মজার গল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনী, ছোট গল্প, শিক্ষামূলক ঘটনা, মজার মজার কৌতুক, অনুবাদ গল্প, বই রিভিউ, বই ডাউনলোড, দুঃসাহসিক অভিযান, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, রুপকথা, মিনি গল্প, রহস্য গল্প, লোমহর্ষক গল্প, লোককাহিনী, উপকথা, স্মৃতিকথা, রম্য গল্প, জীবনের গল্প, শিকারের গল্প, ঐতিহাসিক গল্প, অনুপ্রেরণামূলক গল্প, কাহিনী সংক্ষেপ।

Total Pageviews

Tuesday, May 4, 2021

বাংলা অনুবাদ গল্প - সাম প্যাসেজেস ইন দ্যা লাইফ অফ আ লায়ন – এডগার অ্যালান পো - Some passages in the life of a Lion – Edgar Allan Poe – Bangla Translation

 

বাংলা অনুবাদ গল্প  এডগার অ্যালান পো - Some passages in the life of a Lion – Edgar Allan Poe – Bangla Translation

বাংলা অনুবাদ গল্প - সাম প্যাসেজেস ইন দ্যা লাইফ অফ লায়নএডগার অ্যালান পো - Some passages in the life of a Lion – Edgar Allan Poe – Bangla Translation

মূল গঠনা - ইংরেজিতে পড়তে চাইলে ক্লিক করুন

আমি হচ্ছি, মানে, ছিলাম একজন মহাপুরুষ, কিন্তু জুনিয়াস-এর (Junius) লেখক আমি নই, কোনও রকম মুখোশও আমার নেই (man in the mask) যতোদূর মনে পড়ে, আমার নাম রবার্ট জোন্স (Robert Jones), ফাম-ফাজ (Fum-Fudge) শহরেরই কোথাও আমার ন্ম

জন্মাবার সঙ্গে সঙ্গে দুহাতে নিজের নাক চেপে ধরেছিলাম আমি আর তাই দেখে মা বলেছিল, আমি একটি ক্ষণ প্রতিভা (genius) আর সুখের কান্না কাঁদতে কাঁদতে বাবা কিনে দিয়েছিল একখানা ডাক্তারি বই (treatise on Nosology) ফুলপ্যান্ট পরা শুরু করার আগেই বইটা প্রায় মুখস্থ করে ফেলেছিলাম আমি (breeched)

তবে, শুধুমাত্র এই একটা বই পড়েই বিজ্ঞানের চর্চা আমার থামল না ক্রমে ক্রমে বিজ্ঞানের গুঢ় থেকে গুঢ় তম শাখায় শুরু হল আমার বিচরণ এবং এক পর্যায়ে আমি বুঝতে পারলাম, কেবল দৃষ্টি আকর্ষণ করার মত একটা নাক থাকলেই একজন মানুষ সমাজে সিংহের মর্যাদা (Lionship) লাভ করতে পারে কিন্তু শুধু তত্ত্ব জেনে হাত গুটিয়ে বসে থাকার বান্দা আমি নই তাই নাকটাকে (proboscis) খাড়া করার জন্য প্রতিদিন সকালে নাকের ডগা ধরে গোটাদুয়েক টান দিতে (couple of pulls) লাগলাম, সেইসঙ্গে চলল ছয় ঢোক করে মদ (swallowed a half dozen of drams)  

বড় হবার পর একদিন বাবা আমাকে নিয়ে গেল তার ষ্টাডি রুমে দুজনে বসার পর বাবা জানতে চাইল, তোমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য কি (chief end of your existence)?  

-নাসিকাবিজ্ঞান (study of Nosology), বাবা, জবাব দিলাম আমি

-সেটা আবার কী, রবার্ট?

-যে বিজ্ঞান নাকের ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায় (Science of Noses)

-নাক বলতে কী বোঝায়, ঠিকঠাক বলতে পারবে?  

-দেখো, বাবা, বললাম আমি, প্রায় হাজারখানেক লেখক নাকের ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন (পকেট থেকে ঘড়ি বের করলাম) এখন দুপুর সবগুলো সংজ্ঞার কথা বলতে গেলে রাত দুপুর হয়ে যাবে তবে চিন্তার কিছু নেই, অখণ্ড অবসর আছে আমাদের হাতে শুরুতেই বলি, বার্থোলিনাসের (Bartholinus) মতে, নাক হচ্ছে সেই আঁচিল (protuberance) -মুখের সেই ফোলা অংশ (that bump) সেই আঁব (that excrescence ).........

