মজার গল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনী, ছোট গল্প, শিক্ষামূলক ঘটনা, মজার মজার কৌতুক, অনুবাদ গল্প, বই রিভিউ, বই ডাউনলোড, দুঃসাহসিক অভিযান, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, রুপকথা, মিনি গল্প, রহস্য গল্প, লোমহর্ষক গল্প, লোককাহিনী, উপকথা, স্মৃতিকথা, রম্য গল্প, জীবনের গল্প, শিকারের গল্প, ঐতিহাসিক গল্প, অনুপ্রেরণামূলক গল্প, কাহিনী সংক্ষেপ।

Monday, August 24, 2020

দ্যা গোল্ড বাগ - এডগার অ্যালান পো - বাংলা অনুবাদ - The Gold-bug - Edgar Allan Poe - Bengali Translation - Part 4 of 4

দ্যা গোল্ড বাগ - এডগার অ্যালান পো - বাংলা অনুবাদ - The Gold bug - edgar Allan Poe - Bengali Translation
Previous Part Link (আগের পর্ব)

দ্যা গোল্ড বাগ - এডগার অ্যালান পো - বাংলা অনুবার - The Gold-bug - Edgar Allan Poe - Bengali Translation - Part 4 of 4


লেগ্রাণ্ড বলল, যতটা কঠিন মনে হচ্ছে দেখে, আসলে কিন্তু তা নয়। সংখ্যা আর চিহ্ন দিয়ে এমন ভাবে ধাধা তৈরি করা হয়েছে যে দেখলে মনে হবে এর মাথামুণ্ডু কিছু নেই। ক্যাপ্টেন কিড যেহেতু জলদস্যু ছিল সুতরাং ধরে নিলাম অন্য বিষয়ে যুত জ্ঞানই থাক অত্যন্ত জটিল কোনও সংকেত সম্ভবত সে তৈরি করতে পারবে না। সুতরাং মনকে বোঝালাম সমস্যাটা জটিল নয়। এখন প্রথমে বের করতে হবে সঙ্কেতটা কোন ভাষায় লেখা যদি কোনওদিন কোনও সঙ্কেতের পাঠোদ্ধার করতে যাও, প্রথমে দেখবে, যে সংকেত বানিয়েছে সে কোন্ কোন্ ভাষা জানত। সে ভাষাগুলোর প্রত্যেকটা দিয়ে চেষ্টা করবে সবার আগে, তাতে কাজ না হলে তুমি নিজে যে টা ভাষা জানো, ব্যবহার করবে। আমার জন্যে কাজটা খুবই সোজা হলো কারণ, ক্যাপ্টেন কিড নাম লিখতে ব্যবহার করেছে ইংরেজি, সুতরাং ধরেই নেয়া যায় যে, সে পুরো জিনিসটাই ইংরেজিতে লিখেছে। এখন বের করতে হবে লেখাগুলো খেয়াল করেছ নিশ্চয়ই, কোনওরকম ফাঁক-ফোকর নেই সংকেতটার মধ্যে। কোন শব্দের কোথায় আরম্ভ কোথায় শেষ কিছু বোঝার উপায় নেই, সুতরাং এক গোছা চিহ্নকে একটা শব্দ ধরে তারপর সেটা থেকে প্রতিটা অক্ষরের জন্যে ব্যবহার করা চিহ্ন বের করে বাকি লেখাগুলোর সমাধান করবে সে উপায় নেই। তাই অন্যভাবে এগুলাম আমি। প্রথমেই একটা তালিকা বানালাম, কোন চিহ্ন কতবার ব্যবহার হয়েছে তালিকাটা দেখো।
লেগ্রাণ্ড ডাইরী খুলে একটা তালিকা বের করল। দেখলাম তালিকাটা
যে সংখ্যা বা চিহ্ন যতবার ব্যবহার হয়েছে:
8 33.
;          26.
4         19.
+ )     “ 16.
    13.
5         12.
6         11.
! 1        8.
0          6.
9 2       5.
