Sunday, January 19, 2020

ছোট গল্প - স্ত্রী চরিত্র - মাইকেল গিলবার্ট - Stree Choritro - Michael Gilbert - Inspector Petrella Series

Stree Choritro - Michael Gilbert - Inspector Petrella Series
ছোট গল্প - স্ত্রী  চরিত্র  - মাইকেল গিলবার্ট -  Stree Choritro - Michael Gilbert - Inspector Petrella Series

ধূসর চুলো মহিলাটি দোকানে ঢোকার পর থেকেই তার ওপর চোখ আটকে গেছে মিসেস প্রায়রের। দেখলেই সন্দেহ হয়, মহিলার চেহারায় সে রকম কিছু নেই। বয়স পঞ্চাশের মত, ভাবল মিসেস প্রায়র। পরনে দামী পোশাক, হাতে বেঢপ বড় এক শপিং ব্যাগ। সন্দেহ এসেছে মহিলার আচরণে। কেমন যেন পায়ে পায়ে দোকানে ঢুকলেন; চকিত দৃষ্টি বোলালেন চারপাশে, কিন্তু সে-দৃষ্টি দোকানের জিনিসপত্রের ওপরে না পড়ে ঘুরে এল মানুষজনের ওপর দিয়ে। যে-তিনটি দোকানের ওপর মিসেস প্রায়রকে নজর রাখতে হয়, সেগুলোর মধ্যে মেলুইস আ্যান্ড সন্সই সবচেয়ে দামী। তাছাড়া মহিলাদের ছোট ছোট বিলাসদ্রব্য থাকায় এখানে নজর রাখাও সবচেয়ে কঠিন। গত এক বছরে অনেক জিনিস হারিয়ে গেছে এখান থেকে। তাই মালিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসাবার ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তা করছেন।
মহিলা কি হ্যান্ডব্যাগ কাউন্টারের কাছে অযথা দাড়িয়ে আছেন? সেলসের মেয়েটি তার দিকে পেছন ফিরে কথা বলছে আরেকজন ক্রেতার সঙ্গে। গ্লাভস পরা একটা হাত বেরিয়ে এল। কী ঘটল তা অত দূর থেকে মিসেস প্রায়র স্পষ্ট দেখতে পেল না, কিন্তু, ধূসর-চুলো মহিলাটি ইতিমধ্যেই দরজার দিকে এগোতে শুরু করেছেন। এখন যা করার করতে হবে খুব তাড়াতাড়ি।
পেভমেন্টে পা রাখার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে মহিলার সামনে গিয়ে দাড়াল মিসেস প্রায়র।
ম্যাডাম, কিছু মনে করবেন না, আপনার ব্যাগটা দয়া করে একটু দেখাবেন?
এসব ক্ষেত্রে সাধারণত যা হয় সেরকম প্রতিক্রিয়াই হলো। প্রথমে সারা মুখে ফুটে উঠল বিস্ময়, তারপর বিরক্তি, সবশেষে রাগ।
আপনি কে? আর ব্যাগই বা আপনাকে দেখাবো কেনো?
আমি দোকানের সিকিউরিটি স্টাফের একজন, বলল মিসেস প্রায়র, যদি আমার কোন ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আমি ক্ষমা চাইতে রাজি আছি।
মিসেস প্রায়র খুব ভাল-করেই জানে, ক্ষমা চাইবার কোন প্রয়োজন হবে না। ঘটনাচক্রে এবার এসে. পড়লেন
ডিটেকটিভ চীফ ইন্সপেক্টর পেটরেলা। কথা বললেন তিনি মিসেস প্রায়র আর মেলুইসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মি. জ্যাকলিনের সঙ্গে, অপ্রাসঙ্গিক দুচারটে মন্তব্য শুনলেন ধূসর-চুলো মহিলার।
পরিচয় না দিলে আমরা আপনার ওপর জোর খাটাতে পারি না, বললেন পেটরেলা। কিন্তু বুঝতেই পারছেন, নাম ঠিকানা যদি না জানান, তবে কেউ এসে আইডেন্টিফাই না করা পর্যন্ত আপনাকে আমাদের আটকে রাখতে হবে।
আটকে রাখবেন আমাকে? জেলখানায়?
