মজার গল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনী, ছোট গল্প, শিক্ষামূলক ঘটনা, মজার মজার কৌতুক, অনুবাদ গল্প, বই রিভিউ, বই ডাউনলোড, দুঃসাহসিক অভিযান, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, রুপকথা, মিনি গল্প, রহস্য গল্প, লোমহর্ষক গল্প, লোককাহিনী, উপকথা, স্মৃতিকথা, রম্য গল্প, জীবনের গল্প, শিকারের গল্প, ঐতিহাসিক গল্প, অনুপ্রেরণামূলক গল্প, কাহিনী সংক্ষেপ।

Total Pageviews

Friday, September 19, 2025

দ্যা টেল টেইল হার্ট – এডগার এলান পো - The Tell-Tale Heart – Edgar Allan Poe – Bangla Translation

 

দ্যা টেল টেইল হার্ট  এডগার এলান পো - The Tell-Tale Heart  Edgar Allan Poe – Bangla Translation


দ্যা টেল টেইল হার্ট এডগার এলান পো - TheTell-Tale Heart Edgar Allan Poe – Bangla Translation

হ্যাঁ, স্নায়বিকভাবে কিছুটা দুর্বল ছিলাম আমি এখনো সে দুর্বলতা আছে, কিন্তু তাই বলে আপনি আমাকে পাগল ভাববেন না! সেই দুর্বলতা আমার সমস্ত ইন্দ্রিয়কে তীক্ষ্ণ, সজাগ করেছে, ভোঁতা করেনি। আর সমস্ত ইন্দ্রিয়ের মধ্যে আমার শ্রবণেন্দ্রিয় এখন সবচেয়ে সজাগ। আকাশ-পৃথিবীর সমস্ত স্বর, সমস্ত ধ্বনি, আমি যেন শুনতে পাই। এমনকি নরকেরও। তাহলে কী করে আমাকে আপনি পাগল বলেন? পাগলেরা কি আমার মতো এমন গুছিয়ে গল্প বলতে পারে?

আমি ঠিক বলতে পারব না, কী করে কথাটা আমার মাথায় এল। কিন্তু একবার মনে হবার পর থেকেই ভাবনাটা দিনরাত আমাকে তাড়া করে ফিরতে লাগল। কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, অন্য কোনো তাড়নাতেও নয়, আমি প্রায় অযথাই সেই বুড়োলোকটাকে ভালোবাসতাম। সে কোনোদিন আমার কোনো ক্ষতি করেনি। আমাকে উপহাস করেনি। তার টাকাপয়সার ওপরেও আমার বিন্দুমাত্র লোভ ছিল না। আমার মনে হয় তার চোখজোড়াই এই চিন্তাটা আমার মাথায় ঢুকিয়ে দেবার মূল কারণ। হ্যাঁ তাই। ওর চোখজোড়া ছিল শকুনের মতো তীক্ষ্ণ, নীলাভ, স্বচ্ছ পরদার আবরণে ঢাকা। যখন সে আমার দিকে তাকাত, রক্ত আমার হিম হয়ে আসত আতঙ্কে। স্থির করলাম ওকে আমি হত্যা করব। ওর ওই চোখ আমি চিরদিনের মতো বুজিয়ে দেব।