: 3        4.
?          3.
`          2.
.        1.
তুমি তো লেখো, বলো দেখি ইংরেজি ভাষায় কোন্ অক্ষরটা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়?’ তালিকাটা দেখা শেষ হতেই জিজ্ঞেস করল লেগ্রাণ্ড।
বললাম, 'e'
-তারপর?
-‘a'
-তারপর?
-‘o'
-তারপর?
-জানি না।
-জানি না বলে কোনও অক্ষর অবশ্য ইংরেজি ভাষায় নেই। যাকগে, তারপর হলো, তারপর হলো d, এভাবেই আসে h, n, r, s, t, u, y, c, f, g, l, m, w, b, k, p,q, x এবং সবশেষে z তাই যখন দেখলাম সঙ্কেতটার মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার ব্যবহার হয়েছে o তখন ধরে নিলাম ওটা e ইংরেজি অনেক শব্দ আছে যার মধ্যে পাশাপাশি দুটো e আছে। এখানেও দেখলাম পাশাপাশি দুটো আছে, পাঁচবার। এরপর এসো ইংরেজি বাক্যে। ইংরেজি বাক্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় the, একেবারে ট্রেনের কামরায় ফেরিওয়ালার মত, বাক্যের মধ্যে কোথাও না কোথাও থাকবেই থাকবে। সুতরাং খুঁজলাম তিনটে পাশাপাশি চিহ্ন বা সংখ্যা যার শেষটা হবে দিয়ে। পেলাম 48 1 মোট সাতবার। ধরলাম; হলো t, 4 হলো h আর তো e হিসাবে আছেই। সঙ্কেতটার মধ্যে বসিয়ে ফেললাম অক্ষরগুলো। দেখো, এই যে পরের পৃষ্ঠায়। এবারে শেষের থেকে চব্বিশটা অক্ষর, চিহ্ন আর সংখ্যা ছেড়ে এসো। কী পাচ্ছ? পাচ্ছ the-এর পরে ; (88; 4 অর্থাৎt (eeth) এখন তা হলে বের করতে হবে (চিহ্নটার মানে। যতদূর জানি শেষে th দিয়ে ছয় অক্ষরের কোনও ইংরেজি শব্দ নেই। সুতরাং শেষে একটি বা দুটি অক্ষর নিশ্চয়ই অন্য শব্দের গোড়া। এখন (চিহ্নটার জন্যে প্রথমে ধরো a তা হলে দাড়াল taeeth কোনও মানে হয় না। যদি ধরো taee বা taeet তাও কোন মানে হয় না। ধরো b তাতেও লাভ হলো না। এভাবে c, b, e ধরে এগোতে থাক! r বসালে পাবে treeth পাওয়া গেল মানে। tree এবং th সুতরাং (মানে r এবংth পরের শব্দের গোড়া। এবারে ধরো পরের শব্দ thr?3 h বলো দেখি এবারে সাত অক্ষরের একটাইংরেজি শব্দ যার শুরু thr দিয়ে এবং শেষ h দিয়ে?”
