মজার গল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনী, ছোট গল্প, শিক্ষামূলক ঘটনা, মজার মজার কৌতুক, অনুবাদ গল্প, বই রিভিউ, বই ডাউনলোড, দুঃসাহসিক অভিযান, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, রুপকথা, মিনি গল্প, রহস্য গল্প, লোমহর্ষক গল্প, লোককাহিনী, উপকথা, স্মৃতিকথা, রম্য গল্প, জীবনের গল্প, শিকারের গল্প, ঐতিহাসিক গল্প, অনুপ্রেরণামূলক গল্প, কাহিনী সংক্ষেপ।

Total Pageviews

Tuesday, May 25, 2021

ছোট অনুবাদ গল্প - সালভাডর-এ স্বাধীনতা দিবস – ও. হেনরী - The Fourth in Salvador by O. Henry - Translation in Bengali

 

translated story,অনুবাদ গল্প,রোমাঞ্চকর গল্প,ঐতিহাসিক গল্প,The Fourth in Salvador by O. Henry,Translation in Bengali,ও. হেনরী,

ছোট অনুবাদ গল্প - সালভাডর-এ স্বাধীনতা দিবস ও. হেনরী - The Fourth in Salvador by O. Henry - Translation in Bengali

দেশভক্তির আলোড়নে শহর যখন উত্তাল সেই সময়। এক গ্রীষ্মের দিনে বিলি কাসপারিস (Billy Casparis) আমাকে এই গল্পটা বলেছিল।

চাল-চলনে বিলি যেন ইউলিসিস (Ulysses), বা ক্ষুদে শয়তান এর মত, শহরময় টো টো করে বেড়ায়। আপনাদের প্রাতবাশের সময় হয়ত সে চলে যাবে ওকিছোবি হ্রদের (Lake Okeechobee) মাঝখানে, শহরাঞ্চলে বাজার গরম করতে অথবা ঘোড়ার বেচা-কেনা করতে।

একটা ছোট টেবিলে বসে ছিলাম আমরা। দুজনের মাঝখানে ছিল বরফের টুকরো ডোবান গ্লাস আর মাথার ওপর ছিল নকল তালগাছ। এই দৃশ্য দেখে তার মনে পড়ে গেল অন্য এক দৃশ্য। আর বিলিও উত্তেজিত হয়ে কাহিণী শুরু করল।

বিলি -- এই দৃশ্যটি আমাকে মনে করিয়ে দিল এক চতুর্থী উৎসবের কথা যেটা সালভাদরে হয়েছিল আমার সাহায্যে। আমি সেখানে একটা বরফ কারখানা চালাচ্ছিলাম। তার আগেই আমার কলোরাডোর খনি থেকে সব রূপো তুলে এনেছিলাম। সামারে একটা শর্তাধীন ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। আমি ছমাস সমানে বরফ তৈরী করব এই শর্তে নগদ এক হাজার ডলার জমা রাখতে হবে। যদি তা করতে পারি তাহলে আমি জমা অর্থ ফেরত পাব; তা যদি না পারি তাহলে সরকার টাকাটা নিয়ে নেবে। অতএব ইনস্পেকটররা যখন তখন হানা দিতে লাগল যাতে আমাকে মালবিহীন অবস্থায় ধরতে পারে।

একদিন তাপমাত্রা ১১০-এ নেমে গেল; ঘড়িতে দেড়টা বাজে। সেদিন ছিল ৩রা জুলাই। এমন সময় ছোটখাট বাদামী ও লাল ট্রাউজার পরা ২ জন লোক এল পরিদর্শন করতে। এদিকে তিন সপ্তাহ ধরে এক পাউন্ডও বরফ তৈরী হয়নি দুটি কারণে, সালভাদরের পৌত্তলিকরা সে মাল কিনতে চায় না। এরা বলে : এই বস্তু যাতে রাখি সেটাই ঠাণ্ডা হয়ে যায় আমি আর বরফ বানাতে পারি না কারণ মন ভেঙে গেছে। মাঝে ভেবে রেখেছিলাম কোন রকমে জমা হাজার ডলার পেলেই এ দেশ ছেড়ে চলে যাব। ছমাস পূর্ণ হবে এই ৬ই জুলাইয়ে।  