এখনো হয়তো আপনি আমাকে পাগল মনে করছেন। কিন্তু পাগল তো কোনো কার্যকারণ সম্বন্ধ না বুঝেই কাজ করে। ভালো করে তলিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন কতখানি চিন্তা করে, কত সাবধানে এবং সন্তর্পণে, পরিণতি ভেবেই আমি এই কাজে অগ্রসর হয়েছি। প্রত্যেক রাতে, রাত যখন গভীর, আমি তার দরজার খিল খুলেছি কত সাবধানে। তারপর দরজায় মাথা গলাবার মতো ফাঁক করে আমার ঢাকা-দেওয়া লণ্ঠনটা এগিয়ে দিয়েছি প্রথমে। এমনিভাবে আলোটা ঢেকে নিয়েছি যাতে কেউ দেখতে না পায় । তারপর মাথা গলিয়ে দিয়েছি। আপনি হয়তো আমার চতুরতার কথা শুনে হাসছেন। কিন্তু মাথাটা গলিয়েছি সত্যিই এমনভাবে যাতে বুড়োলোকটার ঘুম কোনোক্রমেই না ভাঙে। শুধু মাথাটা গলাতেই আমার এক ঘণ্টা লেগেছে। বলুন, কোনো পাগল কি এত ধীরেসুস্থে ভেবে কাজ করতে পারে? তারপর যখন আমার সবটা মাথা ভেতরে গলে গিয়েছে তখন খুব সাবধানে, আরো সাবধানে (দরজায় শব্দ উঠেছিল ক্যাচ করে, তাই) বাতির একদিকের ঢাকনাটা অল্প একটুখানি তুলে ধরেছি। খুব সামান্য, যাতে করে সুতোর মতো একফালি আলো গিয়ে পড়তে পারে তার শকুনের মতো চোখদুটোর ওপর। ঠিক এমনি করে সাত রাত, প্রতিবারই মাঝরাতে আমি আলো ফেলেছি; কিন্তু দুঃখের বিষয় ওর কক্ষ সাত রাতই বন্ধ দেখেছি। তাই সেই কাজটা শেষও আমি করতে পারিনি। ওর ওপর আমার কোনো আক্রোশ ছিল না, ওর শয়তানি চোখজোড়াই ছিল আমার শত্রু। আর প্রত্যেকদিন সকালে ঘুম ভাঙবার পর দৃঢ়পায়ে এগিয়ে যেতাম তার ঘরের দিকে। অন্তরঙ্গ সুরে তার নাম ধরে ডেকে জানতে চাইতাম, কাল রাত তার কেমন গেছে। কাজেই বুঝতে পারছেন তার পক্ষে অনুমান করা কতখানি শক্ত যে, প্রতি রাতে বারোটার সময় আমি তার ঘরে যাই ।

অষ্টম রাতে আমি অন্যদিনের চেয়ে একটু সাবধানে দরজাটা খুললাম। সবকিছু এত আস্তে করছিলাম যে, ঘড়ির মিনিটের কাঁটাও সে তুলনায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে, আমি এতখানি বিচক্ষণতার পরিচয় আর দিইনি। ভাবতে বেশ লাগছিল যে, বেচারা গাঢ় ঘুমে বিভোর হয়ে আমার অভিসন্ধি এতটুকুও টের পাচ্ছে না। হঠাৎ থামলাম । ও কি শুনতে পেয়েছে নাকি? তা না হলে অমন করে, যেন কিছু শুনেছে এমনিভাবে বিছানায় হঠাৎ ও নড়ে উঠল কেন? আপনি হয়তো মনে করছেন, আমি তখন তাড়াতাড়ি পিছিয়ে গিয়েছিলাম? না। তার ঘরে তখন গাঢ় অন্ধকার। এত গাঢ় যে চোখে কিছুই ঠাহর হওয়া সম্ভব নয়। তার ওপর চোরের ভয়ে জানালা সব বন্ধ ছিল। আমি জানি ও আমাকে দেখতে পাবে না এই অন্ধকারে। তাই আমি আস্তে আস্তে দরজার পাল্লা সরাতে শুরু করলাম আবার।

মাথা গলিয়ে আমি লন্ঠনের ঢাকনা খুলতে যাচ্ছি এমন সময় হাত ফসকে গিয়ে মৃদু শব্দ উঠল। আর সাথে সাথে বিছানার উপর লাফ দিয়ে বসে বুড়োটা চিৎকার করে উঠল, কে ও?

আমি উত্তরে কিছুই বলিনি। কেবল এক ঘণ্টা ধরে এমনি নিশ্চল দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছি নিঃশব্দে। আর সে-ও এক ঘণ্টার ভেতরে শোয়নি। ঠায় বসে থেকে কান খাড়া করে শব্দটা আবার শুনবার চেষ্টা করেছে।