আপনার দেখাশোনা করবেন একজন মহিলা পুলিশ অফিসার
কি,বলে!
খুব নরম স্বরে পেটরেলা বললেন, পরিচয় লুকিয়ে আপনার কিন্তু লাভও হবে না, ম্যাডাম। আগে হোক পরে হোক জানতে আমরা পারবই। কেউ হয়তো আপনার খোজ নিতে আসবেন, আন্দাজে একটা টিল ছুঁড়লেন .ইন্স্পেক্টর, কাজ সেরে বাড়ি ফিরে আপনার স্বামী দেখবেন---'
সম্ভবত স্বামীর উল্লেখেই জাদুমন্ত্রের মত কাজ হলো। ভেঙে পড়ে ফুঁপিয়ে উঠলেন মহিলা। কথা বলার মত অবস্থা ফিরে আসতে বললেন, আমি মিসেস কেন্ট-স্মিথ। মেপলডারহ্যাম ম্যানসনসে থাকি।
অ্যা মিসেস কেন্ট-স্মিথ! চার্জশিট দেয়ার পর বললেন সার্জেন্ট ব্লেনকো। তারপর মহিলাকে পুলিশ কারে তুলে দিয়ে ড্রাইভারকে নির্দেশ দিলেন সোজা বাড়ি পৌছে দেবে। যদি নাম ঠিকানার ব্যাপারে কোনওরকম সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে সোজা ফিরিয়ে আনবে এখানে। ভদ্রলোক এসব উল্টোপাল্টা একদম পছন্দ করবেন না। তিনি ব্যবসা করেন। দোকান, হাউজিং প্রপার্টি, আরও কি কি সব ব্যবসা আছে।
লাঞ্চের জন্যে যখন বের হবেন বলে ভাবছেন পেটরেলা; ঠিক সেই সময় এসে উপস্থিত হলেন মি. কেন্ট-স্মিথ। পঞ্চান্ন বছর মত বয়েস, পেটটা সামান্য মোটা, কিন্তু - কাধজোড়া এখনও শক্তসমর্থ। পেটরেলা খোজ নিয়ে দেখেছেন, শক্ত এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে হবে তাকে। ভদ্রলোক RASC এর সার্জেন্ট-মেজর ছিলেন বলেও একটা গুজব চালু আছে। যুদ্ধের পরেই তার অবস্থা ফিরে যায়। এখন অনেকগুলোক দোকান, অফিস, ফ্ল্যাট ছাড়াও তার অধীনে রয়েছে বেশ কয়েকটা কোম্পানি। .
পুরো ব্যাপারটা আমি জানতে চাই, বললেন তিনি। আমার স্ত্রীর কাছ থেকে খুব একটা কিছু জানতে পারিনি। গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন ধনকুবের ভদ্রলোক।
খুব সাবধানে কথা শুরু করলেন পেটরেলা, একজন মহিলা, যিনি পরিচয় দিয়েছেন আপনার স্ত্রী বলে, আজ সকালে মেলুইস অ্যান্ড সন্স থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলে কুমিরের চামড়ার একটা হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে, ড্রয়ার খুলে ব্যাগটা বের করলেন পেটরেলা-কিন্তু সেটার দাম তিনি দেননি। আমাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন যে হ্যান্ডব্যাগটা তিনি ঢুকিয়ে নিয়েছেন তার শপিং ব্যাগের ভেতরে, দামও দিতে চেয়েছেন, কিন্তু পরে কিভাবে যেন ভুলে গেছেন কথাটা
হ্যান্ডব্যাগটা তুলে নিলেন মি. কেন্ট স্মিথ। এর কোন মানে হয়! ব্যাগটা কেনা ওর জন্যে মোটেই কঠিন ব্যাপার ছিল না। প্রাইস ট্যাগটা এখনও লাগানো রয়েছে ওটার গায়ে। মাত্র আঠারো পাউন্ড। যাকগে, জ্যাকলিনের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, দামটা মিটিয়ে দিলে সে আর এ-বিষয়ে মাথা ঘামাবে না।
চার্জশীট দেয়ার আগে তিনি এ-কথা বললে আমরা ঝামেলা থেকে রেহাই পেতাম।
চার্জ উঠিয়ে নিতে পারেন না?