সেই.........।

-যথেষ্ট হয়েছে, রবার্ট, বাধা দিয়ে বলে উঠল বাবা তোমার জ্ঞানের বহর দেখে আমি বজ্রাহত (thunderstruck) হয়েছি সত্যি বলছি- বুকটা ধক ধক করছে চোখ বুজে বুকটা খামচে ধরল বাবা। এদিকে এস (ঝট করে আমার একটা হাত চেপে ধরল বৃদ্ধ ভদ্রলোক) জ্ঞানের যা নমুনা দেখালে তাতে তোমার শিক্ষা শেষ হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায় অতএব জীবিকা বেছে নেয়ার ব্যাপারে দেরি করা আর মোটেই উচিত হবে না আর সেক্ষেত্রে নাক বরাবর এগিয়ে চলাটাই (scuffle) হবে তোমার পক্ষে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত, সুতরাং (লাথি মেরে আমাকে নিচতলায় ফেলে দিল (kicked me down stairs) বাবা, তারপর ছুটে এসে আরেক লাথিতে বের করে দিল দরজার বাইরে) সুতরাং এই মুহূর্তে আমার বাড়ি থেকে বিদায় হও এবং ঈশ্বর তোমার সহায়।

 

একটা ঐশ্বরিক প্রেরণা (divine afflatus) অনুভব করলাম মনে হল, এইমাত্র যে দুর্ঘটনা ঘটে গেল, সেটা কোন দুর্ঘটনা নয়, বরং এই ঘটনা আমার জন্য খুলে দেবে সমৃদ্ধির নতুন নতুন দুয়ার বাবার পরামর্শমতোই চলব বলে মনস্থির করলাম নাক বরাবর এগিয়ে আমাকে যেতেই হবে এখানে দাঁড়িয়ে গোটাদুয়েক টান দিলাম নাক ধরে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই লিখে ফেললাম নাসিকা বিজ্ঞান (Nosology forthwith) বিষয়ক একখানা পুস্তিকা (pamphlet)।

আলোড়ন সৃষ্টি (uproar) হল ফাম-ফাজ জুড়ে

-ক্ষণজন্মা! লিখল কোয়ার্টারলি

-অসাধারণ ফিজিঅলজিষ্ট! লিখল ওয়েস্টমিনস্টার (Westminster)।

-চালাক! লিখল ফরেন (Foreign)

-ঝানু লেখক! লিখল এডিনবার্গ (Edinburgh)

-গভীর চিন্তাশীল লিখল ডাবলিন (Dublin)

-মহামানব লিখল বেন্টলি (Bentley)

-নবী! লিখলে ফ্রেজার (Fraser)।

-আমাদের একজন! লিখল ব্ল্যাকউড (Blackwood)

-লোকটি কে? লিখলেন মিসেস ব্যাস ব্লিউ (Bas-Bleu)

-লোকটি কী করে? লিখলো মিস (বড়ো) ব্যাস ব্লিউ

-ওঁকে পাওয়া যাবে কোথায় লিখল মিস (ছোট) ব্যাস ব্লিউ

কিন্তু এসব আজেবাজে পত্রিকা আর জনসাধারণের কথায় কান না দিয়ে সোজা ঢুকে গেলাম এক শিল্পীর স্টুডিওতে

ব্লেস-মাই-সোল (Bless-my-Soul) দেশের ডাচেস (Duchess) বসে আছে, প্রতিকৃতি আঁকানোর জন্যে; ডাচেসর পুডলটাকে (poodle) সামলাচ্ছেন সো-অ্যান্ড-সো (S0-and-so) দেশের মারকুইস; নরম গলায় মিঠে মিঠে কথা বলছেন দিস অ্যান্ড দ্যাট-এর (This-and-That) আর্ল এবং চেয়ারের পেছনে হেলান দিয়ে আছেন টাচ-মি-নট-এর (Touch-me-Not) রয়াল হাইনেস  