যাই হোক যতটা বরফ ছিল তাদের দেখালাম। জালার ঢাকনাটা তুলে দেখলাম ১০০ পাউণ্ডের একটা বরফের খণ্ড; ঢাকনাটা বন্ধ করতে যাব এমন সময় সেই দুই কালো শিকারী কুকুরের একজন হাঁটুর ওপর বসে পড়ে সজোরে যন্ত্রটি ধরে টান দিল। দুমিনিটের মধ্যেই ঢালাই কাচের সুন্দর খণ্ডটি টেনে মেঝের ওপর নামাল এটাকে জাহাজ থেকে নামাতে খরচ হয়েছিল পঞ্চাশ ডলার।

যে লোকটি আমার সঙ্গে এই চাতুরির খেলা খেলল সে বলে উঠল, বরফ ঠাণ্ডা? খুব গরম বরফ হ্যা দিনটাও বড় গরম। বাইরে নিয়ে গেলে হয়ত ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। ঠিক।

আমি বললাম হ্যা ঠিক। কেউ হয়ত বলতে পারে যে তোমাদের ট্রাউজারের বসার জায়গাটা আকাশী নীল, কিন্তু আমার মতে সেটা লাল, যেখানে সেখানে হাত চালাবার মজাটা - একবার দেখাই। জুতোর দুই ধাক্কায় দুজনকে দরজার ফাক দিয়ে ছুঁড়ে দিলাম। তারপর সেই কাচ খন্ডকে ঠান্ডা করতে বসলাম।

আমি বসে থাকতেই জ্বলন্ত রোদের মধ্যেই এসে হাজির রবার ও গোলাপগন্ধী কাঠের ব্যবসায়ী ম্যাকসিমিলিয়ন জোন্স (Maximilian Jones) আমেরিকার মানুষ, পরণে পরিচ্ছন্ন সাদা পোশাক।

ভেতরে আসতেই বললাম --- মহান কারাম্বস (carrambos)! তখন আমার মেজাজটা ছিল তিরিক্ষি, আমার কি যথেষ্ট ভোগান্তি হয়নি? আমি জানি তুমি কি চাও। আর একবার বলতে চাও জনি অ্যাম্মিগার (Johnny Ammiger) ও বিধবার গল্পটা। সে গল্পটা নয় বার শুনেছি একমাসের মধ্যে।

সবিস্ময়ে দরজার কাছে থেমে জোন্স বলল, এই গরমে মাথাটি গেছে। বেচারি বিলি। বরফের ওপর বসে প্রাণের বন্ধুদের যা তা বলছে।

মুচাচো! বলে আমার ভৃত্যকে ডাকল। বাইরে থেকে এসে দাড়াতেই তাকে বলল সে যেন ডাক্তার ডেকে নিয়ে আসে।

আমি ডাকলাম--ফিরে এসো এখানে ম্যাক্সি। আমার কথা ভুলে যাও এটা বরফ নয় আর যে বসে আছে সেও পাগল নয়। আমি একজন নির্বাসিত মানুষ যার দেশের জন্য প্রাণ কাঁদছে তার ওপর এক হাজার ডলার চোট হয়েছে। এখন বল, জনি বিধবাটিকে কি বলল? আমি আর একবার শুনতে চাই। ম্যাক্সি-লক্ষ্মী ছেলে, রাগ করো না।

