মজার গল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনী, ছোট গল্প, শিক্ষামূলক ঘটনা, মজার মজার কৌতুক, অনুবাদ গল্প, বই রিভিউ, বই ডাউনলোড, দুঃসাহসিক অভিযান, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, রুপকথা, মিনি গল্প, রহস্য গল্প, লোমহর্ষক গল্প, লোককাহিনী, উপকথা, স্মৃতিকথা, রম্য গল্প, জীবনের গল্প, শিকারের গল্প, ঐতিহাসিক গল্প, অনুপ্রেরণামূলক গল্প, কাহিনী সংক্ষেপ।

Total Pageviews

Thursday, May 6, 2021

বাংলা অনুবাদ গল্প - যেমন কুকুর তেমন মুগুর – পি. জি. ওডহাউস - The Level Business Head - P. G. Wodehouse – Bangla Translation

 

বাংলা অনুবাদ গল্প,পি. জি. ওডহাউস, The Level Business Head, P. G. Wodehouse, Bangla Translation,মজার গল্প, Bangla Funny Story, translated story,অনুবাদ গল্প যেমন কুকুর তেমন মুগুর, পি. জি. ওডহাউস, P. G. Wodehouse, মজার গল্প, mojar golpo, hasir golpo,হাসির গল্প

বাংলা অনুবাদ গল্প - যেমন কুকুর তেমন মুগুর পি. জি. ওডহাউস - The Level Business Head -  P. G. Wodehouse Bangla Translation - part 1 of 3

- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - 

-আরেকটু পোর্ট নেবে? ঝুঁকে আন্তরিকতা দেখাল স্ট্যানলি ফিদারষ্টোন হফ ইউক্রিজ

-ধন্যবাদ, বললাম আমি।

-কর্কি কর্কোরানকে আরেকটু পোর্ট দাও, বাটলার। আর মিনিট পনের পরে কফি, সিগার এবং আরও কিছু পানিয় নিয়ে লাইব্রেরীতে আসবে।

আমার গ্লাসটা ভরে দিয়ে চলে গেল বাটলার পুরা ব্যাপারটাই আমার কাছে গোলমেলে লাগছে ইউক্রিজের জুলিয়া ফুফুর প্রশস্ত ডাইনিং রুমে বসে আছি আমরা। বাড়িটা উইম্বলডন কমনের ভেতর। সান্ধ্যভোজনের পাট ইতিমধ্যে ঢুকে গেছে। চমৎকার ভূরিভোজ হয়েছে আজ। কৌতুহল চেপে রাখতে না পেরে বললাম, এখনও আমার বিশ্বাস হচ্ছে না তোমার ফুফুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছি।  

-এটা কিছুই না ছেলে, হাসল ইউক্রিজ। আর রাতে তোমার সঙ্গ কামনা করছিলাম। ফুফুকে বলতেই রাজি হয়ে গেলেন।

-কিন্তু কেন? এর আগে তো কখনও আমাকে দাওয়াত করার অনুমতি পাওনি। তোমার ফুফু তেমন পছন্দ করেন না আমাকে।

ইউক্রিজ তার পোর্টে চুমুক দিল। এক ধরনের সতেজ ভাব ফুটে উঠল তার চেহারায়। বলল, তাহলে আসল ব্যাপারটা শোন, কর্কি (James "Corky" Corcoran) এ বাড়িতে এমন কিছু ঘটেছে যা আমার জন্যে একটা নবজীবনের সূচনা। ফুফুকে রীতিমত কব্জা করে ফেলেছি। তার সব প্রভাব প্রতিপত্তি এখন আমার চার চাকার গাড়ির নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে। এটা এমন এক ঘটনা যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, আকাশ হতে চাও, বেশ; কিন্তু বেশি কাল হবার চেষ্টা কর না। মাথা ঠাণ্ডা এবং স্থির থাকলে কোন কিছুই একটা মানুষকে কাবু করতে পারে না।

-হেঁয়ালি রেখে খুলে বলত সব।

ইউক্রিজ কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে শুরু করল, আমার ধারণা ফুফুর ব্রোচটা যখন আমি বন্ধক দিই তখন থেকেই ঘটনার শুরু।

-তুমি বন্ধক দিয়েছ, তোমার ফুফুর ব্রোচ!