শিল্পীর কাছে গিয়ে নাকটা উঁচু করলাম আমি

কি সুন্দর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ডাচেস

-আহা! বললেন মারকুইস

-কী ভয়ানক! আঁতকে উঠলেন রয়াল আর্ল

-কী জঘণ্য! (abominable) গর্জে উঠলেন রয়াল হাইনেস

-কত চান? জিজ্ঞেস করল শিল্পী

-নাকের জন্যে। চিৎকার করে উঠলেন ডচেস

-এক হাজার পাউন্ড। বলে বসে পড়লাম আমি

-এক হাজার পাউন্ড? স্বপ্নিল গলায় বলল শিল্পী

-এক হাজার পাউন্ড, বললাম আমি

-চমৎকার। বলল অভিভূত শিল্পী

-এক হাজার পাউন্ড, বললাম আমি

-পাকা কথা দিচেছন তো? নাকটাকে আলোর দিকে ঘুরিয়ে জানতে চাইল

-ভাল করে নাক ঝেড়ে বললাম, একদম পাকা

-আশা করি এটাতে কোনরকম খাদ নেই? শ্রদ্ধাভরে নাকটা ছুয়ে বলল শিল্পী।

-হুম! নাক বেঁকিয়ে বললাম আমি

-আর কোন শিল্পীর কাছে এটার নকল নেই তো? নাকটাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করতে করতে বলল সে

-অপূর্ব! নাক উঁচিয়ে ধরার কায়দা দেখে প্রায় পড়ে যাবার জোগাড় হল শিল্পীর

-এক হাজার পাউন্ড, বললাম আমি

-এক হাজার পাউন্ড, বলল শিল্পী

-ঠিক তাই, বললাম আমি

-এক হাজার পাউন্ড? আবার বলল শিল্পী

-একেবারে ঠিক, বললাম আমি

-পবেন, বলল শিল্পী ঈশ্বরের কি অপূর্ব সৃষ্টি ওখানেই এক হাজার পাউন্ডের একটা চেক কেটে দিয়ে আমার নাকের একটা স্কেচ করে নিল সে জার্মিন (Jermyn) স্ট্রীটে বাসা ভাড়া নিলাম আমি তারপর নাকের একটা স্কেচসহ নাসিকাবিজ্ঞান-এর নিরানব্বইতম সংস্করণটি পাঠিয়ে দিলাম মহারানীকে কয়েকদিনের মধ্যেই বিষন্ন চেহারার সেই খুদে লম্পট (little rake) প্রিন্স অভ ওয়েলেস (Prince of Wales) আমাকে আমন্ত্রণ জানালেন ডিনারে  

যথাস্থানে পৌঁছে দেখলাম, আমন্ত্রিত অতিথিগণ আমার মতই অর্থাৎ, তাঁদের প্রায় সবাই সমাজে সিংহের মর্যাদা লাভ করেছেন (lions and recherchés)  

কিছুক্ষণ পর শুরু হল অভ্যাগতবর্গের বক্তৃতা সর্বপ্রথম বক্তব্য পেশ করতে উঠলেন একজন আধুনিক প্লেটোনিষ্ট (Platonist) পরফিরি, আয়ামব্রিকস, প্লটিনাস, প্রক্লুস, হায়ারোক্লিস, ম্যাক্সিমাস টাইরিয়াস এবং সিরিয়ানাস থেকে উদ্ধৃত্তিসহ এক মহা জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিলেন (Porphyry, Iamblicus, Plotinus, Proclus, Hierocles, Maximus Tyrius, and Syrianus)

তারপর উঠলেন হিউম্যান-পারফেকটি বিলিটির, (Humari Perfectibility) একজন পণ্ডিত তিনি উদ্ধৃত দিলেন টারগেট, প্রাইস, প্রিষ্টলি, কন্ডরসেট, (Turgot, Price, Priestly [[Priestley]], Condorcet, De Stäel) দ্য স্ট্যেল এবং অ্যামবিশাস ষ্টুডেন্ট ইন হেলথ থেকে

তারপর উঠলেন স্যার পজিটিভ প্যারাডক্স (Positive Paradox) জ্বালাময়ী বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করে দিলেন যে, মুর্খমাত্রই দার্শনিক, সুতরাং পৃথিবীর তাবৎ দার্শনিকই মূর্খ।

তারপর ঈসথেটিকাস এথিকস (Æstheticus Ethix) তিনি আলোচনা করলেন উদম একতা, পরমাণু, পূর্বজন্মের জীবন, মানবসম্বন্ধ, মতভেদ এবং আদিম জ্ঞান নিয়ে (fire, unity, and atoms; bi-part and pre-existent soul; affinity and discord; primitive intelligence and homöomeria.)