আমরা দুজনেই গল্প করতে বসে গেলাম, দুজনেরই দেশের জন্য প্রাণ কাঁদছে। যেখানে থাকতে গ্লাসের প্রতি অতি-আসক্তির ফলে আমি বিলি কাসপারিস ধনী থেকে হয়েছিলাম নির্ধন ভিখারী। এখন আমার দুর্দিন কেটে গেছে আমি হতে চাই পৃথিবীর সব থেকে বড় দেশের মুকুটহীন সম্রাট, আর জোন্স তার রাগ ঢালতে লাগল একটা বিশেষ সম্প্রদায় চালিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সর্বশক্তিমান রাজাদের ওপর। আমরা ঘোষণা করলাম যে সালভাডার- এ জুলাই মাসের চতুর্থ দিনটি পালিত হবে সাড়ম্বরে, সব রকম অভিবাদন হবে। বাজি ফাটান হবে, যুদ্ধকালীন সম্মান বিতরণ, বক্তৃতা, আর চিরকালের ঐতিহ্য পানীয়ের ব্যবস্থার ভিতর দিয়ে। আমরা দেশের জন্য এইটুকু নিশ্চয়ই করতে পারি।

ঠিক এই সময় জেনারেল মেরি এস্পেরাঞ্জা (General Mary Esperanza Dingo) নামে জনৈক স্থানীয় অধিবাসী কারখানায় এল। লোকটি আমাদের বন্ধু। রাজনীতি ও বর্ণের ব্যাপারে অল্প হলেও ভদ্র ও বুদ্ধিমান। ডাক্তারী পড়ার সুত্রে ফিলাডেলফিয়াতে দুবছর বাস করার ফলে দ্বিতীয়টা শিখে নিয়েছ। প্রথমটা বজায় রেখেছে। সবসময় সাহেব-বিবি-গোলাম নিয়ে খেললেও একজন সালভাডরের বাসিন্দার কাছে সে খুব বিপজ্জনক ছিল না।

জেনারেল মেরি আমাদের সঙ্গে বসে পড়ল, বোতল নিল।  

এক সময় বলল জেনারেল ডিঙ্গো-- হিষ্ট! (ওটা তার মুদ্রাদোষ) (টেবিলের ওপর বুকে) প্রিয় বন্ধু সেনিওরদ্বয়, আগামীকাল মুক্তি ও স্বাধীনতার মহান দিবস। আমেরিকা বাসী ও সালভাডরবাসীদের হৃদয়ই এক তালে চলা উচিত। তোমাদের ইতিহাস ও তোমাদের মহান ওয়াশিংটনের কথা আমি জানি, তাই তো?

আমি ও জোন্স দুজনেরই ভাল লাগল এই ভেবে যে ৪ঠা জুলাই-এর কথা মনে রেখেছে জেনারেল। এক সময় ইংল্যাণ্ডের সঙ্গে আমাদের যে একটা গোলযোগ বেধেছিল সে খবরটা হয়ত ফিলাডেলফিয়াতে জেনেছিল।

আমি ও ম্যাক্সি বলে উঠলাম, যে আমরা আগে থেকেই এটা জানাতাম। ঐ বিষয় নিয়ে তোমার আসার আগে আলোচনা করছিলাম। তুমি নিশ্চিত করে বলতে পার যে আগামীকালের বাতাস হৈ হট্টগোলে ভারী হয়ে উঠবে। আমরা সংখ্যায় খুবই অল্প কিন্তু আকাশটা হয়তো নীচে নেমে এসে আমাদের জাগিয়ে তুলবে।

দুম্ করে নিজের বুকে আঘাত করে বলল আমিও সাহায্য করব এই মুক্তির পক্ষে, আমেরিকার মহান নাগরিক হিসেবে ঐ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখব।

জোন্স বলল -আমরা আমেরিকানরা চাই হুইস্কি, তোমাদের স্কচ স্মোক অথবা থ্রি স্টার হেনেসি মোটেই কাল চলবে না। আমরা রাষ্ট্রদূতের পতাকাটি ধার করব, বুড়ো বিলফিঙ্গার বক্তৃতা করবে। আর আমরা শহর-চত্বরে ভোজের আয়োজন করব।