-হ্যা।

-এটাই তাহলে ফুপুর মন পাওয়ার মূল কারণ?

-পরে আসছি সে কথায়। তার আগে আমাকে গোড়া থেকে বলতে দাও না।

-বলিষ্ঠ গড়ন, ধূর্ত চেহারা।

-কখনও দেখি নি তাকে।

-তাহলে সে চেষ্টাও কর না কখনও। বন্ধু সম্পর্কে খারাপ কিছু বলাকে আমি ঘৃণা করি। কিন্তু জো নামের ওই উকিলটা একজন অসৎ লোক।

-কি করে সে ব্রোচ বন্ধক নেয়?

ইউক্রিজ তার আদার রস মেশান বীয়ারে মন দিল। ডাঁটি-বিহীন চশমাটা কানের সাথে পেঁচান তার থেকে এমন ভাবে ঝুলছে, বড় আহত দেখাচ্ছে তাকে।

-একজন পুরান বন্ধুর কাছে থেকে ধরনের হার আশা করিনি আমি। ঘটনার গভীরে যখন যাব, দেখবে সাধারণ একটা সহজ, ব্যবসা ছিল এটা। কিন্তু জুলিয়া ফুফুর ব্রোচের বদলে একটা অর্ধেক কুকুর আমি কিনি কি করে?

-অর্ধেক কুকুর! এটা কি বলছ?

-কেন, সেই কুকুর সম্পর্কে তোমাকে কিছু বলি নি?

-না।

-অবশ্যই বলেছি। কুকুরটাই তো সব নাটের গুরু।

-তা হতে পারে, কিন্তু তুমি তা বলনি আমাকে।

হেসে ফেলল ইউক্রিজ (Stanley Featherstonehaugh Ukridge) তোমাকে কনফিউজ করার চেষ্টা করছিলাম। যাক গে, ঘটনাটা খুলেই বলছি - জো একজন বুকমেকার (যে ব্যক্তি রেসের পশুর ওপর বাজি ধরে জীবিকা অর্জন করে) ওর সাথে কখনও কখনও আমিও বাজি ধরতাম। কিন্তু যে বিকেলে এই ঘটনার শুরু তার আগ পর্যন্ত তেমন হৃদ্যতা গড়ে ওঠে নি আমাদের মধ্যে। কখনও দুপাউন্ড জিতে গেলে আমাকে সে একটা চেক দিয়ে দিত। আবার সে কখনও জয়ী হলে তাকে বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলতাম। কিন্তু সামাজিকভাবে মিশতাম না আমরা। যে বিকেলের কথা বলছি সে বিকেলে বেডফোর্ড স্ট্রিটের বোডেগায় গিয়ে দেখা করলাম তার সাথে। আমাকে এক গ্লাস পুরাতন টনি অফার করল সে।

এক গ্লাস পুরান টনি যদি আমাদের বন্ধুত্ব স্থাপনে সহায়ক হয় তাহলে নেব না কেন, সানন্দে নিলাম। আলাপে আলাপে কিছুক্ষণ কাটার পর হঠাৎ প্রশ্ন করে বসল সে, নিজের ভাগ্যটাকে বড় করতে চাও তুমি?

হেসে বললাম, চাইব না কেন!

-শোন তাহলে, ওয়াটার লু কাপে আমার যে কুকুরটা অংশ নিতে যাচ্ছে, এটার বিজয় সম্পর্কে আমি নিশ্চিত। কুকুরটা জিতে গেলে কী হবে? অর্থ, যশ সব লুটোপুটি খাবে ওটার পায়ে॥ এক মক্কেলের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা ধার করে ফেলেছি আমি। কাজেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও কুকুরটার অর্ধেক শেয়ার বিক্রি করতে হচ্ছে। নেবে তুমি ভাগটা?