এমন সময়ে হঠাৎ মৃদু কাতরানির শব্দ শুনতে পেলাম। কোনো ব্যথা কিংবা দুঃখের জন্য নয়, আতঙ্কিত হয়ে সে কঁকিয়ে উঠল বুকের গভীর থেকে। এ স্বর আমার পরিচিত। রাত যখন গভীর হত আর পৃথিবী যখন ঘুমিয়ে পড়ত তখন ঠিক এমনি স্বর আমি শুনেছি আমার বুকের ভেতরে। আমি সব জানি। একটু যেন করুণা হল বুড়োটার জন্যে। বুঝতে পেরেছিলাম বিছানায় নড়বার পর থেকে এখন অবধি সে কান খাড়া করে জেগে বসে আছে। ভয়ে তার মন কুঁকড়ে এসেছে। চেষ্টা করছে এসব কল্পনাপ্রসূত বলে দূরে সরিয়ে দিতে, কিন্তু পারছে না। নিজে নিজেই বলছে, হয়তো চিমনিতে বাতাস এসে ধাক্কা দিয়ে থাকবে কিংবা একটা ইঁদুর হেঁটে গেছে মেঝে দিয়ে। কিংবা হয়তো ঝিঁঝি পোকাই ডেকে উঠে থাকবে।

এইসব যুক্তি খাড়া করে নিজেকে সাহস দিতে চাইছে সে, বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু বৃথা তার চেষ্টা। সম্পূর্ণ বৃথা। কেননা, মৃত্যু এসে এখন দাঁড়িয়েছে তার সামনে। এখন এসবের কী অর্থ? তার কালো ছায়া তাকে গ্রাস করে ফেলেছে। যদিও সে কিছুই শোনেনি, বা দেখেনি, তবু এই অস্বাভাবিক মোহাবস্থা তাকে উৎকর্ণ করে রাখল। সে অনুভব করতে পারল যে, কিছু একটা তার সামনে তখন দাঁড়িয়ে।

এইভাবে অনেকক্ষণ ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়ে থাকবার পর যখন দেখলাম ও তবু শুয়ে পড়ছে না, তখন ভাবলাম আলোর ঢাকনাটা সামান্য একটু খুলব। আপনি ভাবতে পারবেন না কত সাবধানে, কত নিঃশব্দে, কী কষ্টে, আমি ঢাকনাটা চুল পরিমাণ ফাঁক করলাম। আর তার পরেই মাকড়সার জালের মতো একফালি সূক্ষ্ম আলো গিয়ে পড়ল ওর শকুনের মতো চোখের উপর।

সে চোখ প্রশস্ত, খোলা। সেদিকে তাকিয়ে আমি উন্মাদ হয়ে গেলাম। স্পষ্ট দেখতে পেলাম সেই বীভৎস চোখদুটো। খোলা নীল একটা বীভৎস পরদায় ঢাকা। সমস্ত শরীর আমার কেঁপে উঠল। আমি তার মুখের কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না, কেননা সে আলো শুধু গিয়ে পড়েছিল তার চোখের উপর।

আমি তো আগেই বলেছি আপনারা যাকে আমার উম্মাদের লক্ষণ মনে করছেন তা আমার ইন্দ্রিয়ের সূক্ষ্ম, অতি তীক্ষ্ণ সজাগতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই সময়ে আমি একটা নিচু অথচ দ্রুত শব্দ শুনতে পেলাম। ঘড়িকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখলে যেমন শব্দ ওঠে, ঠিক তেমনি। এ-ও আমার অতি চেনা। বুড়োলোকটার হৃৎপিণ্ডের শব্দ এটা। যেমন ঢাকের শব্দ সৈনিককে সাহসী করে, ঠিক তেমনি আমি ওই শব্দে যেন আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলাম।