বললাম, পারব না।
-চেষ্টা করো।
-বললাম তো বাবা পারব না।
থ্রু (through) একটু চিন্তা করলেই পারতে। লেখার অভ্যাস করতে গিয়ে চিন্তা করার অভ্যাস অবশ্য তোমার গেছে। সে যাই হোক, তা হলে দাঁড়াল মানে 0, ? মানে u, আর 3, মানে h এখন পরপর চারটে শব্দ পাওয়া গেল, the tree through the সঙ্কেতটার মধ্যে এবার 0, u এবং g বসিয়ে ফেললাম। পৃষ্ঠাটা উল্টাও। তাতে চেহারাটা কেমন দাড়াল দেখতেই পাচ্ছ। এখন প্রথম থেকে একান্নটা চিহ্ন বাদ দিয়ে এসো। পাবে egree) একটুখানি চেনা চেনা শব্দ মনে হচ্ছে না? প্রথমে ধরেছিলাম te-টুকু আগের শব্দের শেষ অংশ। বাকিটা green অর্থাৎ) মানে n কিন্তু তা হলে সঙ্কেতটার শেষের দিকে through the-এর পরে দাঁড়ায় nhot 161 কিন্তু nh দিয়ে কোনও শব্দ শুরু হয় না সুতরাং) মানে n নয়। k বসালে হয় Greek কিন্তু একই সমস্যা, khot দিয়ে শুরু কোনও শব্দ নেই। সুতরাং k- নয়। একই কারণে d বা t হতে পারে না তাই শুরু করলাম সামনে থেকে। এর বদলে a, b, c দিয়ে দেখতে লাগলাম। d বসাতেই পেলাম degree মনে পড়ল ক্যাপ্টেন কিডের কথা। যেহেতু নাবিক ছিল লোকটা, degree লেখার সম্ভাবনা খুব বেশি। ধরলাম মানে d এবারে। অর্থ d ধরে পঞ্চম চিহ্ন বসাও। পাওয়া গেল good সুতরাং মানে d-ই। আর তা হলে good-এর আগে 5 রইল শুধু। এক অক্ষরের শব্দ ইংরেজিতে একটাই আছে, a সুতরাং 5 হলো a এবারে সঙ্কেতটার চেহারা। দাঁড়াল এমন-
একটা পৃষ্ঠা উল্টে দিল লেগ্রাণ্ড। একটু কেশে গলাটা পরিষ্কার করে নিয়ে আবার শুরু করল, “শেষের দিক থেকে পঞ্চান্ন নম্বর থেকে শুরু করো এবার, পাওয়া গেল death) heada2ee06*e 10r9 head একটা আস্ত শব্দ সুতরাং ওর পরের a টা হয় একটি অর্থে ব্যবহার হচ্ছে নয়তো পরের শব্দের প্রথম অক্ষর। এখন death এবং head-এর মাঝখানে ওই a, b, c, d করে বসিয়ে যাও। অর্থ পাবে s বসালে। সুতরাং ) মানে s s বসতে প্রথম থেকে তৃতীয় শব্দ দাঁড়াল g0ass6* the একইভাবে চেষ্টা করে বেরোল 0-এর জায়গায় বসানো যায় e অথবা r কিন্তু r বসালে আগে পিছে শব্দের সাথে কোনও সম্পর্ক থাকে না, সুতরাং 0 অর্থ - হবে। তা হলে দাঁড়াল A good glass 6* the সুতরাং 6* একটা আলাদা শব্দ। এখন দেখো s বসানোর পরে একটা জায়গাতে পাচ্ছ orth east, আরেক জায়গাতে শুধু east এখন degree পেলে, একটা দিক পেলে, স্বভাবতই মনে হবে অন্যান্য দিকের কথা। পাওয়া গেল north সুতরাং যদি ধরি * অর্থ n তা হলে degrees-এর আগে রইল one, পরে রইল and, north-east এবং north-এর মাঝে and 2: সুতরাং * যে n তাতে কোনও সন্দেহই রইল না। এখন glass আর the-এর মাঝখানে রইল 6n চারটে মাত্র শব্দ হতে পারে এখন, an, in, on এবং un ব্যাকরণগত শুদ্ধ হবে in অথবা on বসালে সুতরাং 6 অর্থi অথবা ০। এখানে i- হবে কারণ thorteen-এর কোনও অর্থ হয় না। এখন thirteen এবং north-east শব্দ দুটোর মাঝখানের শব্দটা minutes ছাড়া কিছু হতে পারে না, তা হলে দাঁড়াল 9 অর্থ m একই ভাবে line এবং the tree শব্দ দুটোর মাঝের শব্দটা দাঁড়াল from 1 অর্থ পেলাম  f f বসিয়ে শেষের দিকের শব্দে
এর জায়গায় পাই y এখন and এবং north-এর মধ্যে থাকল 2y1 2-এর জায়গাতে b বসালে হলো by এখন বাকি থাকল bishos hostel, de7ilsseat, bran-h 97 se7enth শেষের শব্দটা দেখে এক নজরেই বলতে পারবে ওটা হবে seventh সুতরাং আরেকটা শব্দ হবে devilsseat বাকি থাকল bran-h c বসালেই হলো branch এখন বাকি শুধু bishops hostel-এরই অর্থ হয় শুধুমাত্র সুতরাং খেল খতম তা হলে দাড়াল
a=5 m=9 b=2 n=*
0= d=1 p= . e=8 = ( f=l s=) 9=3
t=; h=4 =? i=6 v=7 I=0 y= :
এবার অক্ষরগুলো বসালে পাবে A good glass in the bishop's hostel in the devil's seat forty-one degrees and thirteen minutes north-east and by north main branch seventh limb east side shoot from the left. eye of the death's head a bee line from the tree through the shot fifty feet out.
