Tuesday, August 6, 2019

তারিক বিন জিয়াদের স্পেন বিজয় - Tariq bin Ziyad Conquered Spain - Part 1 of 3

তারিক বিন জিয়াদের স্পেন বিজয় - Tariq bin Ziyad Conquered Spain - Part 1 of 3 



তারিক বিন জিয়াদের স্পেন বিজয় ১ম পর্ব (মোট ৩ পর্ব)
তখন খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী শেষ হয়ে এসেছে। আফ্রিকার উত্তর উপকূলে ভূমধ্যসাগরের তীরে কায়রোয়ান ছিল উত্তর আফ্রিকা বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি মূসার রাজধানী। সেখান থেকেই পরিচালিত হতো আফ্রিকার শাসনকার্য। মূসার প্রাসাদে লালিত-পালিত হতো ছয়টি বালক। তারা ছিল মুসলিম আফ্রিকার ভবিষ্যৎ। এদের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসবে ভাবীকালে ইসলামের বীর যোদ্ধা এবং দক্ষ শাসনকর্তা।
সেনাপতি মূসার দিন শেষ হয়ে গেছে। তিনি এখন বৃদ্ধ। দামেশকের উমাইয়া খলীফার অধীনে চাকরি নিয়ে ইসলামের ঝাণ্ডা বহন করে তিনি এসেছিলেন আফ্রিকায়। উত্তর আফ্রিকা জয় করে সেখানে ইসলামের ঝাণ্ডা উডীন করে ইসলামের ইতিহাসে রেখে গেছেন অক্ষয় কীর্তির স্বাক্ষর।
তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। একান্ত আশা নিয়ে চেয়ে থাকেন এই ছয়টি বালকের দিকেযারা একদিন বহন করবে ইসলামের বিজয় পতাকা বৃদ্ধি করবে ইসলামের গৌরব। এদের তিনজন মূসার ছেলে, দুজন ভাগ্নে আর একজন উত্তর আফ্রিকার দুর্ধর্ষ বারবার সন্তাননাম তারিক।
বহু বীরের কীর্তিতে ভরপুর হয়ে আছে ইসলামের ইতিহাস। তাঁরা এক-একজন এক-একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। বহু তারকার ঝলকানিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে ইসলামের আকাশ। কিন্তু যুগ - যুগান্তরে ওপার থেকে মুসলমানদের মানসপটে যে উজ্জ্বল তারকাটি ঝিলিক দিয়ে শিহরণ জাগায় রোমাঞ্চকর, তাঁর নাম তারিক।
উত্তর আফ্রিকার দুর্ধর্ষ বারবার জাতির ছেলে তিনি। কিন্তু জন্ম হয়েছিল দামেশকে। দামেশক তখন উমাইয়া বংশীয় খলীফাদের রাজধানী। পিতা যিয়াদ ছিলেন মূসার ক্রীতদাস। মূসা তাঁকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। যিয়াদও ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। যিয়াদের মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা পত্নীকে এবং তারিককে লালন-পালনের জন্য মহানুভব মূসা নিয়ে আসেন কায়রোয়ানে তার প্রাসাদে।
সেখানে মূসার তিন পুত্র ও অন্যান্যের সঙ্গে তারিক বড় হতে লাগলেন। তিনি তাদের দিয়েছিলেন উপযুক্ত শিক্ষা। তারিক ক্রীতদাসের পুত্র হলেও তাকেও দেওয়া হয়েছিল সমান শিক্ষা। ইসলামের সেই স্বর্ণযুগে ক্রীতদাসের ছেলেকেও নিজের পুত্রের মতই লালন-পালন করা হতো। শিক্ষকগণও সকল বালককে সমানভাবে দেখতেন। মহানুভব মূসা তারিককে নিজের পুত্রের মত দেখতেন। মূসার পুত্রগণ এবং অন্যরাও তারিককে নিজেদের ভাই-এর মতই মনে করতেন। তারিক মূসাকে পিতা বলে সম্বোধন করতেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে বালকেরা উপযুক্ত শিক্ষা পেয়ে বড় হতে লাগলো। বাল্যকাল থেকেই তারিকের ভেতর দেখা গিয়েছিল ভাবীকালের বিপুল সম্ভাবনার ইঙ্গিত।
ধীরে ধীরে বাল্যকাল গড়িয়ে এলো কৈশোর। কৈশোর থেকে যৌবন। বালক তারিক পরিণত হলেন এক সুঠাম দেহী সুন্দর যুবকে। যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী, তীর চালনায় নিপুণ। তীর চালনায় অসামান্য দক্ষতা অর্জন করলেন তিনি। এই বিদ্যায় কেউ তাঁকে অতিক্রম করতে পারেনি। সাহসিকতায় হলেন অদ্বিতীয়।