আমরা এটা নিয়ে আর না এগোবার সিদ্ধান্ত শুধু আমরা নিই যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে। এই কেসটা মোটেই সেরকম নয়।
সিদ্ধান্তটা কে নেবেন?
এই কেসে, আমি।
হু।
মুষ্টিযোদ্ধার মত ঠাণ্ডা চোখে প্রতিপক্ষকে কিছুক্ষণ মাপার পর মি. কেন্ট-স্মিথ বললেন, আমি বরং ব্যাখ্যা করে বলি, বিষয়টা কেন আমার জন্যে এতটা গুরুতুপূর্ণ। এমনিতে আমি এটা নিয়ে মাথাই ঘামাতাম না। ভালই হত আমার স্ত্রী, একটা শিক্ষা পেলে। কিন্তু এখন আমি তা হতে দিতে পারি না। ফিনানশিয়াল পেজটা কি আপনি পরেন ইনস্পেকটর?
পেপারের অত কিছু পড়ার সময় আমার হয় না।
এই প্রথম আমি আমার কোম্পানির শেয়ার সম্বন্ধে খোলাখুলি ঘোষণা দিতে যাচ্ছি। আগামী সপ্তাহের পেপারে আপনি এই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন।
আপনি বলতে চাইছেন, আপনার স্ত্রীর কাণ্ডটা এই ব্যাপারে অসুবিধে সৃষ্টি করবে?
শুধু অসুবিধে নয়, ব্যাপারটাকে একেবারে শেষ করে দেবে। শেয়ারের পুরো সাফল্য নির্ভর করছে আমার সুনামের ওপর। এখন আমার স্ত্রী চুরির দায়ে ফাঁসলে শেয়ার ব্যবসার চিন্তা বাদ দিতে হবে।
পেটরেলা কিছু বলতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিলেন কেন্ট-স্মিথ। আমাকে শেষ করতে দিন। বর্তমানে আমার হোল্ডিং কোম্পানির প্রতি শেয়ারের দাম এক পাউন্ড। প্রায় সব শেয়ারই রেখেছি আমি আর আমার এক বন্ধু। যখনই আমরা কোটেশন পাব, শেয়ারের দাম বেড়ে দাড়াবে তিন পাউন্ডে। আমি আপনাকে দশ হাজার শেয়ার দিতে রাজি আছি। এতে বেআইনি কিছু নেই।
------------------------------------------------
এর আগেও অনেকে আমাকে ঘুষ দিতে চেয়েছে, সন্ধেয় পেটরেলা বললেন তার স্ত্রীকে, তবে এত বেশি কখনোই নয়।
তুমি কি বললে?
আমি না বলে দিয়েছি।
ঠিক করেছ, দৃঢ় স্বর বললেন তার স্ত্রী।
আমারও তা-ই মনে হয়। আসলে ভদ্রলোকের চেয়ে তার স্ত্রীর জন্যেই আমার বেশি খারাপ লাগছে। এই ঘটনার ফলে শেয়ার ব্যবসা একেবারে মার খেয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না, বড়জোর ছয় মাস বন্ধ থাকতে পারে। আমার ধারণা, উনি চেয়েছিলেন স্ত্রীর সুনাম বাঁচাতে। তবে মহিলা সত্যিই অদ্ভুত। আজ থানা থেকে বেরিয়ে আসার আগে আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। কেন জানো?
