Thursday, May 2, 2019

Funny Bangla Jokes/ Stories - part 3




১৫.
ভোলা আর তার কাকা একবার ব্যবসা করার পরিকল্পনা করল। অনেক ভেবেচিন্তে তারা ঠিক করল রেস্তোরাঁর ব্যবসা করবে। যেই ভাবা সেই কাজ। রেস্তোরাঁ তৈরি হলো। রান্নাবান্নাও হলো। তারপর তারা ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু কোনো ক্রেতাই সেদিন আর এল না। এভাবে এক দিন দুই দিন করে সপ্তাহ পার হলোকিন্তু ক্রেতার কোনো দেখা নেই। শেষে জানা গেলভোলা তাদের রেস্তোরাঁর সামনে বড় করে লিখে দিয়েছিল দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ তো ব্যর্থ হয়ে তারা ভাবলতাদের দিয়ে আর যা- হোক রেস্তোরাঁর ব্যবসা হবে না। এবার তারা আবার মোটর গ্যারেজের ব্যবসা শুরু করল। যন্ত্রপাতিও কেনা হলো। কিন্তু যাহা কদু তাহাই লাউয়ের মতো অবস্থা। দিনমান অপেক্ষার পরও কোনো গাড়িই তাদের গ্যারেজে ঢুকল না। এভাবে এক দিন দুই দিন করে সপ্তাহই শেষকিন্তু গাড়ির কোনো খবর নেই। তোতাদের গ্যারেজে কোনো গাড়ি না আসার কারণ হলোগ্যারেজটি ছিল একটি ভবনের তৃতীয় তলায়।
১৬.
একদিন ভোলা এক মুদিদোকানে গেল তার বিড়ালের জন্য খাবার কিনতে। তাকে দেখে দোকানদারের একটু সন্দেহই হলোভোলার তো কোনো বিড়াল নেই। ওই ব্যাটা বিড়ালের খাবার অল্প দামে কিনে শেষে না আবার নিজেই খেয়ে ফেলে। তাই দোকানদার জানিয়ে দিলতাকে ওই বিড়ালটি দেখাতে হবে। তারপর সে বিড়ালের খাবার বিক্রি করবে। কী আর করা! বাসা থেকে ভোলা বিড়াল এনে দেখিয়েই খাবারটি কিনল।পরের সপ্তাহে আবার ভোলা ওই একই দোকানে গেল তার প্রিয় কুকুরটির জন্য খাবার কিনতে। কিন্তু এবারও মহা ফ্যাসাদে পড়ে গেল সে। দোকানদারও নাছোড়বান্দা। কুকুর তাকে দেখাতেই হবে। তারপর খাবার বিক্রি। তো ভোলা আবারও বাসা থেকে কুকুর এনে দোকানদারকে দেখিয়ে খাবার নিয়ে গেল।কিছুদিন পর আবারও ভোলা হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে ওই দোকানে গিয়ে হাজির। ব্যাগটি দোকানদারকে দিয়ে বলল, ‘দেখেন।দোকানদার ব্যাগ খুলে ওয়াক ওয়াক থু থু করতে লাগল, ‘ছি ছি ভোলাতুমি কফ-থুথু এসব ব্যাগে ভরে নিয়ে এসেছ কেন!’ ভোলা বলল, ‘আরে মশাইঠিকই তো আছে। এবার যে আমি টিস্যু পেপার কিনতে এসেছি!
১৭.
জীবনের প্রথম ভোলা গ্রাম থেকে শহরে এসে একটা হোটেলে উঠেছে। হোটেলবয় তাকে কক্ষ দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার পর ছোট্ট একটা কক্ষে ঢুকতেই দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ভোলা দেখল সেখানে আরও একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। তো তাকে ভোলা বলল, ‘মশাইদেখুন তোআমি গ্রাম থেকে এসেছি। টাকাও সব শোধ করে দিয়েছি। কিন্তু এই ব্যাটারা কত ছোট্ট একটা ঘর আমাকে দিয়েছে। থাকার কথা ছিল আমার একার কিন্তু এখন দেখছিমশাইআপনিও আমার ঘরে। তারপর ওপরে আবার বিছানা নেইনেই বাতাস ঢোকার কোনো ব্যবস্থা। ব্যাটারা কেমন জোচ্চোর বুঝুন।
এমন সময় হোটেলবয় এসে জানাল, ‘আরে মশাইএটা তো আপনার কক্ষ নয়। এটা তো লিফট।
১৮.
একবার এক অভিনব কৌতুক প্রতিযোগিতার আয়োজন হলো। সর্বমোট ১০০টি কৌতুক বলা হবে। যে ব্যক্তি পুরো ১০০টি কৌতুক শোনার পরও একটুও হাসবে নাতাকে পুরস্কৃত করা হবে। তোএই খবর শুনে ভোলা বন্ধুবান্ধব নিয়ে লাফাতে লাফাতে সেখানে গিয়ে হাজির। ভোলাসহ সব প্রতিযোগী নিজ নিজ আসনে বসে আছে। সামনে চলছে কৌতুক পরিবেশন। কৌতুক শুনে সবাই হো হো করে হাসতে হাসতে একজন একজন করে বাদ পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভোলার মুখে কোনো হাসি নেই। এভাবে ৯৯টা কৌতুক শেষ এর পরও ভোলাকে কেউ হাসাতে পারল না। কিন্তু ১০০ নম্বর কৌতুক শুনেই পেট চেপে ধরে হাসতে হাসতে ভোলা গড়াগড়ি দিচ্ছিল। তার বন্ধুরা তো এবার রেগে অগ্নিশর্মা। পাশ থেকে বলতে লাগল, ‘আরে বুদ্ধুএই শেষবেলায় এসে হাসছিস কেনপুরস্কারটা তো আমাদের হাতছাড়া করে দিলি। সব বরবাদ হয়ে গেল’ ভোলা বলল, ‘আরে দোস্তআমি কী করবএইমাত্র কানে লাগানো ছিপিটা খুলে গেল যে।
১৯.
একবার ভোলার কাছে তার বন্ধু রামের একটি চিঠি এল।চিঠিতে লেখা, ‘ভোলাজিআমি একটা মহা ঝামেলায় পড়েছি তুমি এই ঝামেলা থেকে আমাকে মুক্তি দিতে পারো। দয়া করে যদি তুমি আমাকে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দাওতাহলে খুশি হব আমি। ছয় মাস পরই ধারের টাকা শোধ করে দেব। এই চিঠি পেয়ে ভোলার মাথা তো একদম গরম। ওই ব্যাটা রাম যে একটা জোচ্চোর তা ভালো করেই জানে ভোলা। মরে গেলেও সে কিছুতেই  টাকা শোধ করবে না। মহা চিন্তায় পড়ল ভোলা। ভাবতে ভাবতে হুট করেই বুদ্ধি করলএবার তাকে একটা পাল্টা চিঠি পাঠিয়ে দিই। ভোলা চিঠিতে লিখে দিল, ‘ভাই রামজিআমি খুবই দুঃখিত যেতুমি ১০ হাজার টাকা চেয়ে যে চিঠিটি আমার ঠিকানায় পাঠিয়েছতা হয়তো ভুল করে অন্য কারও কাছে গেছে। তাই সেই চিঠিটি এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। তাই তোমাকে টাকাটা দিতে পারলাম না বলে ক্ষমা কোরো।

No comments:

Post a Comment

Popular Posts