বক্তৃতায়ও পটু হয়ে উঠলেন। দ্বিধাগ্রস্ত ও ভীরুদের মনে সৃষ্টি করতে পারতেন সাহস এবং বল। সর্বোপরি তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ইসলামের সেবা করার জন্য ছিলেন উদগ্রীব।
আর মূসা যেন তাঁর পুত্রদের চেয়েও ভালোবাসতেন তারিককে। তারিকের মধ্যে পেয়েছিলেন সেই দুর্লভ গুণাবলী যা খুব কম লোকের মধ্যেই পাওয়া যায়। মূসা বৃদ্ধ হয়েছেন। তাঁর বিজয়ের দিন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বিজয়ের পিপাসা তার এখনো মেটেনি। ইসলামের গৌরব প্রচারের আকাঙ্ক্ষা তার বেড়েই চলছিল। তাঁর স্বপ্ন ছিল ইউরোপের মাটিতে উড্ডীন করবেন ইসলামের বিজয় পতাকা। তারিকের মধ্যেই দেখতে পেয়েছিলেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা। তারিকই এখন তার স্বপ্ন ও আশা-ভরসা।
এককালে আফ্রিকা মহাদেশের পরিচয় ছিল অন্ধকার মহাদেশরূপে। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বাস করত অনেক অসভ্য জাতি। দুর্গম অরণ্যপর্বত, হিংস্র জন্তু-জানোয়ারে ভরপুর আফ্রিকা সম্বন্ধে বাইরের পৃথিবী সামান্যই জানতো। কিন্তু সেই অন্ধকার মহাদেশও ইসলামের পুণ্য জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। মুসলিম বিজয়ের আগে উত্তর আফ্রিকা ছিল প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যেরই অংশবিশেষ। কিন্তু তা এখন বিজয়ী মুসলিম বাহিনীর করতলগত হলো। সেখানে আজ ইসলামের ঝাণ্ডা উড়ছে সগৌরবে। একদা যে মহাদেশকে বলা হতো অন্ধকার মহাদেশ, তা এখন আল্লাহর সৈনিকদের আযান ধ্বনিতে মুখর। উত্তর আফ্রিকার দুর্ধর্ষ বারবার জাতি ইসলাম গ্রহণ করে পরিণত হয়েছে ইসলামের বীর মুজাহিদরূপে। কিন্তু একটি ছোট্ট অথচ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল যা তখনও মুসলিম বাহিনী জয় করেনি। সে জায়গাটার নাম সিউটা। ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূল এবং আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত সিউটায় ছিল একটি শক্তিশালী দুর্গ। এখানে ছিল প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের এক শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি। এখন তা ভিসি গথদের অধীন। সিউটা আর স্পেনের মাঝখানে আছে জিব্রালটার প্রণালী। সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে এর প্রশস্ততা আট মাইল। এই প্রণালী যুক্ত করেছে আটলান্টিক মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে। জিব্রালটার প্রণালীর উত্তর পার্শ্বে স্পেন। তখন ভিসি গথরা সেখানে রাজত্ব করতেন। সিউটার শাসনকর্তা ছিলেন স্পেনের রাজারই অধীন একজন গভর্নর। তখন সিউটার শাসনকর্তা ছিলেন কাউন্ট জুলিয়ান। জাতিতে গ্রীক। বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি।
সেনাপতি মূসার স্বপ্ন - জিব্রালটার প্রণালী পার হয়ে স্পেন জয় করে ইউরোপের মাটিতে উড়াবেন ইসলামের বিজয় ঝাণ্ডা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াল সিউটার শক্তিশালী এবং সুদৃঢ় দুর্গ। সিউটার দুর্গ মাথা উঁচু করে স্পেনের দ্বাররক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। কাউন্ট জুলিয়ান ছিলেন কর্তব্যপরায়ণ ব্যক্তি। মুসলিম আক্রমণ থেকে সিউটাকে রক্ষার জন্য সদাসতর্ক দৃষ্টি রাখতেন তিনি। কিন্তু তিনি ভাল করেই জানতেন যে, মুসলিম বিজয়ের জোয়ারের মুখে সিউটাকে রক্ষা করতে পারবেন না। মূসাও সুযোগ খুঁজছিলেন তাঁর সম্মুখ থেকে স্পেন অভিযানের এই শেষ কাঁটাটি উপড়ে ফেলতে।