তা হলে মানেটা দাড়ালবিশপের হোস্টেলে ডেভিলের চেয়ারে একটা ভাল দূরবীন একচল্লিশ ডিগ্রী তেরো মিনিট উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর প্রধান ডালের পূর্ব দিকের সপ্তম শাখা মড়ার মাথার বাঁ চোখ দিয়ে ঝুলানো কার্তুজ গাছের সবচেয়ে কাছ থেকে কার্তুজ ছোঁয়া বিন্দু দিয়ে পঞ্চাশ ফিট দূরে।
বললাম, সবই তো বুঝলাম, কিন্তু এখনও তো এর মাথা-মুণ্ড বুঝছি না কিছু। বিশপের হোস্টেলে থাকা খাওয়ার সুবন্দোবস্ত আছে দেখে ওখানে আস্তানা গাড়লে, আর শয়তানও না হয় তোমাকে দেখে সসম্মানে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল, কিন্তু দূরবীন, মড়ার মাথা, কার্তুজ ঝুলানো, এগুলো কী? আর বিশপের হোস্টেলটাই বা কোথায়? লেগ্রাণ্ড বলল, তা হলে তো দেখছি সবই বুঝে গেছ। আর সামান্য একটু বাকি। আসলে সঙ্কেতটা শব্দে লিখবার পরও যাতে জটিল থাকে সেজন্য যে সঙ্কেতটা বানিয়েছে সে ইচ্ছে করেই দাঁড়ি-কমা কিছু রাখেনি। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই দেখবে ব্যাপারটা পানির মত সোজা।
বললাম, তোমার কাছে হয়তো তাই।
অনাবিল একটাআপনাদের দোয়ায়জাতীয় হাসি দিল লেগ্রাণ্ড। বলল, ঠিকমত দাঁড়ি-কমা বসানোর পর ব্যাপারটা দাঁড়াবে যে প্রথমে বিশপের হোস্টেল নামে একটা জায়গা খুঁজে বের করতে হবে, তারপর বের করতে হবে সেখানে ডেভিলের চেয়ার নামে বসার মত কোনও কিছু আছে কিনা। সেই চেয়ারটা পাওয়া গেলে সেটাতে বসে মাথা ঘোরাতে হবে উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর দিকে। মোটামুটি একচল্লিশ ডিগ্রী তেরো মিনিট ঘোরানোর পর একটা শক্তিশালী দূরবীন লাগাতে হবে চোখে। তাতে বিশেষ কোনও একটা গাছ চোখে পড়বে যার প্রধান ডালের পূর্ব দিকের সপ্তম শাখায় থাকবে একটা মড়ার খুলি। সেই খুলির বাঁ চোখের গর্ত দিয়ে একটা কার্তুজ সুতোয় বেঁধে ঝুলিয়ে দিতে হবে নীচে। কার্তুজটা যেখানে মাটি স্পর্শ করবে সেখান থেকে গাছের গুড়ির যে অংশটা সবচেয়ে কাছে সেই অংশটা বের করতে হবে। এবার গাছের গুঁড়িটার ওই বিন্দু থেকে কার্তুজটা যেখানে মাটি ছুঁয়েছে সেই বিন্দু দিয়ে পঞ্চাশ ফুট লম্বা একটা সরলরেখা টানলে রেখাটা যেখানে গিয়ে শেষ হবে সেখানে মাটি খুঁড়লেই কেল্লা ফতে।
এবার তো প্রায় সবই বুঝলাম,’ বললাম আমি, ‘কিন্তু বিশপের হোস্টেল, ডেভিলের চেয়ার এগুলো পেলে কোথায়?’
