চিকিৎসক আর গ্রাম্য অ্যাটর্নির মাঝামাঝি একটা চেহারা আর কি। ওই যা, কথা বলতে বলতে মি. পজার্সই এসে পড়েছেন। মি. পজার্স, আপনি পেইসলির ডাচেসের হাতটা একবার দেখুন। ডাচেস, গ্লাভস খুলতে হবে আপনার। না, না, বাম হাতেরটা নয়,
অন্যটা।
এখনই হাত দেখানোটা কি ঠিক হবে?’ গ্লাভস খুলতে লাগলেন ডাচেস।
খুব হবে। দেখবেন, এত মজার জিনিস আর পৃথিবীতে নেই (Nothing interesting ever is - on a fait le monde ainsi.) কিন্তু তার আগে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই। ডাচেস, ইনি হলেন মি. পজার্স, আমার একান্ত কিরোম্যান্টিস্ট। আর মি. পজার্স, ইনি হলেন পেইসলির ডাচেস। হাত দেখে যদি বলেন, ডাচেসের মাউন্টেন অভ মুন আমার চেয়ে বড়, তাহলে কিন্তু আপনাকে। আমি আর বিশ্বাস করব না।
নিশ্চিত থাকতে পারেন, অমন কোন জিনিস আমার হাতে নেইভার হয়ে গেল ডাচেসের মুখ।
ডাচেস ঠিকই বলেছেন,ছোট্ট হাতটার দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাকালেন মি. পজার্স।মাউন্টেন অভ মুন পরিণতই হয়নি। তবে লাইন অভ লাইফ চমৎকার। দয়া করে কবজিটা একটু বাঁকান। ধন্যবাদ। অন্য লাইনগুলোও স্পষ্ট। অনেক দিন বাঁচবেন আপনি, ডাচেস, সুখে কখনও কমতি পড়বে না। উচ্চাশাতেমন নেই, লাইন অভ ইনটেলেকট (intellect) খুব বড় নয়, লাইন অভ হার্ট_____’
এবার বিশেষ কিছু বলুন, মি. পজার্স,’বললেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার।
জী,মাথা নোয়ালেন মি. পজার্স।ডাচেসের রয়েছে একই জিনিসে গভীর টান আর প্রখর কর্তব্যবোধ
প্লীজ, বলে যান,সুখের একটা ছায়া ছড়িয়ে পড়ল ডাচেসের মুখে।
মিতব্যয়িতা ছাড়াও আরও অনেক গুণ আছে সম্মানিত ডিউকেরবললেন মি.পজার্স, আর তাই শুনে হাসিতে ফেটে পড়লেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার।
মিতব্যয়িতা খুব ভাল জিনিস,ডাচেসের সুরে ঝরে পড়ল গভীর পরিতৃপ্তি। পেইসলির সঙ্গে যখন আমার বিয়ে হয়, তখন ওর এগারোটা দূর্গ থাকলেও বসবাসযোগ্য একটা বাড়িও ছিল না
কিন্তু এখন তাঁর রয়েছে বারোটা বাড়ি অথচ একটা দূর্গও নেই,বললেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার।
. ‘মাই ডিয়ার, বললেন ডাচেস,আমি চাই---’
শান্তি,বললেন মি. পজার্স, আর অত্যাধুনিক জিনিসের স্বাদ, প্রত্যেক বেডরুমে হট ওয়াটার। আপনার ডিউক ভুল করেননি। বর্তমান সভ্যতা আমাদের শুধু শান্তিই দিতে পারে
ডাচেসের হাত দেখা চমৎকার হয়েছে, মি. পজার্স। এবার দেখুন লেডি ফ্লোরার হাতটা, হাসিমুখে ইশারা করতেই অতিথিদের মাঝখান থেকে এগিয়ে এলেন লম্বা এক মহিলা। বালু-রঙা চুল, কাঁধ উচু, পাতলা হাতে চ্যাপটা আঙুল
পিয়ানোবাদিকার হাত,’ বললেন মি.পজার্স, অসামান্যা পিয়ানোবাদিকা, কিন্তু সুরকার হিসেবে দক্ষ বলা যাবে না। দারুণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, অত্যন্ত সৎ, জীবজন্তুর প্রতি অফুরন্ত ভালবাসা
ঠিক,বললেন ডাচেস লেডি উইণ্ডারমিয়ারের দিকে তাকিয়ে, একদম ঠিক। মোকলস্কিতে (Macloskie) ফ্লোরার দুডজন লোমশ কুকুর (collie dogs) আছে
জীবজন্তু আমিও পুষি,হাসলেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার, তবে লোমশ কুকুর নয়, আমার পছন্দ সিংহ
কুকুরের বদলে সিংহ পালা আপনার একটা ভুল। মাথা ঝাকালেন করলেন মি. পজার্স।