-নিতে পারলে তো ভালই।

-ধর নিয়েই ফেলে।

-কিন্তু আমার কাছে তো অর্থ কড়ি কিছুই নেই।

-তার মানে তুমি বলতে চাও পঞ্চাশ পাউন্ড নেই তোমার কাছে?

-পঞ্চাশ কেন, পাঁচ পাউন্ডও দিতে পারব না।

-তাহলে আর কি করা।

রাজ্যের হতাশা নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে। আমার দিকে এমন করুণ দৃষ্টিতে তাকাল যেন অতি আদরের পুত্র তার বাবার সুন্দর একটা আশাকে ধুলিস্বাৎ করে ফেলেছে। চুপচাপ টনি শেষ করে রাস্তায় নামল সে। আমি বাড়ির পথ ধরলাম।

পথে ব্যাপারটা নিয়ে তেমন মাথা ঘামালাম না। বাড়ি ফিরতেই চিন্তাটা মগজে ঘাই মারল। একটা জিনিস তুমি ভাল করেই জান কর্কি, ধন-সম্পদ অর্জনের জন্যে যে দূরদৃষ্টির প্রয়োজন তার অভাব নেই আমার। যখন কোন জিনিসের দিকে আমি তাকাই সেটার তল পর্যন্ত দেখে নিই। ওয়াটার লু কাপের নাড়ি-নক্ষত্র আমার জানা। কিন্তু সমস্যা হল পুঁজি। ব্যবসা বাণিজ্যের বিভিন্ন কলাকৌশল জানা সত্ত্বেও শুধু পুজির জন্যেই জীবনে কিছু করতে পারি নি। যেখানে একটি শিলিং যোগাড় করতেই যান বেরোয় সেখানে পঞ্চাশ পাউন্ডের কথা ভাবা যায়!

অর্থের সম্ভাব্য উৎসগুলো ঘাঁটতে ঘাঁটতে জর্জ টুপারের নাম মাথায় এল। কৌশলে তাকে ভজাতে পারলে অন্তত পাউন্ড পাঁচেক হাতনো যাবে। তারপর মনে পড়ল তোমার কথা। হাত বাড়ালে কিছু শিলিং না দিয়ে পারবে না। কিন্তু পঞ্চাশ পাউন্ড? তোমাদের কারও পক্ষেই দেয়া সম্ভব নয়।

ভাবতে ভাবতে শেষমেষ একটা পথ খুঁজে পেলাম। তুমি তো জান, আমার জন্যে জুলিয়া ফুফুর হাতের ফাক গলে একটা সেন্টও বেরোয় না, অথচ সেই ফুফুকেই পাউন্ড গুলো দিতে হল। সবই ভাগ্যের খেলা, কর্কি। সবই ভাগ্য!

উইম্বলডনে এসে দেখি বাঁধা-ছাধার কাজে ফুফু ব্যস্ত। পরদিন সকালে লেকচার ট্যুরে বেরোবেন।

-স্ট্যানলি, আমাকে ডেকে তিনি বললেন, আমার ছাই কিছু মনে থাকে না। কালকে একটা কাজ করবে তুমি। বন্ড স্ট্রীটে মাগাট্রয়েডের ওখানে আমার ডায়মন্ড ব্রোচটা ঠিক করতে দিয়েছি। তুমি গিয়ে ব্রোচটা এনে ব্যুরোড্রয়ারে রেখে দেবে। এই নাও ড্রয়ারের চাবি। চাবিটা পরে রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠিয়ে দিও।

দেখ কেমন মোক্ষম মওকা মিলে গেল একট। ফুফু ফিরে আসার অনেক আগেই শেষ হয়ে যাবে ওয়াটার লু কাপ। আর ততদিনে আমি একজন পয়সাঅলা। বন্ধুক থেকে উদ্ধার করে ব্রোচটা যাতে আবার ডুয়ারে রাখা যায় এজন্যে একটা ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়ে নিলাম। প্ল্যানটা আগাগোড়া নিখুঁত বলেই মনে হল। কোথাও কোন ফাক খুঁজে পেলাম না।

