মজার গল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনী, ছোট গল্প, শিক্ষামূলক ঘটনা, মজার মজার কৌতুক, অনুবাদ গল্প, বই রিভিউ, বই ডাউনলোড, দুঃসাহসিক অভিযান, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, রুপকথা, মিনি গল্প, রহস্য গল্প, লোমহর্ষক গল্প, লোককাহিনী, উপকথা, স্মৃতিকথা, রম্য গল্প, জীবনের গল্প, শিকারের গল্প, ঐতিহাসিক গল্প, অনুপ্রেরণামূলক গল্প, কাহিনী সংক্ষেপ।

Total Pageviews

Thursday, May 20, 2021

অনুবাদ গল্প – জার্নালিজম ইন টেনেসি – মার্ক টোয়েন - Bengali translation - Journalism in Tennessee – Mark Twain

 

অনুবাদ গল্প,জার্নালিজম ইন টেনেসি,মার্ক টোয়েন,Journalism in Tennessee,Mark Twain

অনুবাদ গল্প জার্নালিজম ইন টেনেসি মার্ক টোয়েন - Journalism in Tennessee Mark Twain

ডাক্তার আমাকে বলেছিল দক্ষিণ অঞ্চলের আবহাওয়ায় আমার স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, আর সেই জন্যই আমি টেনেসি-তে চলে গেলাম। সেখানে "মণিং গ্লোরি অ্যাণ্ড জনসন কাউন্টি ওয়ার-হুপ"-এ (Morning Glory and Johnson County War-Whoop) সহযোগী সম্পাদকের চাকরিটাও পেয়ে গেলাম। কাজে যোগ দিতে গিয়ে দেখলাম, প্রধান সম্পাদক একটা তিন-পাওয়ালা চেয়ারে হেলান দিয়ে পাইন কাঠের টেবিলে পা তুলে দিয়ে বসে আছে। ঘরে আরও একটা পাইন কাঠের টেবিল একখানা কষ্টকর চেয়ার ছিল! দুটোই খবরের কাগজ, ছেড়া কাগজ পাণ্ডুলিপিতে অর্ধেক ঠাসা। বালি-ভর্তি একটা কাঠের বাক্সও ছিল; সেটাও সিগারেটের অবশিষ্টাংশ "ওল্ড সোলজার"-এ (old soldiers) বোঝাই। আর ছিল একটা। স্টোভ; তার পাল্লাটা উপরের কব্জার সঙ্গে ঝুলে আছে। প্রধান সম্পাদকের পরনে লন্বা লেজওয়ালা কালো সুতির ফ্রককোট সাদা সুতির প্যান্ট। পায়ে পরিষ্কার কালি-করা ছোট জুতো একটা দুমড়ানো শাল, আঙুলে বড় শিলা-আংটি, অপ্রচলিত খাড়া কলার, আর ঝুলে-পড়া চৌখুপিকরা গলাবন্ধ (neckerchief)। পোশাক-পরিচ্ছদ একেবারে ১৮৪৮ সালের। সিগারেট টানতে টানতে সে একটা শব্দের কথা ভাবছিল আর মাথার চুল টানছিল। এমন ভয়ংকরভাবে সে চোখ-মুখ কুঁচ কাচ্ছিল যে আমার মনে হল সে একটা জটিল সম্পাদকীয় প্রবন্ধের খসড়া তৈরি করছে। সে আমাকে বলল, সবগুলো খবরের কাগজ একসঙ্গে নিয়ে সেগুলো ভাল করে পড়ে তার দরকারী সারাংশ নিয়ে "টেনেসি সংবাদপত্রের মর্মকথা" শীর্ষক একটি প্রবন্ধলিখে ফেলতে। 

আমি এই রকম লিখলাম: 

টেনেসি সংবাদপত্রের মর্মকথা 

"অর্ধ সাপ্তাহিক 'আর্থকোয়েক'-এর সম্পাদকগণ ড্যালিহ্যাক (Dallyhack) রেলপথ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করেন। বুজাউভিল-কে (Buzzardville off) পাশ কাটিয়ে যাওয়া কোম্পানীর উদ্দেশ্য নয়। বরং জায়গাটিকে তারা এই রেলপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল বলে মনে করেন, আর তাই জায়গাটি কে উপেক্ষা করবার কোন ইচ্ছা তাদের থাকতে পারে না। আশা করি, আর্থকোয়েক-এর ভদ্রমহোদয়গণ সানন্দে এই ভুলটুকু সংশোধন করে নেবেন। 