-ওটাই তো আসল প্রশ্ন ছিল আমার কাছে। কদিন তো শূন্যে ভাসছিলাম শুধু, সুলিভ্যান দ্বীপ চষে ফেলেছি বিশপের হোস্টেল, বিশপের বাড়ি বা বিশপের যে কোনও কিছুর খোজ কেউ দিতে পারে কিনা। কেউ শোনেইনি এমন কিছুর কথা। শেষে একদিন হঠাৎ মনে পড়ল দ্বীপের মাইল চারেক উত্তরে Bessop বলে অনেক পুরানো এক জমিদার পরিবারের একটা বাড়ি আছে বলে শুনেছিলাম। রওনা দিলাম তক্ষুণি পৌঁছে অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক বুড়িকে পেলাম। তার কাছে শুনলাম বেসপের কেল্লা বলে একটা জায়গা আছে, তবে সেটা নাকি একটা পাহাড়। বুড়িকে নানী-টানী বলে অনেক তোয়াজ করে, পান-দোক্তা খাইয়ে শেষ পর্যন্ত রাজি করালাম জায়গাটা দেখিয়ে দিতে। জায়গাটা পাওয়ার পর খুঁজতে শুরু করলাম ডেভিলের চেয়ার। খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ দেখি পাহাড়ের চূড়ার কাছে একটু পুব দিক ঘেঁষে, একটা সমান পাথর, একটু ঝুঁকে আছে সামনের দিকে। পাহাড়ের গা-টাও এই জায়গায়, একটু গর্ত মতন আর খুব মসৃণ। চওড়ায় ফুটখানেক হবে আর হাতখানেক সামনের দিকে ঝুঁকে আছে। ঠিক যেন পুরানো দিনের পিঠভোলা চেয়ার। সাথে সাথে বুঝলাম এই সেই ডেভিলের চেয়ার। উঠে গিয়ে বসলাম চেয়ারে। দেখি এমনভাবে চেয়ারটা তৈরি হয়েছে যে বসলে নড়াচড়া করার উপায় নেই। মাথা ঘুরিয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে তাকালাম। লম্বা লম্বা গাছের চেহারা ছাড়া বিশেষ কিছু চোখে পড়ল না। সেদিন আর সময় ছিল না, পরদিন তাই ভোরবেলা জুপের চোখ এড়িয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আগের দিন রাতে শহর থেকে কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম চমৎকার একখানা দূরবীন। সময় ছিল না বলে তোমার সাথে দেখা করতে পারিনি সেদিন। আশা করি এখন মনে কিছু করবে না সেজন্যে। যা হোক, সূর্য ওঠার সাথে সাথে গিয়ে পৌছালাম ওখানে। ডেভিলের চেয়ারে বসে আন্দাজ মত একচল্লিশ ডিগ্রী তেরো মিনিট উত্তরপূর্ব উত্তরে মাথা ঘোরালাম। এবারে দূরবীনে চোখ লাগাতেই গাছপালাগুলো লাফ দিয়ে এগিয়ে এল কাছে। ধীরে ধীরে দূরবীনটা একটু এপাশ ওপাশ করতেই চোখে পড়ল বনের মধ্যে ফাঁকামত একটা জায়গা। দেখি তালগাছ একপায় দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে- মত একটা বিশাল ঝাকড়া গাছ। পুবদিকের ডালগুলো পরীক্ষা করতে শুরু করলাম। দেখলাম একটা ডালে আবছা মতন মড়ার খুলিটা দেখা যাচ্ছে। ব্যস, বাকিটুকু এক নিমেষে পরিষ্কার হয়ে গেল। পুব দিকের সপ্তম ডালে মড়ার খুলি আটকানো আছে। ওর বাঁ চোখ দিয়ে একটা কার্তুজ ঝুলিয়ে দিলে যেখানে মাটি স্পর্শ করবে, সেই বিন্দু থেকে গাছের গুড়ির যে অংশটা সবচেয়ে কাছে সেখান থেকে ওই বিন্দু দিয়ে একটা সরলরেখা আঁকতে হবে পঞ্চাশ ফিট পর্যন্ত। তারপর খোড়ো মাটি, তোলো গুপ্তধন।
তা হলে আমরা যে প্রথমবার ভূতের বেগার খাটলাম সেটা?