আমি বললাম--আতস বাজি পুড়বে, কিন্তু আমাদের বন্দুকের জন্য দোকানের সব কার্তুজ আমরা কিনে নেব। আমার একটা ডেনভার থেকে আনা বন্দুক আছে।

জেনারেল এখানে কামান আছে বেশ বড়। সেটা থেকে গোলা ছোড়া হবে, আর রাইফেলধারী তিনশ লোক গুলি ছুড়বে।

জোন্স এটাকে আমরা সম্মিলিত আর্ন্তজাতিক উৎসব করে তুলব। জেনারেল, একটা সাদা ঘোড়া একটা নীল চাদর ও একজন উঁচুদরের রাজপুরুষকে আনার ব্যবস্থা কর।

চোখ ঘোরাতে ঘোরাতে জেনারেল বলল - মুক্তির নামে যে মানুষরা সমবেত হবে তাদের সকলের আগে ঘোড়ায় চড়ে যাব আমি তরবারি নিয়ে।।

আমরা প্রস্তাব দিলাম -তুমি বরং সেনানায়কের সঙ্গে দেখা করে বলে দাও ঐ উৎসবের দিন যেন অস্ত্র আইনকে কিছুটা শিথিল করেন। সৈন্যরা যদি বাধা দেয় তো তাদের সঙ্গে গণ্ডগোল করে হাজতে যেতে চাই না বুঝলে?

জেনারেল --হিস্ট! সেনানায়ক তো মনে প্রাণে আমাদেরই পক্ষে। তিনি আমাদের সাহায্য করবেন।

সেদিন বিকেলে সব ব্যবস্থা হয়ে গেল। সালভাডরের অন্তর্গত জর্জিয়া থেকে এক নিগ্রো সেখানে হাজির হয়েছিল মেক্সিকোর নতুন গড়ে ওঠা কালো মানুষেদের উপনিবেশ থেকে ছিটকে। ভোজসভার নাম শুনে সে আনন্দে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে লাগল। সেও কাজে লেগে গেল। আমি ও ম্যাক্সি অন্য আমরিকানদের খবর দিতে বেবিয়ে পড়লাম। অনেকদিনের প্রচলিত চতুর্থ দিবসের জমকালো অনুষ্ঠানের কথা শুনে সকলেই আনন্দিত।

সব মিলিয়ে আমরা দুজন ছিলাম, কফি চাষী মাটিন ডিলার্ড (Martin Dillard), রেলপথের কর্মী হেনরী বার্নেস (Henry Barnes), বুড়ো বিলফিঙ্গার (Billfinger), আমি ও জোন্স, আর ভোজসভার প্রধান মক্কেল জেরি (boss of the barbecue) শহরে তখন স্টেরেট (Sterrett) নামে একজন ইংরেজ ছিলেন। তিনি এসেছিলেন পতঙ্গ জগতের ঘর-কন্যার নির্মাণ শিল্প’ (Domestic Architecture of the Insect World) নিয়ে বই লিখতে। তারই দেশের ব্যাপার (দেশের বিরুদ্ধে) নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় একজন ব্রিটিশকে নিমন্ত্রণ করতে আমরা সংকোচবোধ করছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিটা নিলাম।  

স্টেরেটের কাছে পৌছে দেখলাম, তিনি পাজামা পরে তার পাণ্ডুলিপি নিয়ে কাজ করছেন, একটি ব্র্যান্ডির বোতলকে পেপার-ওয়েট হিসাবে ব্যবহার করছেন।

