Thursday, August 22, 2019

এক ক্ষুধার্ত বালকের আর্তি ও মুহাম্মদ (সাঃ)


এক ক্ষুধার্ত বালকের আর্তি ও মুহাম্মদ (সাঃ)


এক ক্ষুধার্ত বালকের আর্তি ও মুহাম্মদ(সাঃ)
এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটল একদিন। এক বালক খিদের জ্বালায় আর চলতে পারছিল না। অগত্যা একটি ফলের বাগানে ঢুকে পড়লবাগানটি ছিল সুমিষ্ট ফলে ভরপুরবালকটি তার ক্ষুধা মেটানোর জন্য কয়েকটা ফল কুড়িয়ে নিল। তারপর পেট ভর্তি করে খেল সেসব ফল। কিছু ফল সে পকেটেও ভরে নিলবালকটি ভাবল, পরে খিদে পেলে আবার এসব ফল খেয়ে খিদে নিবারণ করবে পেট ভরে খেয়ে বালকটি আরও ক্লান্ত হয়ে পড়লতাই সে গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় বাগানের মালিক সেখানে এসে হাজির হলো বালকটির পকেটে বাগানের ফল দেখতে পেয়ে মালিক খুব রেগে গেল। তাই সে ক্ষুব্ধ হয়ে বালকটিকে বেদম প্রহার করল। বালকটির কাছ থেকে ফলগুলোও কেড়ে নিল। শুধু তাই নয়। বাগানের মালিক বালকটির পরনের কাপড়-চোপড়ও খুলে নিলগরিব বালক আর কী করবে! সে গিয়ে মহানবী (সা)-এর নিকট মালিকের বিরুদ্ধে নালিশ জানাল এবং তার ওপর জুলুমের জন্য বিচার চাইলসে জানাল, হযরত! আমি একাধারে তিনদিন না খেয়ে ছিলামআমাকে একমুঠো খাবার পর্যন্ত দেয়নি। খিদের জ্বালায় অস্থির হয়ে বাগানে ঢুকেছিলাম
সেখানে গাছের তলায় পড়েছিল প্রচুর ফলএর কয়েকটা ফল কুড়িয়ে খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছিলামপরে খাব বলে কিছু ফল পকেটে পুরে রেখেছিলামএ জন্য আমি বাগানের মালিকের হাতে ধরা পড়িএ কারণে তিনি আমাকে ইচ্ছেমতো মারধর করেছেন। মারের চোটে আমি বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলামহুঁশ ফিরে এলে দেখলাম আমার পরনে কাপড় নেইবাগানের মালিক আমার সব কিছু কেড়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার কাছে নালিশ জানাচ্ছি। আমি এর বিচার চাই
মহানবী (সা)-এর মন ছিল সীমাহীন দরদে পরিপূর্ণমানুষের দুঃখ দেখলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়তেন। তার মন কষ্টে ভারি হয়ে উঠত
মহানবী (সো) অসহায় বালকটির দুঃখের কথা শুনে মনে প্রচণ্ড কষ্ট পেলেন তিনি বাগানের মালিককে ডেকে পাঠালেনমালিক যথারীতি এসে মহানবী (সা)-এর সামনে হাজির হলো। মহানবী (সা) লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তুমি তো দেখছ ছেলেটা খুবই ছোটক্ষুধার তাড়নায় সে তোমার বাগানে ঢুকেছে। কয়েকটা ফলও কুড়িয়ে নিয়ে খেয়েছে। এতে কি-ই-বা দোষ হয়েছে? সে তো বিপদে পড়েই এ কাজ করেছে। আর আল্লাহ তাআলা তো তোমার বাগানে প্রচুর ফল দান করেছেন। তুমি কি বালকটিকে মাফ করতে পারতে না?
মহানবী (সা)-এর কথা শুনে বাগান মালিক খুব লজ্জা পেলসে অনুভব করল যে, কাজটি সে ঠিক করেনি। এটা তার অন্যায় হয়েছে। তাই সে মাফ চাইলবালকটির কাপড়-চোপড় সব ফেরত দিলশুধু তাই নয়। বাগানের মালিক বালকটিকে তার বাড়িতে নিয়ে গেল এবং তাকে আশ্রয় দিলমহানবী (সা)-এর দরদপূর্ণ মন ও ন্যায়বোধ দেখে বাগানের মালিক আজ অনন্য এক শিক্ষা পেলএতে তার জীবনধারাও বদলে গেল। আল্লাহর নবী (সা)-এর কথা শুনে সে একজন বিবেকবান মানুষে পরিণত হলো ।

No comments:

Post a Comment

Popular Posts