শীঘ্র সে সুযোগ এসে গেল - যার ফলে প্রবল শত্রু কাউন্ট জুলিয়ান মিত্রে পরিণত হলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত কাজ করলেন মুসলিম অভিযাত্রী বাহিনীর পক্ষে পথপ্রদর্শক রূপে সাহায্য করলেন স্পেন বিজয়ে। কাউন্ট জুলিয়ানের ছিল এক পরমাসুন্দরী কন্যানাম ফ্লোরিণ্ডা। তাঁর সময়কার যে কোন খ্রিস্টান রাজকুমারীর চেয়ে ফ্লোরিণ্ডা ছিল অনেক বেশি সুন্দরী। সেই হলো উপলক্ষ যার ফলে জুলিয়ান মূসার কাছে আসতে বাধ্য হলেন। ইউরোপের দক্ষিণ কোণে স্পেন অবস্থিত। স্পেন প্রকৃতির লীলানিকেতন। প্রকৃতি যেন অকৃপণ হস্তে তার সমস্ত দান ঢেলে দিয়েছে স্পেনে। সারা বছরই এখানে বিরাজ
করে চমৎকার আবহাওয়া। এর উর্বর ক্ষেত্রে ফলে প্রচুর ফসল। গাছগুলো নত হয়ে থাকে ফলের ভারে। এর আছে প্রচুর খনিজ সম্পদ। এখানে পাওয়া যায় দামী পাথর। এই দেশে জন্মে ওষুধপত্র ও সুগন্ধি তৈরির প্রচুর গাছপালা। এর আছে মনোরম উপত্যকা আর সুমিষ্ট পানি। এমন সুন্দর সম্পদশালী দেশটি শাসন করতেন ভিসিগথরা। কিন্তু তাঁরা ছিলেন পুরোহিতদের হাতের পুতুল মাত্র। রাজা ও পুরোহিতরা ছিল নিষ্ঠুর, দুর্নীতিপরায়ণ, বিলাসী, চরিত্রহীন। রাজার প্রাসাদ এবং পুরোহিতদের মঠগুলো পূর্ণ থাকতো সুন্দরী রমণীতে। রাজা এবং পুরোহিতগণ আঁতাত করে জনসাধারণকে নিষ্ঠুরভাবে শোষণ করতো। জনসাধারণ বলতে বুঝাত দরিদ্র ভূমিদাসদের, যাদের ভূমির উপর কোন অধিকার ছিল না। কিন্তু তারা জমির মালিককে ফসল দিত। আর ছিল ক্রীতদাস। ক্রীতদাসদের মানুষ বলে গণ্য করা হতো না। তাদের ব্যবসার পণ্যদ্রব্য বলে মনে করা হতো।
ইহুদীদের ঘৃণা করা হতো কুকুরের মত। তাদের ছিল না ধর্মীয় স্বাধীনতা- বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তাদের সম্পত্তি। তাদের দেওয়া হতো সশ্রম কারাদণ্ড। কোন রাজা কোন সংস্কারমূলক কাজ করতে সাহস পেতেন না। কারণ নিজেদের স্বার্থহানি হতো বলে পুরোহিতগণ বাধা হয়ে দাঁড়াত। যে পর্যন্ত রাজা তাদের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করবেন সে পর্যন্ত রাজা নিরাপদ।
সুতরাং কোন রাজা প্রজাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে শাসন সংস্কার করে সিংহাসন হারানোর ঝুঁকি নিতেন না। রাজাও তখন আলস্যে-বিলাসে গা-ঢেলে দিতেন। তাকে অনুসরণ করতো সম্রান্ত ব্যক্তিরা। তারা রাজাকে আরো দুর্নীতিপরায়ণ করে তুলতো।
রাজা, পুরোহিত এবং তথাকথিত সম্রান্ত ব্যক্তিদের শাসন-শোষণ আর অত্যাচারের যাঁতাকলে প্রজারা তখন আর্তনাদ করছিল। তাদের কষ্টভোগ এবং দুঃখের ফরিয়াদ শোনার মত কেউ ছিল না। তারা কামনা করছিল মুক্তিদাতার। সেই মুক্তিদাতাদের আগমন তখন আসন্ন হয়ে উঠেছিল।
মূসা স্পেনের অবস্থা সম্বন্ধে সকল খবরই সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। তিনি তাদের মুক্তি সেনানীদের অধিনায়কও ঠিক করে ফেলেছিলেন। শুধু অপেক্ষা করছিলেন অভিযানের উপযুক্ত ক্ষণটির। ইসলামের শান্তির বাণী প্রচারের জন্য এবং পদদলিত, নির্যাতিত এবং শোষিত মানবতার মুক্তির জন্য মূসা ছিলেন দৃঢ়সংকল্প। তিনি স্থির করলেন সিউটা দুর্গ দখল করবেন। তার জ্যেষ্ঠপুত্র আব্দুল আযিযের অধিনায়কত্বে পাঠালেন এক ক্ষুদ্র বাহিনী। উদ্দেশ্য সিউটা দুর্গ অবরোধ করা এবং স্পেনে প্রবেশের জন্য মুসলিম সেনাবাহিনীর পথ পরিষ্কার করা।