 

'হিগিন্সভিল (Higginsville) থাণ্ডারবোল্ট অ্যাণ্ড ব্যাটু ক্রাই অব ফ্রীডম' (Thunderbolt and Battle Cry of Freedom)-এর সুযোগ্য সম্পাদক জন ডব্লু. ব্লোসম, এস্কোয়ার, (John W. Blossom, Esq.) গতকাল এই শহরে এসেছেন। তিনি 'ভ্যান ব্যুরেন (Van Buren) হাউস'- উঠেছেন। 

আমরা বলতে চাই যে 'মাড স্প্রিংস মর্ণিং হউল' (Mud Springs Morning Howl ) পত্রিকার সম্পাদক বন্ধুটি ভ্যান ওয়ার্টার-এর নির্বাচনের সংবাদটি সঠিক নয় বলে যে মন্তব্য করেছেন সেটা ভুল। আশা করি আমাদের এই বক্তব্য তার কাছে পৌঁছবার আগেই তিনি তার ভুল ধরতে পেরেছেন। নির্বাচনের 

অসম্পূর্ণ ফলাফলের জন্যই যে তিনি ভুলটি করেছিলেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। 

ব্ল্যাথার্সভিল (Blathersville) শহুরে তার প্রায় অচল রাস্তাগুলিকে নিকলসন (Nicholson pavement) পাথর দিয়ে পাকা করে দেবার জন্য নিউ ইয়র্ক-এর কতিপয় ভদ্রলোকের সঙ্গে চুক্তি করবার চেষ্টা করছে জেনে আমরা আনন্দিত। 'দি ডে লি হুররা" (The Daily Hurrah) পত্রিকা এই ব্যবস্থাকে খুবই জরুরী বলে বর্ণনা করে এর চুড়ান্ত সাফল্য সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।" 

আমার পাণ্ডুলিপিকে গ্রহণ, সংশোধন বা বর্জনের (acceptance, alteration, or destruction) জন্য প্রধান সম্পাদকের কাছে পেশ করলাম। সেটা দেখতে দেখতে তার মুখ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে উঠল। পাতাগুলোর উপর চোখ বুলিয়ে তার মুখ ভ্রকুটি কুটিল হয়ে উঠল। সহজেই বোঝা গেল পরিস্থিতি ভাল নয়। এমন সময় লাফিয়ে উঠে সে বলল: 

"বজ্র বিদ্যুৎ! (Thunder and lightning) আপনি কি মনে করেন, এই সব গুরুদের সম্পর্কে আমি এভাবে কথা বলব? আপনি কি মনে করেন আমার, গ্রাহকরা (subscribers) এই সব বাজে মাল সহ্য করবে? দিন আমাকে কলমটা!" 

একটা কলম যে এত ভয়ংকরভাবে কাটাকুটি (scrape and scratch) করতে পারে, বা এমন নিরংকুশভাবে অন্য কারও ক্রিয়াপদ বিশেষণ পদের উপর চেয়ে বেড়াতে পারে তা আগে কখনও দেখি নি। সে যখন এইভাবে তার কাজে ব্যস্ত ছিল তখন কে যেন তাকে লক্ষ্য করে খোলা জানালা দিয়ে গুলি করল। 

সে বলে উঠল, অন্য কারও ক্রিয়াপদ বিশেষণ পদের উপর চেয়ে বেড়াতে পারে তা আগে কখনও দেখি নি। সে যখন এইভাবে তার কাজে ব্যস্ত ছিল তখন কে যেন তাকে লক্ষ্য করে খোলা জানালা দিয়ে ছুড়ল। 

সে বলে উঠল, "ওঃ, ওই তো 'মরাল ভলকানো' (Moral Volcano) পত্রিকার সেই শয়তান (scoundrel) স্মিথ-কাল তার আসবার কথা ছিল।"

দ্রুত হাতে বেল্ট থেকে নৌ-বাহিনীর রিভলবারটা তুলে নিয়ে সেও গুলি ছুঁড়ল। উরুতে গুলি লেগে স্মিথ পড়ে গেল। ফলে স্মিথ-এর দ্বিতীয়বার গুলি করার চেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হল এবং একটি অপরিচিত লোককে পঙ্গু করে দিল। সেই লোক আমি। একটা আঙুল স্রেফ উড়ে গেল। 