মেয়ে হয়ে ভুল না করলে তাঁর - নারীজন্মই বৃথা, জবাব দিলেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার। যাই হোক, আর কয়েকটা হাত আপনার দেখতেই হবে। স্যার টমাস, এদিকে আসুন, আপনার হাতটা দেখান মি.পজার্সকে
এবার এগিয়ে এলেন ধবধবে শাদা ওয়েস্টকোট পরা অমায়িক চেহারার এক ভদ্রলোক। হাত তার খসখসে,
অনামিকাটা দারুণ লম্বা।
অভিযান প্রিয় চরিত্র; অতীতে লম্বা সমুদ্রযাত্রায় অংশ নিয়েছেন তিন বার, আগামীতে রয়েছে আরেকটা যাত্রা।
জাহাজডুবি হয়েছে তিন বার। না, না, দুবার, আরেক বার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী অভিযানে। অত্যন্ত সময়ানুবর্তী, অদ্ভুত জিনিস সংগ্রহের বাতিক আছে। মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন একবার ষোলো থেকে আঠারো বছরের মাঝামঝি। তিরিশ বছরের দিকে বিরাট সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। বিড়াল আর অতি উৎসাহীদের একেবারেই সহ্য করতে পারেন না
অসাধারণ!বললেন স্যার টমাস। আমার স্ত্রীর হাতটা আপনাকে দেখতেই হবে
আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীর,শান্তভাবে জবাব দিলেন মি, পজার্স, নিশ্চয় দেখবকিন্তু লেডি মারভেল, বাদামী চুলের বিষণ্ণ এক মহিলা, কিছুতেই হাত দেখাতে রাজি হলেন না। তিনি চান না, তাঁর অতীত বা ভবিষ্যৎ সর্বসমক্ষে প্রকাশিত হোক। এরপর লেডি : উইণ্ডারমিয়ার অনুরোধ করলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত মসিয়ে দ্য কোলফকে (Monsieur de Koloff) কিন্তু হাত দেখানো তো দূরের কথা, তিনি গ্লাভস পর্যন্ত খুললেন না।
হাবভাব দেখে মনে হলো, অনেকের কাছেই সোনার ফ্রেমের চশমা পরা লোকটা এখন ভীতির কারণ। একটু পর সবার সামনেই (tête-à-tête) তিনি যখন বললেন, লেডি ফারমর (Fermor) সঙ্গীতজ্ঞদের ভালবাসলেও সঙ্গীতকে তোয়াক্কা করেন না, বুঝতে কারও বাকি রইল না যে কিরোম্যানসি (cheiromancy) একটা ভয়াবহ বিজ্ঞান।
মি. পজার্সের কার্যকলাপ দেখতে দেখতে তাঁকে হাত দেখানোর জন্যে অস্থির হয়ে উঠলেন লর্ড আর্থার সেভিল। যেচে বলতে একটু লজ্জা লজ্জা লাগল তাঁর তবু শেষমেষ কাছে গিয়ে বললেন, মি. পজার্স যদি কিছু মনে না করেন তাহলে হাতটা তিনি একবার তাঁকে দেখাতে চান। মনে করার প্রশ্নই ওঠে না, বললেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার, এখানে উনি হাত দেখতেই এসেছেন। তবে আপনাকে আগেই সাবধান করে দিচ্ছি, হাত দেখে উনি যা- বলবেন, সিবিলকে (Sybil) আমি সব বলে দেব। আগামীকাল আমার সঙ্গে ওর লাঞ্চ করার কথা। মি. পজার্স যদি বলেন আপনি বদমেজাজী, বা আপনার বাত (gout) আছে, কিংবা আপনার একটা স্ত্রী আছে
বেইজওয়াটারে (Bayswater) সবই আমি জানিয়ে দেব সিবিলকে
লর্ড আর্থার হাসলেন।দেবেন, আমি ভয় পাই না। আমি যেমন সিবিলকে জানি, তেমনি সিবিলও আমাকে জানে
শুনে সামান্য দুঃখ পেলাম পারস্পরিক সমঝোতার অভাবই হলো বিয়ের মূল ভিত্তি। ভাববেন না যে আমি
সবকিছুর দোষ ধরে বেড়াই, কথাটা বললাম অভিজ্ঞতা থেকে। যাক গে। মি. পজার্স, হাত দেখানোর জন্যে লর্ড আর্থার সেভিল, অস্থির হয়ে উঠেছেন। সাবধান, হাত দেখে যেন আবার বলবেন না যে- লণ্ডনের সেরা সুন্দরীদের একজনের সঙ্গে তার এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। কারণ, এক মাস আগেই সে-সংবাদ বেরিয়ে গেছে মর্নিং পোস্টে