তবুও দাঁড়িয়ে রইলাম নিঃশব্দে। নিশ্বাস ফেলছি না। বাতিটা একইভাবে ধরে রাখলাম, যাতে আলোটা তার চোখের উপর থেকে কোনোক্রমে সরে না যায়। এমন সময় হৃৎপিণ্ড তার আরো দ্রুত টিপটিপ শব্দ করে উঠল। প্রতি মুহূর্তে তা দ্রুত থেকে দ্রুততর এবং স্পষ্ট হতে লাগল। নিশ্চয়ই বুড়োটা খুব ভয় পেয়েছে। আরো দ্রুত, হ্যাঁ প্রতি মুহূর্তে আরো দ্রুত হচ্ছে সেই শব্দ। ভালো করে লক্ষ করুন আমার কথা। আমি আগেই বলেছি আমার স্নায়বিক দুর্বলতা আছে। এই গভীর রাত্রিতে তা যেন আরো ভালো করে বুঝলাম। পুরনো এই বাড়ির স্তব্ধতায় এই দুরন্ত শব্দ আমাকে ভীত আতঙ্কিত করে তুলল। তবু কয়েক মুহূর্ত আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। কিন্তু হৃৎপিণ্ড তার আরো, আরো দ্রুত চলছে। বোধহয় এখনি ফেটে যাবে। ভয় হল, আশপাশের সবাই তার বুকের এই টিপটিপ শব্দ হয়তো শুনে ফেলছে। তাই সহসা বাতিটা পুরোপুরি খুলে চিৎকার করে ঘরের ভেতরে লাফিয়ে পড়লাম। একবার সে আর্তনাদ করে উঠল। কিন্তু মাত্র একবারই। পরমুহূর্তেই আমি তাকে টেনে মেঝেতে ফেলে বুকের উপর তার ভারি বিছানাটা চেপে ধরলাম। যাক এ পর্যন্ত কাজটা করতে পেরেছি ভেবে একবার হেসে নিলাম। তারপরও কয়েক মিনিট ধরে তার হৃৎপিণ্ডের শব্দ শোনা গেল। কিন্তু ভয় পাবার কিছু নেই। দেয়ালের ও পাশ থেকে কেউ শুনতে পায় না। আস্তে আস্তে শব্দটা থেমে গেল। বুড়োলোকটা মরে গেছে। বিছানা সরিয়ে পরীক্ষা করে দেখলাম আমি। পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে তার দেহ। তার বুকের উপর অনেকক্ষণ ধরে হাত রাখলাম। না, চলছে না। তার চোখ আর আমাকে তাড়া করবে না।

যদি এখনো আমাকে পাগল মনে করেন, তাহলে এবার কী বুদ্ধি করে মৃতদেহটা সরিয়েছি, শুনলে আর তা মনে করবেন না। সারারাত অদ্ভুত ক্ষিপ্রতার সাথে কাজটা করেছি। প্রথমে টুকরো টুকরো করে কেটেছি দেহটা, দুটো হাত আর পা। তারপর মেঝের পাটাতন থেকে তিনটে তক্তা তুলে তার নিচে লুকিয়ে ফেলেছি টুকরোগুলোকে। তারপর এত সাবধানে জোড়া মিলিয়ে তক্তাগুলো আবার পেতেছি যে, কেউ, এমনকি বুড়োটার চোখও যেন কিছুই সন্দেহ করতে না পারে। কোনো রক্ত পড়েনি, কিছু ধুতে হবে না আমাকে। সেদিকে আমি বরাবরই সতর্ক ছিলাম। পানির একটা বড় পাত্রই যথেষ্ট ছিল তার পক্ষে। হাঃ হাঃ হাঃ! যখন সব কাজ শেষ হল তখন রাত চারটে। বাইরে তখনো গভীর রাত্রির মতো অন্ধকার। ঘড়িতে ঢং ঢং করে ঘন্টা পড়বার সাথে সাথে আমি রাস্তার দরজায় টোকা পড়বার শব্দ শুনতে পেলাম। আমি স্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে এলাম। কিসের জন্যে আমি ভয় করতে যাব? তিনজন লোক ঢুকল। মিষ্টি সুরে পরিচয় দিল তারা পুলিশের লোক বলে। প্রতিবেশীরা নাকি রাত্রে একটা চিৎকার শুনতে পেয়ে সন্দেহক্রমে পুলিশে খবর দিয়েছে। আর তাই ওরা এসেছে বাড়িটা খানাতল্লাশি করে দেখতে।

আমি হাসলাম। হাসব না কেন? কেন, ভয় কিসের? তাদের সাদরে ভেতরে নিয়ে এলাম। বললাম, স্বপ্নের ঘোরে আমিই চিৎকার করে উঠেছিলাম মাঝরাতে। আর বুড়োলোকটা বর্তমানে এখানে নেই। বাইরে গ্রামে বেড়াতে গেছে। তবে যদি তল্লাশি করতে চান করুন।