ফুফু ইউস্টোন চলে গেলে মারগোট্রয়েডের ওখান থেকে নিয়ে এলাম ব্রোচটা। তারপর এক পনব্রোকারের কাছে সেটা বন্ধক রেখে অনেকগুলো পাউন্ড নিয়ে এলাম। অনেকদিন পর মোটা অঙ্কের পুঁজি এল হাতে। জো কে ফোন করে কুকুরের ব্যাপারে কথাবার্তা পাকা করে ফেললাম। ভাগ্যের সিড়িতে পা পড়ল আমার।

দিন দুয়েক পর এক সন্ধ্যায় বাগানে একটা ঝাকড়া গাছের নিচে বসে আছি। সাতরঙ্গা ফেনার বুদবুদের মত কিছু চিন্তা খেলা করছিল মাথায়। সোনালী আর রক্তিম আভার সংমিশ্রণে অদ্ভুত একটা আলো ছড়িয়ে ডুব দিচ্ছে সূর্য; ছোট ছোট পাখিরা কিচির মিচির করে গাইছে দিনের শেষ গান; আমার অর্ধেক সত্তা তখন হুইস্কি আর সোডার দখলে। মনে মনে ভাবছি, আহা! কি শান্তিময় এই অপূর্ব পৃথিবী! ঠিক তখনই বাক্সটার এসে আমাকে ফোনের কথা বলল।

রিসিভার কানে ঠেকাতেই অপর প্রান্ত থেকে জোর কণ্ঠ ভেসে এল, আছ নাকি হে?

-হ্যাঁ, আছি।।

-শোন যে কুকুরটার ওয়াটার লু কাপ জয় করার কথা ছিল সেটা আর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না।

কুকুরটা মরে গেছে।

-বিশ্বাস করবে না কর্কি, কথাটা আমার লাটিমের মত বোঁ করে ঘুরে উঠল। কোনরকমে আড়ষ্ট জিভটা নাড়িয়ে বললাম, মারা গেছে!

-আমি রেখে দেব।

-অ্যা।  

-হ্যাঁ, যখন একটা জিনিস বিক্রি করা হয়, সঙ্গে সঙ্গে জিনিসটার ওপর থেকে সব দায় দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। আইন জানি বলেই তো লোকে আমাকে উকিল বলে। তবে তোমার জন্য একটা কাজ করতে পারি। কুকুরটার স্বত্ব ত্যাগ করে তুমি যদি আমাকে কিছু লিখে দাও, পাউন্ড পাঁচেক তোমাকে ধরিয়ে দেব। যদিও এতে আমার ক্ষতিই হবে, তবু নিজেকে হৃদয়বান হিসেবে দেখতে চাই।

-কি হয়েছিল কুকুরটার?

-নিউমোনিয়া।

-আমি বিশ্বাস করি না।।

-বেশ, আমার আস্তাবলে এসে দেখে যাও।

বিমর্ষ মনে গেলাম সেই আস্তাবলে। কুকুরটার মৃতদেহ আমার সন্দেহকে ঝাটা পেটা করল। ডিনার পেলের ওপর পড়ে আছে ওটার মৃতদেহ। জোর কথামত লিখে দিলাম স্বত্ব। পাঁচ পাউন্ড পেটে ভরে ভাঙা কপাল জোড়া লাগাবার চেষ্টায় ফিরে এলাম উইম্বলডন। এদিকে জুলিয়া ফুফুর বাড়ি ফেরার দিন ঘনিয়ে এসেছে। ভেবে দেখ কর্কি, কেমন বিদঘুটে একটা পরিস্থিতি। ফিরে এসে তিনি যখন শুনবেন একটা মৃত কুকুরের অর্ধেক শেয়ার কেনার জন্য তাঁর বহুমূল্য ব্রোচটা আমি বন্ধক রেখেছি, তখন ফুফুর যে প্রতিক্রিয়া হবে আপন মানুষ হয়েও সেটা বর্ণনা করার ক্ষমতা আমার নেই।