তখন প্রধান সম্পাদক আবার আমার লেখাটার পরিবর্তন পরিবর্ধনের (erasure; and interlineations) কাজে লেগে গেল। কাজটা সবে শেষ হয়েছে এমন সময় একটা হাত-বোমা স্টোভের পাইপ বেয়ে নেমে এমনভাবে ফার্টল যে স্টোভটা টুকরো-টুকরো হয়ে গেল। যা হোক, একটা টুকরো ছিটকে এসে আমার দুটো দাঁতকে উড়িয়ে দেওয়া ছাড়া আর বিশেষ কোন ক্ষতি হল না। 

"স্টোভটা একেবারেই নষ্ট হয়ে গেল," প্রধান সম্পাদক বলল। 

আমারও যে সেই মত সেটা জানালাম। 

"ঠিক আছে। কাজ যে করেছে তাকে আমি চিনি। তাকে ঠিক হাতের মধ্যে পাব। হ্যাঁ, ঠিক এইভাবেই সব জিনিস লিখতে হয়।" 

পাণ্ডুলিপিটা হাতে নিলাম। মোছামুছি, কাটাকাটি রদ-বদলের পরে তার যা চেহারা দাঁড়িয়েছে তাতে তার মা থাকলে সেও তাকে চিনতে পারত না। এখন লেখাটা এই রকম দাঁড়িয়েছে। 

টেনেসি সংবাদপত্রের মর্মকথা 

"অর্ধ সাপ্তাহিক 'আর্থকোয়েক' পত্রিকার মেরুদণ্ডহীন মিথ্যাবাদীর দল পুনরায় উনবিংশ শতাব্দীর গৌরবময় পরিকল্পনা ড্যালিহ্যাক (Dallyhack) রেলপথ প্রসঙ্গে একদল মহৎ উদ্যোগশীল মানুষের বিরুদ্ধে তাদের নীচ জঘন্য মিথ্যার পশরা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে। এই উদ্যোগে বুজার্ড ভিলকে উপেক্ষা করা হচ্ছে-এই ধারণাটি তাদের নির্বোধ মস্তিষ্ক-অথবা তাদের মস্তকের যে জায়গাটাকে তারা মস্তিস্ক বলে মনে করে সেখান থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। তাদের সরীসৃপসুলভ দেহে যে গো-চর্মের কশার আঘাত তাদের একান্ত প্রাপ্য তা থেকে নিজেদের বাঁচাতে হলে তারা যেন অবিলম্বে এই মিথ্যা প্রচারকে প্রত্যাহার করে নেয়। 

'হিগিন্সভিল থাণ্ডারবোল্ট অ্যাণ্ড ব্যাটল-ক্রাই অব ফ্রিডম পত্রিকার সেই ব্লসম নামক গাধাটি পুনরায় এখানে হাজির হয়ে ভন বুরেন- ঘাস খাচ্ছে। 

আমরা বলতে চাই, 'মাড স্প্রিং মণিং হাউল' পত্রিকাটির নির্বোধ বদমাশটি তার স্বাভাবিক অমৃতভাষণের প্রবৃত্তিবশেই গেয়ে বেড়াচ্ছে যে ভ্যান ওয়ার্টার নির্বাচিত হন নি। সত্য প্রচার, সর্ব প্রকার মূলোচ্ছেদ করা, জনসাধরণের নৈতিক চরিত্র আচরণেকে সুশিক্ষিত করা, সংস্কৃতিবান করা, উন্নত করা, এবং মানুষকে আরও ভদ্র, আরও ধর্মানুগ করে তোলা, এবং সর্বতোভাবে মানুষকে মহত্তর, পবিত্রতর আরও সুখী করাই সাংবাদিকতার ঈশ্বর-নির্দিষ্ট আদর্শ, অথচ হীন-চরিত্র বদমাশটি অনবরত মিথ্যারটনা, কুৎসাপ্রচার, অকারণ কটুক্তি অশালীন ব্যবহারের দ্বারা সেই মহান মর্যাদা বিকীর্ণ করছে 