চার্জ উঠিয়ে নেয়ার জন্যে অনুরোধ করতে।
ঠিক তার উল্টো! উসি এসেছিলেন ক্ষমা চাইতে।
ক্ষমা চাইতে? কেন?
আমাদের সবাইকে এত ঝামেলায় ফেলে দেয়ার জন্যে। তিনি বলছিলেন যে, জানেন, পুলিশকে খুব খাটতে হয়।
মোটেই না, তার জানায় ভুল আছে।
এরপর আজকের ঘটনা আর তার স্বামীকে নিয়ে অনেক আলাপ করলাম আমরা। ভদ্রলোক ব্যবসা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে রাত দশটার আগে বাড়ি ফিরতে পারেন না। সকালেই বেরিয়ে যান আবার, ফলে স্বামীর সঙ্গে মহিলার ভাল করে দেখা হয় না বললেই চলে।
তুমিও আজই প্রথম, সন্ধে লাগতেই বাড়ি ফিরলে, তীক্ষ্ণ স্বরে বললেন ইন্সপেক্টরের স্ত্রী।
আর স্বামী যেন ক্রমেই তার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
এতে তোমার ভূমিকা কি? তুমি পুলিশ অফিসার, সাইকিয়াট্রিস্ট নও।
তার সবচেয়ে বড়, দুঃখ তিনি নিঃসন্তান। সেজন্যে অবশ্য নিজেকেই দায়ী মনে করেন।
স্ত্রী আর কোন কথা বললেন না। ওপরতলার দোলনায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন শিশুটির কথা তার মনে পড়েছে। স্পন্দিত ঐ ছোট মাংসপিণ্ডটাই তাদের দুজনের অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু।
পরদিন:সকালে খুব দুঃশ্চিন্তাযুক্ত মুখ নিয়ে মি. জ্যাকলিন এসে উপস্থিত হলেন প্যাটন স্ট্রীটের থানায়। সঙ্গে একজন লোক নিয়ে এসেছেন মেলুইস অ্যান্ড সন্সের ম্যানেজিং ডিরেকটর। তিনি বললেন, গত রাতে ভাবলাম, আমাদের হ্যান্ডব্যাগের স্টকটা একবার পরীক্ষা করা দরকার। আমার ভয় লাগছিল যে একাধিক ব্যাগ হারাতে পারে।
হারিয়েছে?
না। হারায়নি
তাহলে?
মানে আমি বলতে চাইছি, স্বর একদম নেমে গেল মি. জ্যাকলিনের, আমাদের একটা ব্যাগও হারায়নি।
অপলকে তার দিকে তাকিয়ে রইলেন পেটরেলা।
ক্রীত স্টক, বিক্রীত স্টক, অবশিষ্ট স্টক। প্রত্যেকটা হিসেব নিখুঁততাবে মিলে যেতে অবাক হলাম আমি। যদি কিছু মনে না করেন, আপনার কাছে রাখা হ্যান্ডব্যাগটা আরেক বার দেখতে পারি?
ড্রয়ার খুলে ব্যাগটা বের করলেন পেটরেলা। একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস বের করে, হ্যান্ডব্যাগটা খুলে, সিল্ক লাইনিং উল্টিয়ে, পরীক্ষা করতে লাগলেন মি. জ্যাকলিন। বললেন, যা ভেবেছি তা-ই। এটা আমাদের দোকানের নয়। প্রত্যেকটা জিনিসে আমরা চিহ্ন দিয়ে রাখি। সত্যি বলতে কি, পিনের কয়েকটা খোঁচাও, এবার সঙ্গের লোকটার দিকে ঘুরলেন তিনি, আমরা যা ভেবেছি, তা-ই ঘটেছে, স্যাম। এই ব্যাগটা তোমাদের দোকানের, তাই না?