তৎকালে  গথদের মধ্যে একটি প্রথা প্রচলিত ছিল। রাজদরবারের আদব-কায়দা শেখার জন্য গথ সম্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের ছেলে-মেয়েদের পাঠিয়ে দিতেন রাজপ্রাসাদে। তারা সরাসরি রাজার তত্ত্বাবধানে থেকে রাজদরবারের আদব-কায়দা শিখত। রাজারাও তাদের গ্রহণ করতেন এক বিশেষ উদ্দেশ্যে। অনেক সময় সম্রান্ত ব্যক্তিরা রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইতেন। কিন্তু রাজদরবারে তাঁদের ছেলে-মেয়ে থাকায় তারা তা করতে আর সাহস পেতেন না। কারণ তাদের ছেলে-মেয়েরা রাজদরবারে জিম্মী হিসেবে থাকত। রাজারা তাদের অধীনস্থ লোকদের আনুগত্য সম্বন্ধে নিশ্চিত হতেন এভাবে।
মুসলিম বাহিনী যখন অগ্রসর হচ্ছিল কাউন্ট জুলিয়ান নিরাপত্তার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে কন্যা ফ্লোরিণ্ডাকে পাঠিয়ে দিলেন স্পেনের তৎকালীন রাজধানী টলেডোতে। রাজা রডারিক ছিলেন অত্যন্ত ইন্দ্রিয়পরায়ণ। নারীর মান- সম্ভ্রমের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা ছিল না তার। জুলিয়ানের কন্যা ফ্লোরিণ্ডা ছিল অপরূপ সুন্দরী। তার রূপ দেখে এই পাষণ্ড নিজেকে সংযত রাখতে পারলো না। এই পশু তার পাশবিক কামনা চরিতার্থ করল। লাঞ্ছিত হলো এক নিস্পাপ কুমারী। রাজা রডারিক সিংহাসনে বসে যেসব জঘন্যকাজ করেছেএই ছিল তার সর্বশেষ ।
আল্লাহর গজব নেমে এলো তার উপর। তার পতন ঘনিয়ে এলো সেই সঙ্গে এগিয়ে এলো শৃঙ্খলিত, অপমানিত, নির্যাতিত, মানবতার মুক্তির দিন। সেই অসহায় অপমানিত গ্রীক রাজকুমারী তার সতীত্ব হারানোর মর্মবেদনা পিতাকে জানালো। অসহায় কন্যার লাঞ্ছনা পিতা জুলিয়ানের হৃদয়ে কামানের শেল হয়ে আঘাত করল যেন। যে তরবারি একদা ধারণ করেছিলেন রাজাকে রক্ষার জন্য তা ভেঙ্গে ফেললেন তিনি। প্রতিজ্ঞা করলেন তাঁর অসহায় কন্যার অপমানের প্রতিশোধ নেবেন।
তিনি রাজা রডারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। বললেন যে, কন্যার মাতা মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তাই কন্যাকে নিয়ে যেতে এসেছেন। এই মিথ্যার কথার আশ্রয় নিয়ে কন্যাকে পশুর কবল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এলেন। যখন ফ্লোরিণ্ডাকে নিয়ে আসেন তখন রডারিক জুলিয়ানকে অনুরোধ করেছিলেন, তাঁকে আফ্রিকা থেকে বাজপাখি উপঢৌকন পাঠাতে। জুলিয়ান উত্তরে বলেছিলেন, তিনি তাকে এমন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাজপাখি পাঠাবেন যা স্পেন চিরকাল স্মরণ রাখবে। এই কথা রডারিক তখন হয়তো বুঝেন নি। কিন্তু এর দ্বারা জুলিয়ান অগ্রসরমান আরব বাহিনীকে বুঝিয়েছিলেন।
কন্যাকে নিয়ে ফিরে এসে জুলিয়ান তার অনুসারীদের জানালেন নিরীহ কন্যার লাঞ্ছনার কথা। ফ্লোরিণ্ডার প্রতি এই পাশবিক ব্যবহারে সকলেই ক্ষেপে গেলেন। তরবারি কোষমুক্ত করে সকলেই প্রতিজ্ঞা করলেন জুলিয়ানের পাশে দাঁড়াতে এবং দুশ্চরিত্র রডারিককে শাস্তি দিতে। এভাবে যারা ছিল এককালে মুসলমানদের শত্রু তারাই হলো মিত্র। জুলিয়ান তাড়াতাড়ি কায়রোয়ান রওয়ানা হলেন। বৃদ্ধ সেনাপতি মূসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে স্পেন বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সরবরাহ করলেন। স্পেন ছিল মুসলমানদের নিকট একটি অজ্ঞাত