তারপর থিয়োলোগোস থিয়োলজি (Theologos Theology) তিনি উদ্ধৃতি দিলেন ইউসেবিয়াস আর এরিয়ানাস থেকে আলোচনা করলেন প্রচলিত ধর্ম, মতবিরোধ, আদিম ক্যাথলিকতপন্থী ধর্ম আন্দোলন এবং পদার্থের অভিন্নতা নিয়ে (Eusebius and Arianus; heresy and the Council of Nice; Puseyism and consubstantialism; Homousios and Homouioisios)

তারপর রচার দ্য ক্যাঙ্কেল (the Rocher de Cancale)-এর বিখ্যাত পাচক (Fricassée) তিনি আলোচনা করলেন মাংস, ফুলকপি এবং কমলালেবুর জেলির নানান রকম রন্ধন প্রণালী সম্বন্ধে

তারপর বিবুলাস বাম্পার (Bibulus O’Bumper) তিনি আলোচনা করলেন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে, যেমন ল্যাটুর, মার্কব্রুনেন, চেম্বারটিন, মুশো, রিচবুর্গ, সেইন্ট জর্জ, হব্রিঅন, লিওনভিল, মেক, ব্যারাক, প্রিগনকি, গ্রেভ এবং সেই পীরে এসব আলোচনা সেরে বসে পড়ে চোখ বুজে পাশে বসা ক্লস দ্য ভুগোকে বোঝাতে লালেন শেরি আর আমেন্টিলডোর পার্থক্য (Latour and Markbrünen [[Markbrünnen]]; upon Mousseux and Chambertin; upon Richbourg and St. George; upon Haubrion, Leonville, and Medoc; upon Barac and Preignac; upon Grâve, and upon St. Peray. He shook his head at Clos de Vougeot, and told, with his eyes shut, the difference between Sherry and Amontillado)

তারপর ফ্লোরেন্সের সিনর টিনটনটিনটিনো (Tintontintino) প্রথমে তিনি আলোচনা করলেন সিমাবিউ, আরপিননা, কার্পাচিও এবং আর্গিসটিনোকে (Cimbabué [[Cimabue]], Arpino, Carpaccio, and Argostino) নিয়ে তারপর শুরু করলেন চিত্র সমালোচনা তাঁর আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে এল ক্যারাভাগিওর বিষন্নতা, অ্যামবানোর মনোহারিত্ব, টিশিয়ানের রঙ ব্যবহারে চাতুর্য, রুবেন্সর নারী এবং জান ষ্টীনের পরিহাস (the gloom of Caravaggio, of the amenity of Albano, of the colors of Titian, of the frows of Rubens, and of the waggeries of Jan Steen)  

তারপর ফাম-কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি তিনি জানালেন, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় চাঁদকে ডাকা হয় বিভিন্ন নামে গ্রেস- বলা হয় বেত্তিস, মিশরে বুবাসটিস, রোমে ডায়ন এবং গ্রীসে আরটেমিস (Bendis in Thrace, Bubastis in Egypt, Dian in Rome, and Artemis in Greece)

তারপর ইস্তাম্বুলের গুড়ে মহাজ্ঞানী তিনি বললেন, ঘোড়া মোরগ আর বলদ থেকেই দেবদূতদের উৎপত্তি বললেন, ষষ্ঠ আসমানে এমন একটা প্রাণী আছে, যার শুধু মাথার সংখ্যাই সত্তর হাজার বললেন, অসংখ্য সবুজ শিংঅলা একটা আকাশনীল গাভীর পিঠেই নাড়িয়ে আছে পৃথিবী  