জোন্স তাকে বলল -দেখুন ইংলিশম্যান, ছারপোকার ঘরবাড়ি নিয়ে আপনার প্রবন্ধ রচনায় একটু বিঘ্ন সৃষ্টি করতে এলাম। আগামীকাল জুলাই মাসের চতুর্থ দিন। আপনার মনে আঘাত দিতে চাই না কিন্তু সেই দিনটাকে স্মরণ করতে যাচ্ছি, যখন আপনাদের নিয়ে কিছু হৈ-হট্টগোল ও অর্থহীন কান্ড (debauchery and nonsense) করেছিলাম। আমাদের সঙ্গে মিলেমিশে একটু পান-ভোজন করার মত মানসিক উদারতা যদি আপনার থাকে, তাহলে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। যোগ দিলে আমরা খুশী হব।

চশমা পরতে পরতে স্টেরেট বললেন ---আমি যোগ দেব কিনা এ প্রশ্ন করার সাহস যে আপনাদের আছে সেটা ভাল লাগছে। আপনাদের জানা উচিত ছিল যে না ডাকলেও আমি যেতাম। আমার দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতক হয়ে নয়, একক সমৃদ্ধশালী জাতির মৌলিক আনন্দের অংশীদার হতে।  

৪ঠা জুলাই-এর সকালে বরফ কারখানার পুরনো ছোট ঘরে ঘুম ভাঙতে আমার খুব খারাপ লাগল। চারিদিকে ছড়িয়ে আছে আমার সর্বস্ব সম্পত্তির ধ্বংসাবশেষ। মেজাজটা বিগড়ে গেল। খাটে শুয়ে জানালা দিয়ে তাকাতে চোখে পড়ল রাষ্ট্রদূতের বাড়ির মাথায় পুরনো শতছিন্ন তারকা ও ডোরাকাটা’ (Stars and Stripes) মার্কা পতাকাটি উড়ছে। নিজের কানে বললাম, বিলি কাপারিস তোমরা সব নোকার দল, এভাবে দিনটা পালন করার কোন মানে হয় না। তোমার ব্যবসা উঠে গেছে। তোমার হাজার হাজার ডলার দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের বাক্সে গিয়ে ঢুকছে। তোমার হাতে আছে মাত্র পঞ্চাশ চিলি-ডলার : কাল রাতে তার দাম ছিল ছেচল্লিশ সেন্ট আর সেটা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। আজ ঐ পতাকা নিয়ে মাতামাতি করে শেষ সেন্টটিও উড়িয়ে দেবে, আর কাল খাবে শুধু কলা আর পানীয়। বাবুদের ঘাড়ে চেপে ঐ পতাকা তোমার জন্যে কি করেছে? যতদিন ঐ পতাকা ছায়ায় ছিলে ততদিন খাটা খাটুনি করেই পাওনা পেয়েছো।  

বুঝতেই পারছো যে নিজেকে একটি নীলের গাছের (indigo plant) মত মনে হচ্ছিল, কিন্তু হাত মুখ ধুয়ে যখন নাবিকের পোশাক ও অস্ত্রশস্ত্রে হয়ে বেরিয়ে পড়লাম তখন অনেকটা ভালো বোধ করলাম। সমবেত জনতার সঙ্গে মিশে গিয়ে নিজেকে ফিরে পেলাম।  

তখন আবার নিজেকে বললাম : বিলি, আজ সকালে তুমি পনেরো ডলার ও একটা দেশের মালিক ডলারগুলো উড়িয়ে দাও আর একজন আমেরিকান ভদ্রলোকের মতই স্বাধীনতা দিবসে শহরটাকে মাতিয়ে তোল।

মনে পড়েছে প্রথাগত ভাবেই দিনটি শুরু করেছিলাম ; আমরা ছয়জন ছিলাম কারণ স্টেরেট ছিল আমাদের আগে। পথে নামলাম। বাতাসে ছড়িয়ে দিলাম যুক্তরাষ্ট্রের গৌরব ও প্রাধান্যের বানী, অন্য জাতিকে পদানত করার ক্ষমতা।