দেশ। জুলিয়ান তাকে আশ্বাস দিলেন, তিনি মুসলিম বাহিনীকে সাহায্য করার জন্য পথপ্রদর্শক দেবেন। স্পেন বিজয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখে মূসা খুশিই হলেন। আজ সফল হতে চলেছে তার বহুদিনের লালিত আকাঙ্গা। খলীফা ওয়ালিদের অনুমতি চেয়ে দামেশকে লোক পাঠালেন তিনি কিন্তু খলীফা তাকে সতর্ক হতে বললেন এবং তাকে আদেশ করলেন, প্রথমে যোদ্ধাদের একটি ছোট্ট দল পাঠাতেযাতে বোঝা যায় রডারিক পাল্টা কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
মূসা তাই করলেন। বারবার নেতা তারিকের অধীনে চারশ ঘোড়-সওয়ার এবং একশ পদাতিক সেনার একটি দলকে পরীক্ষামূলক অভিযানে পাঠালেন। কথিত আছে যে, জুলিয়ান নিজের জাহাজে করে এই সৈন্যদলকে ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগকারী প্রণালীটি পার করে দিয়েছিলেন।
এই অভিযান সফল হয়েছিল। মুসলিম বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে বেশিদূর প্রবেশ না করে দেশের উপকূল ভাগেই অভিযান চালিয়েছিল। সেখানে তারা বেশি বাধা পাননি। ফেরার সময় অনেক ধন-সম্পদ এবং বেশ কিছু বন্দীকে ধরে নিয়ে এসেছিলেন।
এরপর মূসা বৃহত্তর অভিযানের প্রস্তুতি নিলেন। এতদিন মূসা যে তথ্যাদি সংগ্রহ করেছিলেন এবং কাউন্ট জুলিয়ান যে তথ্যাদি দিয়েছিলেন, তার ভিত্তিতে তৈরি করলেন স্পেনের একটি মানচিত্র। কিন্তু অভিযাত্রী বাহিনীর যোগ্য নেতৃত্বদানে সক্ষম এমন অধিনায়ক পাওয়া সহজ ছিল না। সমর বিদ্যায় শিক্ষিত মূসার নিজেরই তিন পুত্র এবং ভাগ্নে ছিলেন। কিন্তু কোন অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা এবং একজন দিগ্বিজয়ীর গুণাবলীর অভাব ছিল তাদের।
তাই তিনি পূর্বেই একজন যোগ্য সেনাপতি মনে মনে স্থির করে রেখেছিলেন। যখন তিনি তা প্রকাশ করলেন তখন সকলেই ভাবল মূসা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। এসময় তারিকই ছিলেন উপযুক্ত সেনাপতিযিনি এই মহৎ এবং ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
বৎস, তোমার উপর কঠিন দায়িত্বভার অর্পণ করছি-মূসা অত্যন্ত স্নেহার্দ্র স্বরে বললেন।
আমার সমস্ত মনপ্রাণ দিয়ে সেই দায়িত্বের উপযুক্ত হতে চেষ্টা করব। অধিকন্তু এই দায়িত্ব পালনের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব। শান্তস্বরে জবাব দিলেন তারিক। তিনি তখন তানজিয়ারের গভর্নর পদে নিযুক্ত ছিলেন। তারিকের নিকট উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়ে মূসা আনন্দিত হলেন। তাঁর সামনে তুলে ধরলেন স্পেনের একটি মানচিত্র। তাঁকে দেখিয়ে দিলেন স্পেনের প্রধান প্রধান শহর, নদী এবং পর্বতমালারাস্তা বড় বড় রাজপথ যেগুলো চলে গেছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর দিকে। বললেন এই বিশাল দেশ জয় করার জন্য আমার ছেলেদের বাদ দিয়ে তোমাকেই নির্বাচিত করেছি। আগামীকাল শুক্রবার নামাযের পরই তুমি জাহাজ নিয়ে যাত্রা করবে।
তারিক জানতেন আফ্রিকা আর স্পেনের মাঝে রয়েছে একটি গভীর সমুদ্র এবং যে দেশে তিনি অভিযান করছেন সে দেশের অধিকাংশ লোকই খ্রিস্টান এবং তারা মুসলমানদের ঘোর শত্রু। সে দেশের অধিবাসীদের রয়েছে প্রচুর সম্পদআর তাছাড়া তারা মুসলিম বাহিনীকে বাধা দেবে নিজেদের দেশে থেকেই। তারিক আরো জানতেন, এই অভিযানের জন্য তিনি পাবেন সীমিত সৈন্যবল ও সীমিত অস্ত্রশস্ত্র। এই সব চিন্তা করে তারিক কি ঘাবড়ে গিয়েছিলেন?
