মজার গল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনী, ছোট গল্প, শিক্ষামূলক ঘটনা, মজার মজার কৌতুক, অনুবাদ গল্প, বই রিভিউ, বই ডাউনলোড, দুঃসাহসিক অভিযান, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, রুপকথা, মিনি গল্প, রহস্য গল্প, লোমহর্ষক গল্প, লোককাহিনী, উপকথা, স্মৃতিকথা, রম্য গল্প, জীবনের গল্প, শিকারের গল্প, ঐতিহাসিক গল্প, অনুপ্রেরণামূলক গল্প, কাহিনী সংক্ষেপ।

Saturday, May 2, 2020

শাসক হলেন মেষচালক – খলিফা হজরত উমার (রাঃ) এর ঘটনা

শাসক হলেন মেষচালক  খলিফা হজরত উমার (রাঃ) এর ঘটনা

শাসক হলেন মেষচালক খলিফা হজরত উমার (রাঃ) এর ঘটনা
খলিফা উমর (রা) একদিন অফিসের কাজ সেরে ঘরে ফিরছিলেন। এমন সময় এক নাগরিক এসে তাঁর পথ আগলে দাঁড়াল। এতে খলিফা অবাক হলেন। পরক্ষণেই লোকটি চিৎকার করে বলে উঠল, আমিরুল মুমিনীন! আপনার কি পরকালের ভয় নেই? আপনি কি ভাবছেন রাজধানীতে বসে কতগুলো হুকুমনামা পাঠিয়ে দিলেই আপনি দায়িত্বমুক্ত হতে পারবেন?
লোকটির এরূপ কথা শুনে খলিফা বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন, ভাই! আমি আপনাদের অযোগ্য শাসক। তাই সবসময় দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। সে যাই হোক, আপনি আপনার অভিযোগ খুলে বলুন। আমি কথা দিচ্ছি, অবশ্যই এর একটা প্রতিকার আমি করব।
লোকটি বলল, আপনার বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ নেই। আমি অভিযোগ করছি মুসলিম জাতির পক্ষ থেকে। আমরা জানি, ইসলামে পুরুষের জন্য রেশমি পোশাক পরার কোনো বিধান নেই। আর আপনি ফরমান জারি করেছেন যে, কোনো প্রাদেশিক শাসনকর্তা তাদের দরজায় দারোয়ান রাখতে পারবেন না। শাসক ও প্রজার মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকবে না। অথচ মিসরের শাসনকর্তা আইয়াজ বিন ঘনম সূক্ষ্ম রেশমের রঙিন কাপড় ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, তিনি তার গৃহদ্বার পাহারা দেয়ার জন্য দশাসই দারোয়ান রেখেছেন। ফলে প্রজারা তাদের প্রয়োজনে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারছে না। প্রজারা তাই ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আপনি আমাদের খলিফা। তাই আপনাকে এই অনাচারের প্রতিকার করতে হবে।
হযরত উমর ফারুক (রা) বললেন, আপনার অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণ হলে নিশ্চয়ই আমি এর প্রতিকার করব। আপনি জেনে রাখুন, আল্লাহর এই অধম বান্দার কাছে ছোট-বড় সবাই সমান। আপনি দুআ করবেন, আল্লাহ যেন আমাকে ন্যায়বিচার করার তাওফিক দেন।
খলিফা উমর (রা) সেদিনই তার দূত মুহাম্মদকে মিসরে পাঠালেন। দূতকে নির্দেশ দিলেন অভিযোগ সত্যি হলে কালবিলম্ব না করে আইয়াজকে যেন বন্দী করে মদীনায় নিয়ে আসা হয়। মুহাম্মদ খলিফার নির্দেশ মতো মিসরে গিয়ে পৌঁছলেন। তিনি জানতে পারলেন আইয়াজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ সত্য। তাই তাঁকে বন্দী করে মদীনায় নিয়ে আসা হলো। তারপর আইয়াজকে হযরত উমর (রা)-এর সামনে এনে হাজির করা হলো। আইয়াজের পরনে তখনও আঁকজমকপূর্ণ পোশাক ছিল। তাই আইয়াজের দিকে তাকিতেই হযরত উমর (রা) চমকে উঠলেন।
খলিফা (রাঃ) বললেন, আইয়াজ! তুমি ইসলামের কলঙ্ক। তুমি যুবতী রমণীর মতো ঝকঝকে রেশমি কাপড় পরেছ। শুনলাম তুমি গৃহদ্বারে দারোয়ান নিয়োগ করেছ। এসব করে তুমি ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছ। আমার ফরমান তুমি অমান্য করেছ। তাই আমি আদেশ করছি, তোমাকে এখন থেকে বিলাসী পোশাকের পরিবর্তে কোরা কাপড় ব্যবহার করতে হবে। আর বিলাসী জীবন নির্বাহের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে বন-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে ভেড়া চরাতে হবে।
খলিফার আদেশ শুনে আইয়াজ বললেন, আমিরুল মুমিনীন! আমি আমার আচরণের জন্য অনুতপ্ত। আমি এক্ষুনি এই রেশমি পোশাক খুলে ফেলছি। আজ এখনই মিসরের শাসনকর্তার পদ থেকে পদত্যাগ করছি। অনুগ্রহ করে আমাকে ভেড়া চরানোর মতো হীন কাজ থেকে রেহাই দিন। তা হলে আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
ন্যায়বিচারের প্রতীক খলিফা উমর (রা) বললেন, না, আইয়াজ, তা হয় না। ব্যক্তিগতভাবে তুমি যদি আমার সাথে অপরাধ করতে তবে অবশ্যই আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিতাম। কিন্তু তুমি অপরাধ করেছ ইসলাম ধর্মের সাথে। খাটো করেছ মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা। তাই যে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে, তা তোমাকে মেনে নিতেই হবে। ইসলামের বিধানে ন্যায়বিচার প্রশ্নে কোনো আপস নেই।।
আইয়াজ বিন ঘনম এবার কম্পিত কণ্ঠে বিনীতভাবে আরজ করলেন, হে মহান খলিফা আপনার এই আদেশের চেয়ে মৃত্যুদণ্ডই শ্রেষ্ঠ ছিল। আমি ছিলাম বিশাল এক রাজ্যের শাসনকর্তা। আর আমাকে আদেশ করছেন বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে ভেড়া চরাতে? এই অসম্মাজনক কাজ আমি কী করে করব? একথা বলে আইয়াজ বিলাপ করতে লাগল।
আইয়াজকে বিলাপ করতে দেখে খলিফা বললেন, অযথা এত মন খারাপ করছ কেন ভাই? আজ তুমি ভেড়া চরাতে লজ্জা পাচ্ছ? অথচ তোমার সম্মানিত আব্বাজানও সারাজীবন ভেড়া চরিয়ে দিন গুজরান করেছেন। সে জন্যই তার নাম হয়েছিল ঘনম। তুমি তো তারই স্নেহের পুত্র। পিতার যে কোনো সৎকাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা তোমার কর্তব্য।
হযরত উমর (রা)-এর কথা শুনে আইয়াজ বিন ঘনমের মন থেকে সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর হয়ে গেল। তিনি পরক্ষণই বললেন, আমি মহান খলিফার আদেশ মাথা পেতে নিচ্ছি। কারণ, এখন আমি বুঝতে পেরেছি, প্রত্যেক মুসলমানেরই ন্যায়বিচারের রায় মাথা পেতে নেয়ার মতো সৎসাহস থাকা উচিত।

No comments:

Post a Comment

Popular Posts