জোন্স আশা করছে যে মিঃ স্টেরেট আমাদের উৎসাহ দেখে অপরাধ নেবে না। হাতের বোতলটা নামিয়ে রেখে সে স্টেরেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বলল -- দুই শ্বেতাঙ্গের মধ্যে ব্যাপার যখন তখন তার মধ্যে ব্যক্তি বিশেষের কেন বাদবিবাদ থাকার কথা নয়। বাংকারহিল, প্যাট্রিক হেনরি, আর ওয়ালডর্ফ (Bunker Hill, Patrick Henry, and Waldorf Astor) এসব এবং ঐ ধরণের যে কোন অন্যায় আচরণ (and such grievances) আমাদেব দুই জাতির মধ্যে থাকুক না কেন ক্ষমা করে দেবেন।

স্টেরেট বললেন - -আমুদে (hoodlums) বন্ধুগণ, মহাবাণীর পক্ষ থেকে আমি জানাচ্ছি, একটু আনন্দ ছড়িয়ে দাও আমেরিকার পতাকার নীচে শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য অতিথি হয়ে থাকা সম্মানের বিষয়

বুড়ো বিলফিঙ্গার মাঝে মাঝেই অলঙ্কারের ফুলঝুরি জ্বালিয়ে বক্তৃতা করতে করতে চলেছে।

হৈ হট্টগোল আরও বাড়তে লাগল। এমন সময় পাশের গলি থেকে একটা খটাখট শব্দ শোনা গেল। হাজির হলেন জেনারেল মেরি এস্পেরাঞ্জা ডিঙ্গো ঘোড়ায় চড়ে, পেছনে দুশ কালো ছেলে কালো শার্ট পরে খালি পায়ে এগিয়ে এল দশ ফুট লম্বা বন্দুক নিয়ে। জোন্স ও আমি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম যে তিনি এতে যোগ দেবেন, তাকে অভিনন্দন জানালাম, করমর্দন করলাম।

জোন্সও বলল ---ওঃ জেনারেল আপনি মহান, ঘোড়া থেকে নেমে একটু পানীয় গ্রহণ করুন।

জেনারেল - পান ? না পান করার সময় নেই। ভিভা লা লিবার্টড! (Vive la Libertad) (মুক্ত মানুষেরা দীর্ঘজীবী হোক!)

হেনরি বার্নের্স বলল -- ই প্লুরিয়াম ইউনাম (E Pluribus Unum অনেকের মাঝে একটি) -- ও ভুলে যাবেন না!

আমি বললাম সেই সঙ্গে আরও বলুন ভিভা জর্জ ওয়াশিংটন, ঈশ্বর ইউনিয়নকে বাঁচিয়ে রাখুন।

পরে স্টেরেটকে অভিবাদন করে বললাম ---আর মহারাণীকেও বাদ দেবেন না

স্টেবেট বলল --ধন্যবাদ এবার আমার পালা, সকলেই বারে ঢুকুন।

কিন্তু তা হল না কারণ কিছু দূরেই গুলির আওয়াজ। ব্যাপারটা কি জানতে ডোনারেল ডিঙ্গো সেদিকে ঘোড়া ছোটালেন। সৈন্যরাও তাকে অনুসরণ করল। .

শুনে মনে হল জেনারেলও পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর কানে এল কামানের শব্দ, আমাদের বুক গর্বে ফুলে উঠল, ডিঙ্গোর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। স্টেরেট শহরে এসে বসে একটা রসাল হাড়ে কামড় দেবেন এমন সময় একটা বুলেট এসে মুখ থেকে সেটা ছিনিয়ে নিল।  

আর একটা নিতে যাবেন তখন বললেন, --কারা যে কার্তুজ নিয়ে উৎসবে যোগ দিয়েছে। একজন অনাবাসী দেশভক্তের পক্ষে এটা বাড়াবাড়ি, তাই না?  