না, মোটেই না, কারণ তারিকের শক্তির উৎস ছিল সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস এবং তাঁর অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের গৌরব চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া। তারিক মূসার আদেশ পেয়ে বাড়ি ফিরলেন। এশার নামাযের পর আল্লাহ্ তাআলার উদ্দেশ্যে সিজদায় পড়ে রইলেন মধ্যরাত পর্যন্ত। বিছানায় যাওয়ার পূর্বে তাঁর মনে আসল দৃঢ় প্রত্যয়। আল্লাহ্ তাআলা তাঁর দোয়া শুনেছেন।
শেষ রাতে তিনি স্বপ্ন দেখলেনতাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর এবং শুভ স্বপ্ন। স্বপ্নে তিনি তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত অস্ত্রসজ্জিত সঙ্গীদের ও মহানবী (সা)-কে দেখতে পেলেন। মহানবী (সা) তাঁকে বলছেন, তোমার উপর যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তা পালন করতে কঠোর চেষ্টা কর। আল্লাহ্ তোমাকে সাফল্য দেবেন।
তিনি বিছানা থেকে উঠলেন। তার অন্তরে তখন নতুন প্রেরণা, নতুন উৎসাহ আর আনন্দ। প্রাতঃকালে তিনি এক দীর্ঘ মুনাজাত করলেন। তাঁর মুখমণ্ডল উদ্ভাসিত হয়ে উঠল স্বর্গীয় আলোকে। জামাতে নামায শেষ হওয়ার পর পরই মূসা সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে এক ভাষণ দিলেন। ভাষণটি এইঃ
তারিকের অধিনায়কত্বে তোমরা শীঘ্রই যাত্রা করছে। তোমরা সকলেই জান সে বয়সে তরুণ এবং অনভিজ্ঞ। তোমাদের অনেকেই আছ, যারা তারিকের চেয়েও বয়সে বড় এবং তার চেয়েও বেশি অভিজ্ঞ। কিন্তু তার মধ্যে নেতৃত্বের এমন সব গুণ রয়েছে যা অধিকাংশ লোকের মধ্যে দুর্লভ। আল্লাহ্ তাআলার দয়ায় তোমরা আজ মুসলমান। সুতরাং তোমরা জান নেতার প্রতি আনুগত্য বলতে কি বুঝায়। তোমাদের নেতার প্রতি আনুগত্যের ব্যাপারে ইসলামের যা নির্দেশ রয়েছে তোমরা অবশ্যই তা পালন করবে। স্মরণ রেখ, যারা আল্লাহর নির্দেশ মান্য করে না, আল্লাহর শাস্তি নেমে আসে তাদের উপর। আল্লাহর এবং তার দয়ার প্রতি অকুণ্ঠ আস্থা রেখ। জয় তোমাদের হবেই।
গগনবিদারী আল্লাহু আকবর ধ্বনি উঠল সৈনিকদের কণ্ঠে। ইসলামের খিদমতে নিবেদিত সাত হাজার সৈনিক এক বিশাল দেশ জয় করতে পাড়ি দিল এক গভীর সমুদ্র। তখন জুলাই মাস শেষ হয়ে এসেছে। ৭১১ খ্রিস্টাব্দ। তারিক তাঁর ক্ষুদ্র সেনাবাহিনী নিয়ে অবতরণ করলেন স্পেনের উপকূলে। ইউরোপের মাটিতে বিজয়ী মুসলিম বাহিনীর প্রথম পদক্ষেপ। তারিকের বাহিনীতে ছিল অল্প সংখ্যক সৈন্য এবং অত্যল্প রসদ। স্পেনের মাটিতে নেমে তারিক একটি পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করলেন, সেখানে উড়ালেন করলেন ইসলামের পতাকা। তাঁর হৃদয় আজ উদ্দীপ্ত স্পেন বিজয়ের স্বপ্নেইসলামের গৌরব প্রচারের আকাক্ষায়।