ব্ল্যাথার্সভিল শহর নিকলসন পাথরের পাকা রাস্তা চাইছে-চাইছে আরও একটি করে কারাগার অনাথ আশ্রম। যে এক ঘোড়ার শহরে আছে মাত্র দুটি মদের ভাটি, একটা কামারশালা, আর আর তেল-মালিশ করা খোসামুদে সংবাদপত্র 'ডেইলি হুরা'-হায়রে; সেখানে আবার পাকা রাস্তার স্বপ্ন; আর যে পায়ে-হঁটা ফড়িং বাকনার যে 'হুরু' সম্পাদনা করে, সে আবার তার স্বভাবসিদ্ধ অক্ষমতাবশত ব্যাপারে গাধার মত চেঁচাতে শুরু করেছে আর ভাবছে না জানি কত বড় বুদ্ধিমানের মতই কথা বলছে।" 

 

"ঠিক এইভাবে লিখতে হয়-যেমন সঠিক তেমনই লংকার ঝলি।" 

ঠিক সেই সময় একটা থান ইট জানালার কাচ ভেঙে আমার পিঠে এসে পড়ল। আমি ছিটকে একপাশে সরে গেলাম-ব্যথাও পেলাম। 

প্রধান বলল, "ওটা নিশ্চয় কর্নেল হবে। দু'দিন ধরে তার জন্য অপেক্ষা করছি। এক্ষুণই এসে পড়বে।" 

ঠিক তাই। অশ্বারোহী সৈনিকদের রিভলবার হাতে কর্নেল দরজায় দেখা দিল। 

বলল, "এই বাজে কাগজখানা যিনি সম্পাদনা করেন সেই কাপুরুষের সঙ্গে কথা বলবার সৌভাগ্য কি আমার হয়েছে স্যার?" 

"তা হয়েছে। দয়া করে আসন গ্রহণ করুন স্যার। সাবধানে বসবেন, চেয়ারের একটা পা কিন্তু নেই। আমি কি পচা মিথ্যাবাদী (putrid liar) কর্নেল ব্ল্যাথারসুইট টেকুমেশ- (Colonel Blatherskite Tecumseh)এর সঙ্গে কথা বলবার সৌভাগ্য অর্জন করেছি?" 

"ঠিক ধরেছেন স্যার। আপনার সঙ্গে একটি ছোট খাট হিসাব মিটিয়ে নিতে চাই। আপনার যদি সময় হয় তাহলে এখনই শুরু করি।" 

"অবশ্য 'আমেরিকায় নৈতিক বৌদ্ধিক (Moral and Intellectual ) উন্নতির উৎসাহজনক অগ্রগতি' উপর লেখা প্রবন্ধটি শেষ করতে এখনও আমার বাকি আছে; তা হোক, নিয়ে কোন তাড়া নেই। শুরু করুন।" 

মুহূর্তের মধ্যে দুটো পিস্তল একসঙ্গে ভীষণ শব্দে গর্জে উঠল। প্রধানের একগাছি চুল নষ্ট হল, আর আমার উরুর মাংসের মধ্যে কর্নেলের বুলেটের ভবলীলা সাঙ্গ হল। কর্নেলের বাঁ কাধটা খানিকটা কেটে গেল। তারা আবার গুলি ছুড়ল। এবার দু'জনের গুলিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হল, কিন্তু আমার প্রাপ্য আমি পেলাম-আমার বাহুতে গুলি লাগল। তৃতীয়বার গুলি চালানোর ফলে দু'জনই সামান্য আহত হলাম, আর আমার আঙুলের গাঁট কেটে গেল। তখন আমি বললাম, যেহেতু এটা একটা ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার এবং আমার পক্ষে আর এতে অংশ নেওয়াটা ভাল দেখায় না, সেজন্য বাইরে গিয়ে আমি একটু হেঁটে বেড়াতে চাই। কিন্তু দুটি ভদ্রলোকই আমাকে আসন গ্রহণ করতে অনুরোধ করে জানাল যে আমার উপস্থিতি কোন রকম বিঘ্ন সৃষ্টি করছে না। 

তারপর তারা নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা বলতে লাগল, আর আমি আমার ক্ষতস্থানগুলি বাঁধবার কাজে লেগে গেলাম। কিন্তু ততক্ষণে তারা আবার নতুন উৎসাহে গুলি ছুড়তে শুরু করল, আর প্রতিটি গুলিই বেশ কার্যকর হল-কিন্তু এখানে বলা দরকার যে 'টা গুলির পাঁচটার ফল ভোগ করতে হল আমাকে। ষষ্ঠ গুলিতে কর্নেল মারাত্মকভাবে আহত হয়ে সহাস্যে বলল যে তাকে এখন বিদায় নিতে হবে কারণ শহরের অন্যত্র তার কাজ রয়েছে। মুদাফরাসের কাছে কি ভাবে যাওয়া যায় সেই খোঁজ-খবর নিয়ে সে চলে গেল। 