পরদিন সকাল বেলা মিস অ্যানজেলিকা ভাইনিং এসে হাজির। একেবারে আচমকিত। ফুফুর খুব ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সে। এর আগেও দু'একবার লাঞ্চে দেখা হয়েছে আমাদের। চেহারায় সৌন্দর্যের বালাই নেই মহিলার। উঁচু দাত, ক্ষীণ স্বাস্থ্য। আপদটা দাঁত কেলিয়ে প্রথমে সুপ্রভাত জানাল। তারপর কাব্যিক ঢঙে এখানকার পরিবেশ এবং আবহাওয়া বর্ণনা করে বলল, আমি এসেছি আপনার ফুফুর ব্রোচটা নিতে।

আমি ততক্ষণে পিয়ানোর সামনে বসে হাত রেখেছি রীডগুলোর ওপর। গা ছাড়া ভাব দেখিয়ে শুধালাম, হঠাৎ ব্রোচটা দরকার পড়ল কেন?

-পেন অ্যান্ড ইনক ক্লাবে নাচ হবে আজ রাতে, এজন্য ব্রোচটা ধার চেয়ে ছিলাম আপনার ফুফুর কাছে, ওর সম্মতিপত্র পেয়ে গেছি। ব্রোচটা নাকি দেরাজে আছে।

-কিন্তু দুঃখের বিষয় ড্রয়ারটা তালাবদ্ধ।

-আপনার ফুফু চাবিটা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমার ব্যাগের ভেতর আছে এটা।

কেউ যেন খামচে ধরল আমার শ্বাসনালী। গুরুকম্প শুরু হল বুকের ভেতর। মিস ভাইনিং খুলে ফেলল তার ব্যাগ, ঠিক তখনই স্বর্গীয় দূতের মত হাজির হল পেকেস। খোলা দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ল কুকুরটা। কুকুরের একটা কলেজ খোলার জন্যে একসময় আমিই জাতের কিছু কুকুর এনেছিলাম।

কুকুরটার ওপর চোখ পড়তেই বোতলের সোডা পানির মত দুলছলিয়ে উঠল মহিলা। ব্যাগটা নামিয়ে রেখে ছোঁ মেরে ওটাকে কোলে তুলে নিল।

মা গো কি তুলতুলে! উচ্ছাস ঝরে পড়ল তার কষ্টে।

কুকুরটাকে আদর করতে করতে একসময় ঘুরে দাঁড়াল সে। এই এক সুযোগ। ঝানু ছিচকে চোরের মত চট করে ব্যাগ থেকে চাবিটা বের করে ঢুকিয়ে দিলাম ট্রাউজারের পকেটে। তারপর দ্রুত ফিরে এলাম আগের জায়গায়। পরমুহূর্তে আমার দিকে ফিরল মহিলা। কুকুরটাকে নামিয়ে দিয়ে বলল, দেরি হয়ে যাচ্ছে, ব্রোচটা নিয়েই চলে যাব।

ব্যাগের ভেতর আঁতিপাঁচি করে খুঁজেও চাবিটা পেল না সে। আমার দিকে ফিরে বোকার মত হেসে বলল, দেখুন দেখি কান্ড-হারিয়ে ফেলেছি চাবিটা।

-আহা! ব্রোচটা আর নেয়া হল না আপনার। মেকি সমবেদনা জানালাম তাকে। তারপর সান্ত্বনা দেয়ার সুরে বললাম, একজন মহিলার সত্যিই কি কোন অলঙ্কার দরকার আছে? আমি তা মনে করি না। একজন মহিলার অলঙ্কার হবে তার যৌবন, তার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ। এসবের তো অভাব নেই আপনার।

আমার স্তুতিবাক্যে কাজ হল না। মহিলা দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করল, ব্রোচটা আমার অবশ্যই চাই আমার খুব মনে ধরেছে ওটা। দরকার হলে আমরা তালা ভাঙব।