ইউরোপ তখন ছিল অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। আজ সেখানে দেখা দিল শান্তি, সাম্য, সমৃদ্ধি ও জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত নতুন যুগের সুপ্রভাত। পরদিন তিনি দেশের অভ্যন্তরে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। রাতে তারিক তার নৌবহরের অধ্যক্ষ বদরকে ডেকে পাঠালেন। বদর আসলেন। তারিক তাকে আদেশ করলেন তাঁর সকল জাহাজ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে। এই অদ্ভুত আদেশে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন বদর। এই জাহাজগুলো দিয়েই মুসলিম বাহিনী পার হয়ে এসেছে গভীর সমুদ্র। আর প্রয়োজন হলে এই জাহাজগুলো দিয়েই ফিরে যেতে হবে। কারণ যুদ্ধের ফলাফল অনিশ্চিত। বদর তারিককে বোঝাতে চেষ্টা করলেন, জাহাজগুলো অকেজো নয়। সমুদ্রপথে শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করতেও জাহাজগুলোর প্রয়োজন হবে। তা ছাড়াও অভিযাত্রী বাহিনীর সঙ্গে জাহাজগুলোর যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে। সর্বশেষে বদর যুক্তি দিলেন, কোন জরুরী অবস্থার উদ্ভব হলে জাহাজগুলো তখন কাজে লাগবে। কিন্তু তারিক তার সিদ্ধান্তে অটল রইলেন এবং বদরকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন তরুণ দুঃসাহসী সেনাপতি তারিকঃ আমরা আর ফিরে যাচ্ছি না বদর। আমরা থাকতেই এসেছি। আল্লাহ্ রহমতে আমরা জয়লাভ করবই। এদেশ আমরা শাসনও করব
তা ছাড়া বদরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হলো, মূসার কাছে বদরের দেয়া সেই শপথতিনি থাকবেন তারিকের নেতৃত্বে অনুগত। মনে মনে প্রশংসা করলেন বদর তারিকের দৃঢ় প্রত্যয়, বিশ্বাস ও সাহসের। প্রার্থনা করলেন এই অভিযানের সফলতার জন্য। বদর আদেশ দিলেন জাহাজগুলো পুড়িয়ে দিতে। তাহলে সৈন্যদের কারো মধ্যে আর পলায়নী মনোবৃত্তি থাকবে না। ইসলামের সেই সোনালি যুগে এমনি ছিল মুসলমানদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ। মুসলিম বাহিনীর সম্মুখে এখন শত্রু রডারিকের বিশাল বাহিনী। পেছনে ক্ষুধিত সমুদ্র। যুদ্ধে জয়ী হয়ে হতে হবে গাজী নতুবা বরণ করতে হবে শহীদী মৃত্যু। তাছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।
পরদিন সকালে তাঁর মুজাহিদ বাহিনীর সম্মুখে দাঁড়িয়ে এক উদ্দীপনাময়ী ভাষণ দিলেন তারিকঃ ভাইয়েরা! আমরা আজ স্বদেশ থেকে অনেক দূরে। আমাদের প্রিয় স্বদেশ এবং এই শত্রু দেশের মাঝে রয়েছে এক বিশাল গভীর সমুদ্র। আমাদের দেশ থেকে আমাদের জন্য কোন সাহায্য প্রত্যাশা করতে পারি না। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও ভেবে না তোমরা নিঃস্ব---একাকী। আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদের সঙ্গে আছেন। আমি জাহাজগুলোকে পুড়িয়ে ফেলেছি যাতে তোমাদের মন থেকে দেশে ফেরার সম্ভাবনা মুছে ফেলতে পার। আমরা এসেছি, হে বন্ধুগণ, ফিরে যেতে নয়। বরং আমরা এসেছি, এ দেশকে স্বদেশ ভূমিতে পরিণত করতে। যদি আমাদের বিপদ কিছু ঘটেই, তবে এই জাহাজগুলো আর আমাদের রক্ষা করতে পারবে না। শুধু আল্লাহর উপরই আমাদের ভরসা করা উচিত। আমরা সেই আল্লাহর বান্দা যিনি তার রাসূল (সা) ও তাঁর উম্মতদেরকে সাহায্য করেছিলেন বদর, হুনায়ন, কাদেসিয়া, আজনাদাইনের রণক্ষেত্রে ঘোর বিপদের মাঝে। আমরা যুদ্ধ করছি সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। পার্থিব ধন-দৌলত কিংবা ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়। আমরা এক অদ্বিতীয় আল্লাহতে বিশ্বাসী, যিনি মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সাহায্য করেছেন অবিশ্বাসীদের দেশে এবং কুতাইবাবি মুসলিমকে সাহায্য করেছেন সুদূর তুর্কিস্তানে। আমরাও যদি মুহাম্মদ বিন কাসিম এবং কুতাইবার ন্যায় একই উদ্দীপনা নিয়ে যুদ্ধ করি, যদি থাকে আমাদের উদ্দেশ্যের প্রতি আন্তরিকতা, তবে আমরাও পাব জয়মাল্য। এস, আমরা ধর্মের পথে হই গাযী অথবা শহীদ।