আমি বললাম --- কিছু মনে করলেন না এটা একটা আকস্মিক দুর্ঘটনা মাত্র। জানেন তো, চতুর্থ দিবসে--এটা অনেক সময় ঘটে যায়। নিউইয়র্কে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রের ঘোষণার পর ---- আমার বেশ মনে আছে সব হাসপাতালে ও থানায় এস আর ওর বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তখনই জেরির আর্তনাদ শোনা গেল, তার পায়ে বুলেট লেগেছিল। তারপরই শোনা গেল হৈ হল্লার শব্দ ঘোড়া ছুটিয়ে এনে জেনারেল মারি এস্পেরাঞ্জা ডিঙ্গো, পিছনে পিছনে সৈন্যরা। সকলের পিছনে তাড়া করে এল নীল ট্রাউজার ও টুপি পরা একদল উত্তেজিত যোদ্ধা

জেনারেল চেঁচাতে লাগলেন বাঁচাও, দোহাই, বাঁচাও 

জোন্স বলে উঠল, আরে! এই তো প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষী কোম্পানির আজুল (Campania Azul) কী লজ্জার বিষয়। বেচারি বুড়ো মারি আমাদের সাহায্য করছিলেন বলে ওরা ঝাপিয়ে পড়েছে তার ওপর। এগিয়ে চল ভাই সব আজ আমাদের চতুর্থ দিবস-- সামান্য একটা সেনাদল এসে এটা ভেঙে দেবে?

উইনচেষ্টারটা হাতে নিয়ে মার্টিন ডিলার্ড বলল, আমার ভোট না চৌঠা জুলাই পান ভোজন করে, কুচকাওয়াজ করা, সাজগোজ করা এবং ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা যে কোন আমেরিকান - নাগরিকের এক বিশেষ অধিকার।

বুড়ো বিলফিঙ্গার বলল - নাগরিক ভাই সকল মুক্তির জন্মলগ্নে আমাদের সাহসী পূর্বপুরুষরা যখন মৃত্যুহীন স্বাধীনতার মূলকেন্দ্র প্রণয়ণ করেছিলেন তখন তারা ভাবতে পারেননি যে বার্ষিক উৎসবটা এভাবে নস্যাৎ হবে। প্রতিষ্ঠিত শাসনতন্ত্র -কে আমরা রক্ষা করবই।

-এ বিষয়ে আমরা সকলেই একমত হতাম যে যার বন্দুক হাতে নিয়ে নীল সেনাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়তে তারা পালিয়ে গেল। আমাদের ভোজ ভাটা নষ্ট হয়ে যাওয়াতে মেজাজটাই এত চড়ে গিয়েছিল যে তাদের কজনকে আচ্ছা করে পিটুনি দিলাম, জেনারেলও সৈন্যদের নিয়ে যোগ দিল। শেষ পর্যন্ত তারা একটা ঘন কলার ঝোপে লুকাল। তাদেরকে আর না দেখতে পেয়ে সেখানেই বিশ্রাম নিলাম কিছুক্ষণ।

মনে হয় সেখান থেকে ফেরবার পথে কিছু লোকের একটা জটলা দেখতে পেয়েছিলাম একটা লম্বা লোক ---- বিলফিঙ্গার নয়, বারন্দায় দাঁড়িয়ে জুলাই মাসের চতুর্থ দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা করছে। গল্পটা এখানেই শেষ।

কেউ পুরনো বরফ কারখানাটাকে টেনে বসিয়ে দিয়েছিল আমি যেখানে ছিলাম সেখানে। কেননা ঘুম থেকে উঠে কোন পরিবর্তন দেখিনি। সবকিছু মনে পড়তে খোঁজ শুরু করলাম। আমার কাছে কিছু নেই, সর্বশান্ত।