তারপর ডেলফিনাস পলিগ্লোট (Delphinus Polyglott) তিনি আলোচনা করলেন হারিয়ে যাওয়া মহৎ সাহিত্য নিয়ে বললেন, কী পরিণতি হয়েছে ইস্কাইলাসের (Æschylus) তিরাশিটা ট্র্যাজেডির; ইসিয়াসের (Isœus) চুয়ান্ন এবং লিসিয়াসের (Lysias) তিনশো একানব্বইটা বক্তৃতার; থিওফাসটাসের আশিটা শর্তের (eighty treatises of Theophrastus); অ্যাপোলোনিয়াসের কোনিক সেকশন (Conic Sections of Apollonius)-এর অষ্টম অধ্যায়ের: পিন্ডারের স্তবগান (Pindar’s hymns) আর গ্রীক মদ্য-দেবত্র ব্যাক্কাসের উদ্দেশ্যে রচিত গানগুলোর (dithyrambics); এবং হোমারের বড় ছেলের পঁয়তাল্লিশটিা ট্র্যাজেডির

তারপর ফার্দিনান্দ ফিটজ-ফসিলীল ফেল্টম্পার (Ferdinand Fitz-Fossillus Feltspar) তিনি আলোচনা করলেন মানুষের অন্তর্গত তেজ আর বন্ধুর গঠন প্রকৃতি নিয়ে

কঠিন, তরল, বায়বীয় কোন বস্তুই বাদ গেল না

বললেন,স্ফটিক আর সারমাটি সম্বন্ধে;

শিষ্ট আর শ্রোল সম্বন্ধে;

জিপসাম আর ট্র্যাপ সম্বন্ধে,

পাউডার আর চুন সম্বন্ধে ব্লেউ আর ব্লে সম্বন্ধে,

মাইকাস্লেট আর পুডিং-স্টোন সম্বন্ধে,

সায়ানাইট আর লেপিডোলাইট সম্বন্ধে;

হেমালাইট আর ট্রিমোলাইট সম্বন্ধে;

অ্যান্টিমনি আর ক্যালসিডনি সম্বন্ধে;

ম্যাঙ্গানিজ আর আর এত জিনিস সম্বন্ধে বললেন যে সেসব আর আমি বলতে পারব না আপনারা আপন আপন খুশিমত মনে মনে ভেবে নিন

[He informed us all about internal fires and tertiary formations; about äeriforms, fluidiforms, and solidiforms; about quartz and marl; about schist and schorl; about gypsum and trap; about talc and calc; about blende and horn-blende; about mica-slate and pudding-stone; about cyanite and lepidolite; about hœmatite and tremolite; about antimony and calcedony; about manganese and whatever you please.]

সবশেষে এল আমার পালা ধীরে-সুস্থে উঠে দাড়ালাম তারপর বললাম আমার কথা; তারপর আমার নিজের কথা, তারপর আমার কথা, তারপর আবার আমার কথা, তারপর আমার নাসিক বিজ্ঞান বিষয়ক পুস্তিকাটির কথা, তারপর আবারও আমার কথা এবং পরিশেষে নাক উচিয়ে আমারই একান্ত আপন কথা

-বিরল প্রতিভা বললেন প্রিন্স অভ ওয়েলস

-পরমজ্ঞানী! বলল অতিথীরা

পরদিনই ব্লেস-মাই-সোল-এর ডাচেস এলেন আমার সঙ্গে দেখা করতে গালে টুসকি মারতে মারতে বললেন, হে সুন্দর, তুমি আলমক্স-এ (Almacks) যাবে?

-যাব, বললাম আমি

-নাকসহ তো? জানতে চাইল

-সে আর বলতে, জবাব দিলাম আমি

-তাহলে এই রইল আমার কার্ড প্রাণপ্রিয়, আশা করি খুব শিগগিরই তুমি যাবে?

-নিশ্চয়, আমার পুরো হৃদয় নিয়ে যাব

-আমার হৃদয়ের কথা তো আমি একবারও বলি নি! এটা সঙ্গে না নিলেও চলবে কিন্তু নাক যেন ছেড় না!