এই জ্বালাময়ী ভাষণ সেনাবাহিনীর হৃদয়ে আগুন ধরিয়ে দিল। তারা ভুলে গেল তাদের ঘরবাড়ি, তাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা আত্মীয়-পরিজন। তাদের সম্মুখে একটি উদ্দেশ্যই রইলআল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে যুদ্ধ করা। আল্লাহু আকবর রবে প্রকম্পিত হলো আকাশ-বাতাস। তারা শপথ নিল, হয় জয় নয় মৃত্যু। তারপর সম্মুখে এগিয়ে যাবার জন্য বেজে উঠল রণশিঙ্গা। ছোট মুসলিম বাহিনী দৃপ্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে চললো। তাদের সম্মুখে উড়ছে ইসলামের বিজয় পতাকা। তাদের মধ্যে ছিল না ঔদ্ধত্য, ছিল না কোন অহংকার। চিত্ত ছিল বিনয়াবনত। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মহৎ মানবিক। আল্লাহর পথে নিবেদিতপ্রাণ কি কখনও অহঙ্কারী হতে পারে?
সাধারণ পোশাকে সজ্জিত ছিল সৈনিকগণ। কিন্তু চোখে ছিল দৃঢ় সঙ্কল্পের ঔজ্জ্বল্য। অধঃপতনের গভীর গর্ত থেকে মানবতাকে উদ্ধার করতে হবে। সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে তাদের। তারিক একটি আরবীয় ঘোড়ায় চড়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। দেখা গেল একজন বৃদ্ধা এগিয়ে আসছেন তাঁর দিকে। তারিক তার ঘোড়া থামালেন। সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল মুসলিম বাহিনী। বৃদ্ধা মহিলা তারিকের দিকে তাকালেন। নিরীক্ষণ করলেন তার আপাদমস্তক। অবশেষে নিশ্চিত হওয়ার ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন। বললেন মহান আরব সেনাপতি, আমার স্বামী ছিলেন বিখ্যাত ভবিষ্যদ্বক্তা এবং জ্যোতিষী। তিনি নির্ভুল গণনা করতে পারতেন। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী একবারও ব্যর্থ হয় নি। ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবে তিনি খুব পরিচিত ছিলেন। একদিন তিনি খোশ মেজাজে ছিলেন। সেই সময় আমাকে বলেছিলেন একটি গোপন কথা। এই হতভাগ্য দেশের শাসন ক্ষমতা চলে যাবে একটি নতুন জাতির হাতে। পৃথিবীর এই অংশ থেকে নিমূর্ল হয়ে যাবে গথরা। এই দেশ যে জয় করবে তার কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কথাও তিনি বলেছিলেন যা দিয়ে তাঁকে চেনা যাবে। বাছা, জেনে সুখী হবে, তোমার মধ্যে সেই চিহ্নগুলো পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। কোন সন্দেহ নেই আমার, তুমিই এই দেশের সেই বহু প্রতীক্ষিত মুক্তিদাতা। আমি আজ ধন্য যে, তোমাকে নিজের চোখে দেখেছি। যাও বাছা, এগিয়ে যাও। তোমার জন্য রইল আমার শুভেচ্ছাতুমি সফল হও। আমি প্রার্থনা করছিআমরা যা আশা করছি, তুমি যেন তার উপযুক্ততা প্রমাণ কর। আমাদের উপর তোমার সাম্য ও সুবিচারের শাসনদণ্ড পরিচালিত কর এবং আমাদের মুক্ত কর এই গথদের থেকে, যারা নেকড়ে বাঘের চেয়ে খারাপ
পরের পর্ব

No comments:

Post a Comment

Popular Posts