তারপরেই একটা সুন্দর কালো গাড়ি দরজায় এসে দাঁড়াল। নামলেন জেনারেল ডিঙ্গো সঙ্গে টুপি ও ট্যান করা জুতো পরা একটা লোক।

আমি নিজেকে বললাম, ঠিক এবার বুঝতে পারছি, আপনারা পুলিশের লোক, আর অতিমাত্রায় দেশভক্তি ও ইচ্ছাকৃত আঘাতের দায়ে বিলি কাসপারিসকে খুঁজজেন। হয়তো সে জেলেই আছে।

কিন্তু মনে হল জেনারেল হাসছেন, অপর লোকটি আমার সঙ্গে করমর্দন করে আমেরিকানদের ভাষার কথা বললেন, সেনিওর কাসপারিস আমাদের আদর্শের জন্য আপনার সাহসপূর্ণ সেবার কথা জেনারেল ডিঙ্গো আমাকে বলেছেন। আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনার এবং অন্যান্য সেনিওর আমেরিকানদের সাহসিকতায় এই মুক্তিযুদ্ধে আমরা জয়লাভ করেছি। এই ঘটনা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।

আমি বললাম যুদ্ধ ? কোন যুদ্ধ?

জেনারেল ডিঙ্গো বললেন- সেনিওর কাপারিস বিনয়ী। সেই ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের মধ্যেও তিনি পরিচালনা করেছিলেন সাহসী বন্ধুদের। সত্যি তাদের সাহায্য না পেলে এ বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়ে যেত।

আমি- তাই নাকি? একটা বিদ্রোহ হয়েছিল? ওটা তো ছিল চতুর্থ-

এটুকু বলেই ইতি টানলাম।

সঙ্গী লোকটি বললেন- সেই সংঘর্ষের পর প্রেসিডেন্ট বোলানো (Bolano) পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। আজ কাবালোকেই (Caballo) প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে। আমি হয়েছি বানিজ্যিক সুযোগ সুবিধা বিভাগের (the Department of Mercantile Concessions) প্রধান।  

আমার ফাইলে এই মর্মে একটা প্রতিবেদন পেয়েছি যে, আপনি সেনিওর কাসপারিস চুক্তি অনুযায়ী বরফ তৈরী করেননি - বলে তিনি হাসলেন।

আমি বললাম হ্যা, এটা ঠিক। তারা আমাকে ঠিকই ধরেছিল। ব্যাপারটা ঐখানেই শেষ।

সঙ্গীটি বললেন- একথা বলবেন না দস্তানাটি খুলে সেই কাচের চাঙরের ওপর হাত রাখলেন।  

গম্ভীরভাবে মাথাটা নেড়ে বললেন - বরফ।

জেনারেল ডিঙ্গোও হাত রাখলেন, বললেন -বরফ।

সঙ্গীটি বললেন -- সেনিওর কাসপারিস যদি ছ তারিখে ট্রেজারিতে আসেন তাহলে জমা রাখা টাকাটা ফেরত পাবেন।

বিদায় জানিয়ে দুজনে বেরিয়ে গেলেন। আর গাড়িটা যখন বালির ওপর দিয়ে যেতে লাগল আমি মাথা নোয়ালাম যতক্ষণ না আমার হ্যাট মাটি স্পর্শ করে। কিন্তু এ অভিবাদনটা তাদের জন্য নয়, রাষ্ট্রদূতের ছাদের ওপর বাতাসে দোলায়মান পুরনো পতাকাটিকে দেখলাম এবং অন্তরের গভীর থেকে অভিবাদন জানালাম

No comments:

Post a Comment

Featured Post

সুইসাইড – থ্রিলার গল্প - রবিন জামান খান – Suiside - Thiller story Bangla

  Thiller story Bangla,থ্রিলার গল্প, সুইসাইড সুইসাইড – থ্রিলার গল্প - রবিন জামান খান – Suiside - Thiller story Bangla দৌড়াতে দৌড়াতে মি...