ডিয়ার লেডি উইণ্ডারমিয়ার,বললেন জেডবার্গের মার্শিওনেস (Marchioness of Jedburgh), ‘মি. পজার্সকে আরও কিছুক্ষণ এখানে থাকতে বলুন। এইমাত্র উনি আমাকে বলেছেন, রঙ্গমঞ্চে আমারও যোগদান করা উচিত। যোগদানের ব্যাপারে আমি সত্যিই আগ্রহী
উনি যদি বলে থাকেন, মার্শিওনেস, তাহলে তো কথাই নেই। মি: পজার্স, লর্ড আর্থারের হাত দেয়া শুরু করুন
বেশ,’সোফা থেকে উঠে পড়লেন লেডি জেডবার্গ আপাতত রঙ্গমঞ্চে যোগদান করা যখন যাচ্ছেই না, দর্শকদের কাতারে অন্তত যোগ দেই
নিশ্চয়, আমরা সবাই যোগ দেব দর্শকদের সঙ্গে বললেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার।মি. পজার্স এবার হাত
দেখে ভাল কিছু বলুন আমাদের। লর্ড আর্থার আমার সবচেয়ে পছন্দের মানুষদের একজন
কিন্তু লর্ড আর্থারের হাত দেখে মুখ শুকিয়ে গেল মি. পজার্সের। কেঁপে উঠল তার সারা শরীর, ঘন ভ্রু লাফাল বেশ কয়েকবার, কপাল জুড়ে দেখা দিল বিন্দু বিন্দু ঘাম। সবই লক্ষ করলেন লর্ড আর্থার এবং জীবনে এই প্রথম আতঙ্ক অনুভব করলেন। একবার মনে হলো ছুটে চলে যাবেন ঘর থেকে, অনেক কষ্টে সামলালেন নিজেকে। অনিশ্চয়তার মাঝে দোলার চেয়ে সবচেয়ে বিশ্রী জিনিসও জানা ভাল।
মি. পজার্স, আই অ্যাম ওয়েটিং,বললেন তিনি।
অপেক্ষা করছি আমরা সবাইঅধৈর্য প্রকাশ পেল লেডি উইণ্ডারমিয়ারের সুরে তবু তাঁর কিরোম্যান্টিস্ট কোন জবাব দিলেন না। হঠাৎ লর্ড আর্থারের ডান হাতটা ছেড়ে দিয়ে বাম হাতটা তুলে নিলেন মি. পজার্স। এমনভাবে ঝুঁকে পড়লেন যে তাঁর সোনালী ফ্রেম প্রায় তালু ছোয় ছোয়। মুখ একদম রক্তশূন্য হয়ে গেল তাঁর, তবে নিজেকে সামলে তাকালেন তিনি লেডি উইণ্ডারমিয়ারের দিকে। মুখে কোনরকমে হাসি টেনে বললেন,একজন আকর্ষণীয় যুবকের হাত
তাতে কোন সন্দেহ নেই, জবাব দিলেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার, ‘কিন্তু স্বামী হিসেবেও কি উনি আকর্ষণীয় হবেন? আমি শুধু সেটাই জানতে চাই
আকর্ষণীয় মানুষেরা আকর্ষণীয় স্বামীই হয়,বললেন মি.পজার্স।
স্বামীদের আকর্ষণীয় না হওয়াই ভাল, চিন্তামগ্ন ভঙ্গিতে বললেন লেডি জেডবার্জ সেটা অত্যন্ত বিপজ্জনক
স্বামীরা কখনোই আকর্ষণীয় হয় না,বললেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার।সেজন্যেই তো জানতে চাইছি। আমার আবার খুঁটিনাটি না শুনলে ভাল লাগে না। মি. পজার্স, লর্ড আর্থারের কথা বলুন
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে লর্ড আর্থার একটা অভিযানে যাবেন-’
হ্যা, হানিমুনে যাবেন তিনি
একজন আত্মীয়কে হারাবেন
নিশ্চয় তার বোনকে (লেডি উইন্ডারমিয়ার) নয়?সহানুভূতির স্বরে বললেন লেডি জেডবার্গ
না,হাত দোলালেন মি.পজার্স, দূরসম্পর্কের আত্মীয়।
- ‘একেবারে হতাশ হলাম,বললেন লেডি উইণ্ডারমিয়ার।আগামীকাল সিবিলকে কিছুই জানাতে পারব না। আধুনিক মানুষ দূর সম্পর্কীয় আত্মীয়ের কথা ভাবে না, ওরা এখন আউট অভ ফ্যাশন। চলুন, এবার ভোজটা সেরে নেয়া যাক। খাদ্যদ্রব্য হয়তো এতক্ষণে শেষ করে ফেলেছেন অতিথিরা তবে গরম সুপ নিশ্চয় পাওয়া যাবে। অতি সুস্বাদু সুপ তৈরি করত ফ্রাঁসোয়া (François), কিন্তু, এই মুহুর্তে সে রাজনীতি নিয়ে উত্তেজিত অবস্থায় আছে। তাই ওর ওপর আর তেমন ভরসা করতে পারছি না। জেনারেল বুল্যাঞ্জার (Boulanger ) আশা করি মুখটা কিছুক্ষণ বন্ধ রাখবেন। ডাচেস, ক্লান্তি লাগছে না?