-প্রিয়, এই হৃদয় যেমন তোমার, এই নাকও তেমনি তোমার, বললাম আমি।

-শুধু নাক নয়, এর প্রতিটি রক্তবিন্দু প্রতিটি শিরা, উপশিরা নিয়ে যাব

কথা শেষ করে নাকটাতে গোটাদুয়েক মোচড় দিতেই চোখের পলকে পৌছে গেলাম আল মাক্স-

প্রাসাদের তিল ধারনের স্থান নেই

তিনি আসছেন! কে যেন বলে উঠল সিড়ির ওপর থেকে

তিনি আসছেন! অন্য কে যেন বলে উঠল আরও কয়েক ধাপ ওপর থেকে

তিনি আসছেন! অন্য কে যেন বলে উঠল আরও কয়েক ধাপ ওপর থেকে

তিনি আসছেন! আরও ওপর থেকে বলে উঠল তৃতীয় কেউ

এসে গেছে চেঁচিয়ে উঠল ডাচেস- ওইত, আমার প্রিয়তমা!

ছুটে এসে দুহাতে আমাকে জড়িয়ে ধরল, , তারপর তিন তিনটে চুমু খেল নাকের ওপর।

তৎক্ষণাৎ শোরগোল উঠল প্রাসাদ জুড়ে

-শয়তান! (Diavolo) চিৎকার করে উঠলেন কাউন্ট ক্যাপরিকনট্রি (Count Capricornutti.)

-পাজি! (Mille tonnerres!) বিড়বিড় করতে লাগলেন ডন ষ্টীলেটো (Prince de Grenouille.)

-বজ্জাত! (Tousand teufel!) বললেন গ্রেইল-এর নির্বাচক (Elector of Bluddennuff.)

এত অপমান তা সহ্য করা যায় না বিশেষ করে নির্বাচকের কথাগুলো যেন গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিল রাগে নাক খাড়া হয়ে উঠল আমার ছুটে গেলাম নির্বাচকের কাছে।।

বললাম, স্যার! আপনি একটা বেবুন! (Baboon)

বাঁদর বলার প্রথমটায় থতমত খেয়ে গেলেন তিনি একটু পর বললেন, স্যার! আপনি একটা লম্পট! মহা-লম্পট (Donner und Blitzen)

তারপর যা হবার তা- হল কার্ড বিনিময় করলাম আমরা এবং পরদিন সকালে অবতীর্ণ হলাম স্বন্দযুদ্ধে শুরুর কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই এক ঘুসিতে তাঁর নাটা উড়িয়ে দিলাম আমি তারপর বীরদর্পে গেলাম বন্ধুদের কাছে

-হাবা! বলল প্রথম বন্ধু

-গোবা? বলল দ্বিতীয় বন্ধু

-হাঁদা! বলল তৃতীয় বন্ধু

-গাধা! বলল চতুর্থ বন্ধু

-কালা! বলল পঞ্চম বন্ধু

-ভ্যাবলা! বলল ষষ্ঠ বন্ধু

-যা ভাগ। (“Be off!”) বলল সপ্তম বন্ধু  

কথাগুলো শুনে বড় মর্মাহত হলাম এতদিনের বন্ধুদের কিনা এই ব্যবহার

ব্যথিত মনে দেখা করতে গেলাম বাবার সঙ্গে জানতে চাইলাম, আমার জীবনের সবার শেষ ও প্রধান লক্ষ্য কি?

প্রিয় সন্তান, বাবা উত্তর দিলেন, এখনো নাসিক্য বিদ্যাই। নির্বাচকের নাকটি উড়িয়ে, আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্যকেও ছাড়িয়ে গেছ স্বীকার করছি, তোমার একটা চমৎকার নাক আছে; কিন্তু Bluddennuff এর তো নাকই নেই আর সেজন্যেই লোক ধন্য ধন্য করেছে তাকে, অথচ ধিক্কার দিয়েছে তোমাকে একথা সত্যি যে, ফাম-ফাজ শহরে একটা সিংহের মহানুভবতার পরিমাপ হয় তার নাকের মাপ (proboscis) অনুসারে-কিন্তু হায় ঈশ্বর! যে সিংহের নাকই নেই, তার সঙ্গে কি লড়াইয়ে নামতে আছে

No comments:

Post a Comment

Featured Post

মজার গল্প - টেরোড্যাকটিলের ডিম – সত্যজিৎ রায় – Mojar golpo – Pterodactyl er dim - Satyajit Ray

মজার গল্প - টেরোড্যাকটিলের ডিম – সত্যজিৎ রায় – Mojar golpo – Pterodactyl er dim - Satyajit Ray মজার গল্প - টেরোড্যাকটিলের ডিম  – সত্যজিৎ রা...