ম্যাগনিফাইং গ্লাস নিয়ে ভাল করে পরীক্ষা সারল লোকটা। হ্যা, এটা আমাদের দোকানের চিহ্ন। কারসন এন্ড বেগ। মি. জ্যাকলিন ভেবেছিলেন, ব্যাগটা আমাদের হতে পারে।  এই শহরে আমরা দুটো দোকানই শুধু জিনিসে চিহ্ন দিয়ে রাখি!
আপনাদের কি কোন হান্ডব্যা হারিয়েছে?
হারালেও এখন পর্যন্ত আমি জানি না, কিন্তু এই ব্যাগটা কার তা আপনাকে বলতে পারি। তিন দিন আগে ব্যাগটা আমি নিজের হাতে বিক্রি করেছি মিসেস কেন্ট-স্মিথের কাছে। তিনি মাঝে সাঝেই আমাদের দোকান
থেকে জিনিস কেনেন।
ব্যাগটার দাম দিয়েছেন তিনি?
নিশ্চই।
তাহলে বোধহয় ব্যাগটা তাকে ফিরিয়ে দেয়াই ভাল, দুর্বল স্বরে বললেন পেটরেলা।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাখাও আর ঠিক নয়, বললেন মি. জ্যাকলিন। খুব ভাল হলো। বুঝতেই পারছেন, এই অঞ্চলে মি. কেন্ট-স্মিথ একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি।
পেটরেলা বললেন যে তিনি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন।
আপনাদের গুণের তুলনা নেই, বললেন মি. কেন্ট-স্মিথ, চমৎকার কেস সাজিয়েছেন আপনারা। এমন জিনিস চুরির অভিযোগ এনেছেন আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে, যা কিনা তার নিজের। তাকে থানায় টেনে নিয়ে গেছেন দাগী আসামীদের মত। বাড়ি পাঠিয়েছেন পুলিশ কারে, যেন প্রতিবেশীরা দেখে খুব মজা পেতে পারে।
নাম ঠিকানা, দিয়ে ব্যাগটার কথা খুলে বললে এসবের কোন প্রয়োজনই হত না, বললেন পেটরেলা।
কেন সে খুলে বলবে? সে কোণ অপরাধ করেনি।
যদি তা-ই হয়, তাহলে কেন তিনি বললেন যে হ্যান্ডব্যাগ ব্যাগে রাখার পর সে-কথা ভুলে গেছেন?
এতে রহস্যের কিছু নেই। এসব সে বলেছে ভয়ে। আর এখনও দোষারোপ করছেন তাকে? টেনে নিয়ে গেছেন থানায়, তর্জন-গর্জন করেছেন অসভ্যের মত, তাছাড়া কেস করার আগে এটাও তলিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেননি যে জিনিসটা সত্যিই চুরি গেছে কিনা। তো, চীফ ইন্সপেক্টর পেটরেলা, গল্পটা শুরু করেছেন ঠিকই, কিন্তু শেষটা আপনার জানা নেই। এবার শেষটা জেনে নিন। আমি এখান থেকেই সোজা যাচ্ছি আমার সলিসিটরের কাছে।
------------------------------------------
আবার পড়লাম আইনের মারপ্যাচে, বিষণ্ণ স্বরে বললেন পেটরেলা, গত মাসে মানহানির মামলায়, এবার পড়লাম মিথ্যে বন্দী করার অভিযোগে।
অত ভয় পেয়ো না তো, বললেন চীফ সুপারিনটেনডেন্ট ওয়াটারসন। জীবনে আমি যে কত মামলায় পড়েছি-অগ্নিসংযোগ, প্রতারণা, শপথভঙ্গ। তুমি বরং আমাদের আইনজীবীকে তৈরি থাকতে বলো!