-নিশ্চয়ই জুপের ভুলের জন্যে?
-নিশ্চয়ই। ব্যাটা বা চোখের বদলে ডান চোখ দিয়ে পোকাটা নামানোতে ওটা আসল জায়গা থেকে সরে গিয়েছিল ইঞ্চি দুতিন দূরে। আর তার ফলে ওই বিন্দু থেকে গাছের গুঁড়ির সবচেয়ে কাছের অংশটারও পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল সামান্য। সব মিলে প্রথমবার আমরা আসল জায়গা থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে গিয়েছিলাম।
জিজ্ঞেস করলাম, সবই পরিষ্কার হলো, কিন্তু এখানে সোনাপোকাটার ভূমিকাটা ঠিক বুঝলাম না। কার্তুজ বুলিয়েই যদি কাজ হত তা হলে ওটার কী দরকার ছিল? আর পোকাটা ছাড়া অন্য কোনও কিছু বেঁধে ঝুলিয়ে দিলেও তো একই কথা ছিল।
-হাঃ হাঃ, ওইটাই তো আসল কথা, মিটি মিটি হাসতে হাসতে বলল লেগ্রাণ্ড, কেমন বোকা বানালাম তোমাদের? ওটা নেয়ার জন্যেই তোমরা ভেবেছিলে ব্যাপারটার মধ্যে রহস্যজনক কিছু আছে। আমি যদি একটা ইটের টুকরো ঝুলাতাম, তা হলে কি ব্যাপারটা জুতসই হত?
-তা না হয়, বুঝলাম, সুযোগ পেয়ে মাথায় ঘোল ঢেলেছ আমাদের কিন্তু গর্তের মধ্যে কঙ্কালগুলো কি ক্যাপ্টেন কিডের কোনও সাঙ্গপাঙ্গর?
-খুব সম্ভব, উত্তর দিল লেগ্রাণ্ড। এসব ক্ষেত্রে যা হয়ে থাকে। কোনও প্রমাণ রাখে না কেউ কখনও। ক্যাপ্টেন কিড নিশ্চয়ই তার সাঙ্গপাঙ্গকে দিয়ে গুপ্তধন রাখার কাজগুলো করিয়েছে তারপর এক সুযোগে পটলডাঙ্গার টিকেট ধরিয়ে দিয়েছে সবগুলোর হাতে।
বাইরে তাকিয়ে দেখি ভোর হয়ে গেছে। নিভু নিভু হয়ে এসেছে ফায়ারপ্লেসের আগুন। ধারে কাছেই কোথাও মা হারিয়ে একটা ছাগলের বাচ্চা ডেকে উঠল ম্যা ম্যা করে।
-“ক্যাপ্টেন কিড!”
ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলাম দুজন। ইঃ ইঃ শব্দে তাকিয়ে দেখি কোণের দিকে শুধু দুটো সাদা দাঁতের সারি। ওর মধ্যে থেকেই বেরিয়ে আসছে শব্দটা। হাসিতে যোগ দিয়েছে জুপিটার।
মূ: এডগার অ্যালান পো
রূপান্তরঃ জাহিদ হাসান

No comments:

Post a Comment

Popular Posts