প্রধান আমার দিকে ফিরে বলল, "খাবার সময় সে আবার এসে হাজির হবে। আর আমাকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। আপনি যদি প্রুফ গুলো দেখে দেন এবং খদ্দেরদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন তাহলে উপকৃত হব।" 

খদ্দেরদের দেখাশোনা করার কথা ভেবে কিছুটা সংকোচ বোধ করলেও এইসব গুলি-গোলার শব্দে আমি এতই বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম যে কোন কথাই মুখ দিয়ে বের হল না। 

সে বলতে লাগল, 'তিনটে নাগাদ জোন্স আসবে-তাকে আচ্ছা করে চাবকাবেন, গিলেসৃপি হয়তো আরও আগে আসবে-তাকে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেবেন-ফার্গুসন আসবে চারটে নাগাদ-'তাকে খুন করবেন-বাস, আজকের মত এই কাজ। তারপরেও যদি হাতে সময় থাকে তো পুলিশদের নিয়ে একটা গরম-গরম প্রবন্ধ লিখতে পারেন-বড় সাহেবকে একহাত নেবেন। চামড়ার চাবুক গুলো টেবিলের নীচে আছে; অস্ত্রশস্ত্র আছে দেরাজে-বারুদ আছে কোণে-তুলো ব্যাণ্ডেজ রয়েছে ওখানকার খোপে। দুর্ঘটনা কিছু ঘটলে নীচে সার্জন ল্যান্সেট -এর কাছে যাবেন।" 

সে তো চলে গেল। আমি ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। তারপর তিন ঘণ্টা ধরে যে বিপদের ঝড় আমার উপর দিয়ে বয়ে গেল তাতে আমার সব শান্তি, সব আনন্দ মিলিয়ে গেল। গিলেসৃপি এসে আমাকেই জানালা দিয়ে ছুড়ে দিল। জোন্সও যথাসময়েই হাজির হল, আর যখন তাকে চাবুক মারতে গেলাম তখন উল্টে সে কাজটা সেই তার হাতে নিয়ে নিল। তালিকার বাইরে জনৈক নবাগতের সঙ্গে সংঘর্ষে আমার খুলিটাই উড়ে গেল। টমসন নামক আর একজন নবাগত আমাকে একেবারে তুলোধোনা করে রেখে গেল। এবং শেষপর্যন্ত এক দঙ্গল সম্পাদক, দলত্যাগী, রাজনীতিক ও গুণ্ডার ক্রুদ্ধ বাহিনী এসে এমনভাবে গালাগালি শুরু করল এবং আমার মাথার উপর এমনভাবে তাদের অস্ত্রশস্ত্র ঘোরাতে লাগল যে বাতাসে শুধু ইস্পাতের ঝলকানিই চোখে পড়তে লাগল; পর্যদস্ত অবস্থায় এককোণে সরে গিয়ে একখানা কাগজে চাকুরীতে ইস্তফা-পত্র লিখতে গিয়েছি এমন সময় একদল উৎসাহী বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান সম্পাদক এসে হাজির হল। তখন এমন একটা দাঙ্গা-হাঙ্গামা নারকীয় কাণ্ডকারখানা শুরু হয়ে গেল যার বিবরণ কোন মানুষের হাতের কলম-তা সে কলম ইস্পাতের তৈরি হলেও-দিতে পারে না। গুলি করা হল, হাত-পা কাটা হল, উড়িয়ে দেওয়া হল, জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলা হল। খিস্তি-খেউড়ের ঝড় বয়ে গেল; চলল বেপরোয়া যুদ্ধের নাচ। তারপরেই সব শেষ। পাঁচ মিনিটের মধ্যে সব চুপচাপ।। রক্তাক্ত প্রধান সম্পাদক আমি বসে পড়ে মেঝেতে ছড়ানো রক্তাপ্লুত ধ্বংসস্তুপ দেখতে লাগলাম। 

সে বলল, "একবার অভ্যাস হয়ে গেলে সব দেখতে আপনার ভালই লাগবে।" 