-দুঃখিত, সেরকম কোন পরিকল্পনা আমার নেই, আমিও কঠিন স্বরে বললাম, ফুফুর বিশ্বাস পায়েদলে তাঁর কোন আসবাব ভাঙা আমার পক্ষে সম্ভব।

-ভাবতে পারবে না কর্কি, কেমন বেদনাবিধুর দৃশ্য ছিল সেটা। নরকের নিকৃষ্ট কীটও একটা মহিলার ঘৃণার কাছে তুচ্ছ। ভেবে দেখ আমার অবস্থান তখন কোথায় নেমে ছিল।

বিদ্বেষ আর ঘৃণার সবটুকু আমার ওপর ঢেলে দিয়ে গট গট করে রওনা হল মহিলা। দরজার কাছে গিয়ে ক্ষণিকের জন্য দাঁড়িয়ে আমার দিকে ফিরে বলল, যা ঘটল পুংখানুপুংখানু লিখব মিস ইউক্রিজকে।

কথা শেষ করে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না সে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সাঁড়াশী চাপ অনুভব করতে করতে সজোরে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। স্পষ্ট উপলব্ধি কলাম চরম অভদ্রের কাজ হল একটা। মাথায় তখন আমার একটাই চিন্তা, যে করেই হোক দ্রুত পঞ্চাশ পাউন্ড যোগাড় করতে হবে। শুনে অবাক হবে কার্কি, আমাকে পঞ্চাশ পাউন্ড দেয়ার মত একটা লোকই খুজে পেলাম সারা পৃথিবীতে। আর সে লোকটি হচেছ জো ওই ধূর্ত উকিল। ভজিয়ে ভাজিয়ে কোনরকমে তার মানবতা বোধকে নাড়া দিতে পারলে নিশ্চয়ই সে আমাকে নিরাশ করবে না। তার অফিসে ফোন করে জানলাম পরদিন লুইস রেসে পাওয়া যাবে তাকে। সকালের ট্রেনে সোজা হাজির হলাম সেখানে।

কিন্তু কর্কি, আমার বোঝা উচিত ছিল, যার অন্তরে কণা পরিমান সহানুভূতি থাকে সে কখনও ঝুঁকি নিতে পারে না। দুটো থেকে সাড়ে চারটে পর্যন্ত রেস চলল। ততক্ষণে জোরে টাকার হলেটা ফেটে পড়ার যোগাড়। কিন্তু আমি যখন সামান্য পঞ্চাশ পাউন্ড ধার চাইলাম সে তো দিলই না, উল্টো কটাক্ষ হেনে বুঝিয়ে দিল, ঝামেলা না করে সটকে পড়, বাপু।

অনুনয়-বিনয় শুরু করে দিলাম। কোন কাজ হল না বরং সে টিপ্পনী কেটে বলল, আমাকে কি হাঁদারাম পেয়েছ ? তোমাকে পঞ্চাশ পাউন্ড দিই, আর লোকজন হাসাহাসি করুক!

এদের হাসাহাসিতে কিছু না তোমার কথার রসে ভেজাবার চেষ্টা করলাম তাকে। তুমি উদার মানুষ, সহজেই উপেক্ষা করতে পারবে ওদের। তা হয়ত পারব, কিন্তু তোমাকে পঞ্চাশ পাউন্ড দিতে পারব না। ব্যাপারে আর একটি কথাও শুনব না আমি।

পরের পর্ব

Tags: অনুবাদ গল্প যেমন কুকুর তেমন মুগুর,পি. জি. ওডহাউস,P. G. Wodehouse,মজার গল্প,Bangla Funny Story,mojar golpo,hasir golpo,হাসির গল্প

No comments:

Post a Comment

Featured Post

সুইসাইড – থ্রিলার গল্প - রবিন জামান খান – Suiside - Thiller story Bangla

  Thiller story Bangla,থ্রিলার গল্প, সুইসাইড সুইসাইড – থ্রিলার গল্প - রবিন জামান খান – Suiside - Thiller story Bangla দৌড়াতে দৌড়াতে মি...