মোটেই না, মাই ডিয়ার,জবাব দিলেন ডাচেস।আপনার কিরোপোডিস্ট, সরি, কিরোম্যান্টিস্টের কার্যকলাপ দেখে খুব মজা পেয়েছি। ফ্লোরা, আমার পাখাটা কোথায়, আর শাল?’ পা বাড়ালেন তিনি নিচতলার উদ্দেশে।
লর্ড আর্থার সেভিল চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন ফায়ারপ্লেসের কাছে। লর্ড প্লিমডেলের (Lord Plymdale) সঙ্গে যখন চলে গেলেন তার বোন, হাসার একটা চেষ্টা কবুলেন তিনি, লেডি উইণ্ডারমিয়ারের ডাকশুনতেই পেলেন না। এখন মাথা দখল করে আছে তার সিবিল মার্টন (Sybil Merton) তাঁদের দুজনের মাঝে অন্যকিছু এসে হানা দেবে, -কথা ভাবাও বড় কষ্টকর। এখন নতুন কেউ এই ঘরে ঢুকলে তাকে দেখে ভাবতে পারে যে, তিনি পাথর হয়ে গেছেন। কিন্তু পাথর তিনি হননি, জীবনে প্রথমবারের মত হয়েছেন যেন রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি। পুরো ব্যাপারটাই কী বিশ্রী আর ভয়ঙ্কর! এটা কি কখনও হতে পারে যে তাঁর হাতে লেখা রয়েছে মারাত্মক কোন অপরাধের কথা, যা তিনি নিজে বুঝতে পারবেন না, অথচ অন্যে সহজেই বুঝবে? সে-অপরাধের হাত থেকে কি রেহাই পাবার কোন উপায় নেই? তার মনে হলো, মাথার ওপরে ঝুলছে দুর্ভাগ্যের খড়গ, যে-কোন সময় সেটা নেমে আসবে নিচে অভিনেতারা সত্যিই সৌভাগ্যবান। মিলনান্ত অভিনয় করবে নাকি বিয়োগান্ত, সুখে হাসবে নাকি শোকে কাঁদবেএসব তারা বেছে নিতে পারে। কিন্তু বাস্তব জীবন সম্পূর্ণ অন্য জিনিস। বেশিরভাগ পুরুষ আর নারীকেই এমন ভুমিকা পালন করতে হয়, যাতে সে একেবারেই অযোগ্য এখানে ভৃত্যকে দেখা যায় যুবরাজের ভূমিকায়, যুবরাজ বাধ্য হয় ভাড় সাজতে। পৃথিবী একটা রঙ্গমঞ্চ ঠিকই, তবে নাটকগুলো খুব খারাপ।
হঠাৎ ঘরে এসে ঢুকলেন মি. পজার্স। লর্ড আর্থারকে দেখে চমকে উঠলেন তিনি। চোখে চোখে চেয়ে রইলেন দুজনে, মুখে কোন কথা নেই শেষমেষ মি.পজার্সই নীরবতা ভঙ্গ করলেন। ডাচেস তার একটা গ্লাভস ফেলে
গেছেন, লর্ড আর্থার, সেটাই নিতে পাঠিয়েছেন আমাকে। আরে, ওই-তো সোফার ওপরে! শুভরাত্রি।
মি.পজার্স, এখন আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করব, কোন ভণিতা না করে সাফ জবাব দেবেন
অন্য এক সময়, লর্ড আর্থার, দেরি দেখলে ডাচেস খুব চিন্তা করবেন
আপনি যাবেন না। ডাচেসের কোন তাড়া নেই
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -
সতর্কীকরণঃ রাসুল (সাঃ) বলেনঃ যে লোক আররাফ এর (গণকের) নিকট গেল বা তাকে কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করল, চল্লিশ রাত্রি তার কোন নামাজ (সালাত/নামাজ/নামায) গ্রহণযোগ্য হবে না (সহীহ মুসলিম)

No comments:

Post a Comment

Popular Posts