মামলার সবচেয়ে বিশী ব্যাপার হলো স্যার, এগুলো চলতে থাকে মাসের পর মাস।
কিন্তু এই ক্ষেত্রে পেঁটরেলার আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হলো। পর দিন সকালে হাসি ঝলমলে মুখে তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন মিসেস কেন্ট-স্মিথ। বললেন, আপনার জন্যে সুখবর আছে, ইন্সপেক্টর। আমার স্বামী কেস তুলে নিচ্ছেন?
অবশ্যই সুখবর, বললেন পেটরেলা। কিন্তু আমি ভাবছি, তার মত পরিবর্তন করাল কে?
আমি।
পেটরেলা অনুভব করলেন যে আর প্রশ্ন করা উচিত নয়, কিন্তু প্রলোভন এড়াতে পারলেন না। ভাবছি, প্রশ্ন করলে কিছু মনে করবেন কিনা। আচ্ছা, তাকে রাজি করালেন কিভাবে?
ফিকফিক করে হাসলেন মিসেস কেন্ট-.স্মিথ। বললাম, যদি সে কেস তুলে না নেয়, তাহলে আরো তিনটে চুরির ঘটনা পুলিশের কাছে স্বীকার করব। চুরির বিশদ বর্ণনা দিলাম। তারপর জিনিসগুলো দেখালাম। সিম্পসন্স থেকে ছোট একটা রুমাল, গোলাপী আর সবুজ রঙের সুন্দর জিনিস। গ্রীনওয়েজ থেকে একটা পাউডার কমপ্যাক্ট। সস্তা, খুব রুচিসম্পন্নও নয়। আর রান্নাবান্নার একটা বই সাইমণ্ডস থেকে।
---------------------------------------------
সত্যিই কি তিনি জিনিসগুলো চুরি করেছিলেন? জানতে চাইলেন ইন্স্পেক্টরের স্ত্রী।
আর প্রশ্ন করার সাহস আমার হয়নি, জবাব দিলেন পেটরেলা। ভাগ্যক্রমে তিনি প্রসঙ্গ পরিবর্তন করলেন। সদ্য কেনা কয়েকটা পর্দার ব্যাপারে আমার পরামর্শ চাইলেন। রঙ সম্বন্ধে আমার তেমন ধারণা নেই। তাই বললাম, ওগুলোর রঙ একটু বেশি উজ্জ্বল মনে হচ্ছে। তিনি বললেন, তারও এরকমই মনে হয়েছে। পর্দা গুলো তিনি বদলে নেবে শিগগির।
হুঁ, বললেন তার স্ত্রী।
তোমার হাবভাব তো. আমি কিছু বুঝতে পারছি না, বললেন পেটরেলা। তুমি যদি এই ঘোড়ার ডিম ঘটনাটার কোন অর্থ খুঁজে পাও, তাহলে বুঝব তোমার বুদ্ধি আমার চেয়ে বেশি। কোন ঘোড়ার ডিমের কারণে মহিলা এক দোকানে হ্যান্ডব্যাগ কিনে আরেক দোকানে সেটা চুরির ভান করলেন।
কারণ খুব সোজা। তিনি স্বামীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন। কিছুক্ষণ ভেবে পেটরেলা বলেন, হতে পারে।
হতে পারে মানে! মেয়েদের তুমি কতটুকু বোঝো? সেই মেয়ের গল্প মনে নেই যে স্বামীর মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্যে নিজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল?
বেশ, বেশ, যদি তা-ই হয়, বললেন পেটরেলা, তিনি স্বামীকে আমার বিরুদ্ধে কেস চালাতে দিলেন না কেন?
এটা আরও সোজা, বললেন তার স্ত্রী। নিঃসম্তান মহিলাদের অনেক সময় কারও ওপর সম্ভানের মত মায়া জন্মে য়ায়। তার সেই মায়া জন্মেছে তোমার ওপর।
হায় আল্লাহ?, এর বেশি আর কিছু বলতে পারলেন না চীফ ইন্সপেক্টর পেটরেলা।

No comments:

Post a Comment

Popular Posts