ভেতরে সবখানে নিয়ে গেলাম তাদের। অবশেষে সবাই এসে ঢুকলাম বুড়োর কামরায়। দেখলাম তার জিনিসপত্র সবই ঠিক আছে। কিছুই নড়চড় হয়নি। তাদের আরো বিশ্বাস করাবার জন্যে এ ঘরেই চেয়ার এনে বললাম কিছুক্ষণ বিশ্রাম করতে। আর আমি নিজে একটা চেয়ার টেনে নিলাম মেঝের ঠিক সেই জায়গায় যার নিচে ওর মৃতদেহটা রয়েছে।

পুলিশের লোক সব দেখে সন্তুষ্ট। আমার আচরণ তারা স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছে। আমি আরাম করে চেয়ারে সহজ ভঙ্গিতে বসে ছিলাম। আলোচনা করছিলাম ছোটখাটো অন্যান্য ব্যাপার নিয়ে।

হঠাৎ আমার রক্ত হিম হয়ে এল। ইচ্ছে হল ওদের চলে যেতে বলি। মাথাটা যেন কেমন ঘুরছে। কানে বিচিত্র শব্দ শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু তবুও ওরা বসে। তবুও ওরা কথা বলছে। অবশেষে শব্দটা স্পষ্ট হয়ে এল। ক্রমে আরো স্পষ্ট হল। আমি সহজ হবার জন্যে তাদের সাথে বেশি করে কথা বলতে লাগলাম। কিন্তু না, শব্দটা বেড়েই চলেছে। অবশেষে বুঝতে পারলাম আমার কানের ভেতর নয়, অন্য কোনোখান থেকে এর উৎপত্তি।

সন্দেহ নেই আমার মুখ তখন সাদা হয়ে গিয়েছিল। শব্দটা কেবলি বাড়ছে। আমি উঁচু গলায় দ্রুত কথা বলে চলেছি। কিন্তু কী করব? একটা চাপা অথচ দ্রুত শব্দ যে বেড়েই চলেছে। ঘড়িকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখলে যেমন শব্দ ওঠে, ঠিক তেমনি। জোরে নিশ্বাস টানলাম, ওরা তা শুনতে পেল না। আরো দ্রুত কথা বলতে লাগলাম। কথার তোড়ে সবকিছুই ভাসিয়ে নিতে চাইলাম। কিন্তু শব্দটা বেড়েই চলেছে। কিন্তু কেন ওরা চলে যাচ্ছে না? আমি মেঝের উপর উত্তেজিতভাবে পায়চারি করতে লাগলাম। তবুও শব্দটা শোনা যাচ্ছে। কী করব! আমার মাথায় আগুন ধরে এল। দাঁত চেপে এল ক্রোধে। আমি চেয়ারটাকে টানাটানি করলাম কয়েকবার মেঝেয় বিশ্রী শব্দ করে। তবুও সেই শব্দটা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।

হ্যাঁ, বাড়ছে সেই শব্দটা। আরো, আরো স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমে ক্রমে। কিন্তু ওরা তেমনি গল্প করছে, হাসছে। তাহলে ওরা কি কিছুই শুনতে পায়নি? না, না, তা হতে পারে না। ওরা শুনেছে। ওরা সন্দেহ করেছে। ওরা জানতে পেরেছে। ওরা আমার ভীত অবস্থা দেখে হাসছে, উপহাস করছে। অন্তত আমার তাই মনে হল। কিন্তু এই দমবন্ধ অবস্থা তো আর সহ্য হয় না। এই হাসির চেয়ে অন্য যে কোনোকিছু ভালো বলে মনে হল। আমি চিৎকার করে উঠব কিংবা মরে যাব এখুনি। আবার, আবার, সেই শব্দ আবার দ্রুত, দ্রুততর। আস্তে আস্তে স্পষ্ট হচ্ছে।

চিৎকার করে উঠলাম 'শয়তানের দল আর ভান করবার দরকার নেই। হ্যাঁ আমি। আমিই খুন করেছি। মেঝের তক্তা তুলে দেখ। এই যে, এখানে, এখানে। এ শব্দ ওর, ওরই হৃৎপিণ্ডের।'

অনুবাদ : মহীউদ্দীন আহমেদ

No comments:

Post a Comment

Popular Posts