আমি বললাম, "আমাকে মাফ করতে হবে; হয় তো কিছুদিন পরে আপনার পছন্দমাফিক লেখা আমি লিখতে পারব; কিছুটা অনুশীলন করলে এবং ভাষাটা ভাল করে শিখে নিলে নিশ্চয়ই পারব। কিন্তু সত্য কথা বলতে কি, সে ধরনের লেখার ক্ষমতার আবার কতকগুলি অসুবিধা আছে। সেটা তো আপনি নিজেও বুঝতে পারছেন। জোরদার লেখা যে মানুষকে উন্নত করে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু তার ফলে মানুষের যে রকম অতি আগ্রহের সৃষ্টি হয় সেটা আমি চাই না। আজ যে রকমটা ঘটেছে ধরনের বাধা-বিঘ্নের মধ্যে আমি আরাম করে লিখতে পারি না। চাকরিটা আমার খুবই পছন্দ, কিন্তু এখানে থেকে খদ্দেরদের মোকাবিলা করাটা আমার মোটেই পছন্দ নয়। স্বীকার করছি, অভিজ্ঞতাগুলি বেশ নতুন মনোগ্রাহী, কিন্তু তার ফলাফলটা সমুচিতভাবে বণ্টিত হয় না। কোন ভদ্রলোক জানালা দিয়ে গুলি করলেন আপনাকে, আর খোড়া হই আমি; স্টোভের পাইপ বেয়ে একটি বোমার খোল নেবে আসে আপনার তুষ্টিবিধানের জন্য, আর স্টোভের পাল্লাটা ঢুকে যায় আমার গলায়; বন্ধু হাজির হয় আপনার সঙ্গে কুশল-বিনিময় করতে, আর বুলেটের গর্তে চিত্র-বিচিত্র হয়ে ওঠে আমার চামড়া; আপনি চলে যান খেতে, আর জোন্স এসে আমাকে চাবুক মারে, গিলেপি আমাকে। জানালা দিয়ে ছুড়ে দেয়, টু মনস আমার জামা-কাপড় খুলে নেয়; অপরিচিত লোক এসে পুরনো বন্ধুর মত মাথায় চুটি মেরে খুলিটাই উড়িয়ে দেয়; আর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দেশের যত বদমাশের দল রণসাজে সেজে এসে হাজির হয়ে আমার যেটুকু অস্তিত্ব তখনও অবশিষ্ট থাকে তার উপর রণ-কুঠার চালায়। মোট কথা, আজকের মত এমন মজার দিন আমার জীবনে আর কখনও আসে নি। না; আপনাকে আমার ভাল লেগেছে; ভাল লেগেছে খদ্দেরদের সঙ্গে আপনার অবিচলিত শান্ত আচরণ, কিন্তু বুঝতেই তো পারছেন আমি এতে অভ্যস্ত নই। দক্ষিণীরা বড় বেশী আবেগপ্রধান; নবাগতের প্রতি দক্ষিণী আতিথেয়তার প্রাচুর্য বড়ই বেশী। যে কয়টি অনুচ্ছেদ আজ আমি লিখেছি, এবং যার উপর আপনার সক্ষম হাতে টেনেসীয় সাংবাদিকতার মর্মকথার আন্তরিক স্পর্শ লেগেছে, তার ফলে আর একটি ভীমরুলের চাকেও নিশ্চয় খোঁচা লাগবে। সেই সম্পাদকের দল এখানে আসবে-ক্ষুধার্ত হয়ে আসবে, আর প্রাতরাশের জন্য নিশ্চয় কারও খোঁজ করবে। কাজেই আপনাকে জানাই বিদায়-সম্ভাষণ। সে উৎসবে উপস্থিত থাকবার বাসনা আমার নেই। স্বাস্থ্যের জন্য দক্ষিণে এসেছিলাম, আবার সেই একই কারণে ফিরে যাচ্ছি; টেনেসীয় সাংবাদিকতা আমার পক্ষে বড়ই গুরুপাক।” 

তারপর দু'জনেই দুঃখিত মনে বিদায় নিলাম; আমি বাসা নিলাম হাসপাতালে। 

 

No comments:

Post a Comment

Featured Post

সুইসাইড – থ্রিলার গল্প - রবিন জামান খান – Suiside - Thiller story Bangla

  Thiller story Bangla,থ্রিলার গল্প, সুইসাইড সুইসাইড – থ্রিলার গল্প - রবিন জামান খান – Suiside - Thiller story Bangla দৌড়াতে দৌড়াতে মি...