মজার গল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনী, ছোট গল্প, শিক্ষামূলক ঘটনা, মজার মজার কৌতুক, অনুবাদ গল্প, বই রিভিউ, বই ডাউনলোড, দুঃসাহসিক অভিযান, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, রুপকথা, মিনি গল্প, রহস্য গল্প, লোমহর্ষক গল্প, লোককাহিনী, উপকথা, স্মৃতিকথা, রম্য গল্প, জীবনের গল্প, শিকারের গল্প, ঐতিহাসিক গল্প, অনুপ্রেরণামূলক গল্প, কাহিনী সংক্ষেপ।

Tuesday, August 18, 2020

বাবুর্চির বুদ্ধি - মজার গল্প – হাসির গল্প – ছোট গল্প

বাবুর্চির বুদ্ধি - মজার গল্প  হাসির গল্প  ছোট গল্প

বাবুর্চির বুদ্ধি - মজার গল্প হাসির গল্প ছোট গল্প

এক দেশের এক নবাব একদিন খেতে বসেছেন। পাখির মাংস দিয়ে ভাত খাবেন। রান্না বেশ ভাল হয়েছে। প্রথমে তিনি একখানা রান খেলেন, দারুণ স্বাদ। তখন আর একখানা রানও পাতে তুলে দিতে বললেন। কিন্তু রান্না করার সময় মাংসের চমৎকার ঘ্রাণে বাবুর্চি আর লোভ সামলাতে না পেরে একখানা রান তখনই খেয়ে ফেলেছে। তাই ভয়ে, আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে বাবুর্চি বলে : হুজুর ওটাতো বক পাখি ছিল, বক পাখির একখানা পা থাকে তাই একখানা পা-ই রান্না করেছি। নবাব সাহেব বাবুর্চির কথা শুনে রেগে লাল হয়ে গেলেন।
বললেনঃ ছোঁচা, তুই কোন সাহসে একখানা রান খেয়ে ফেলে এখন মিথ্যে কথা বলছিস? 
বাবুর্চি : না হুজুর, আমি এক তিলও মিথ্যে বলিনি। বক বড়ো হলে তার একখানা পা-ই থাকে। আমার সঙ্গে বিলের ধারে চলুন, দেখবেন, বক সব এক পায়ে দাঁড়িয়ে। 
নবাব, একটু মুচকি হেসে খাওয়া শেষ করলেন। তারপর, পাইক বরকন্দাজসহ বাবুর্চিকে নিয়ে বিলের দিকে চললেন। বিলের ধারে যেতেই বাবুর্চি চিৎকার দিয়ে বলল : হুজুর, ওই দেখুন ডানদিকে ঝোপের ছায়ায় একটা একপেয়ে বক।
নবাব হাসলেন। তবে কোন শব্দ করলেন না। তারপর জোরে দুতিনবার হাততালি দিলেন। ঘাসের ঝোপের ছায়ায় আরামে ঝিমুতে থাকা বকটি হাততালির শব্দে সচকিত হয়ে অনেক মানুষ দেখে চমকে গিয়ে উড়াল দিল। আর তখনই তার দুখানা পা বেরিয়ে পড়লো
নবাব এবার অট্টহাসি দিয়ে বললেন : কি হে বাবুর্চি, বকের তো দেখি দুখানাই পা!
বাবুর্চি : হুজুর, আপনি হাততালি দেয়াতেই দুখানা পা বেরুলো! ইস! সেদিন খাবার সময় কেন যে হাততালি দিলেন না, হুজুর! দিলেই দুখানা রান পাওয়া যেত।
নবাব বেশ মজা পাচ্ছিলেন। পরিস্থিতিটা তিনি উপভোগও করছিলেন। তাই হাসতে হাসতে বললেন : আমি কি জানতাম, যে হাততালি দিলেই দুখানা রান পাব? জানলে কি আর হাততালি না দিতাম। কিন্তু বাবুর্চি, আমি না হয় বোকার মত হাততালি দেইনি তুমি তো দিতে পারতে। তাহলে তো আমি দুখানা রানই খেতে পারতাম!
বাবুর্চিঃ হুজুর, আমার কি অতটুকু বুদ্ধিও নেই! হাততালি দিলে পাখিটা উড়ে যেতো না। তবু তো হুজুরকে একখানা রান খাওয়াতে পেরেছি, উড়ে গেলে তো তাও খাওয়াতে পারতাম না। আমার জন্য সে যে বড়ো কষ্টের ব্যাপার হতো! আর আপনাকে মাংস ছাড়া খানা আমি কোন মুখে খাওয়াতাম?
বাবুর্চির একটা রান খেয়ে ফেলার ব্যাপারটা নবাব বুঝেছিলেন মনে মনে ভীষণ ক্রুদ্ধও হয়েছিলেন। কিন্তু বাবুর্চির প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে তিনি খুশি হয়ে বাবুর্চিকে শুধু মাপই করলেন নাপুরস্কৃতও করলেন। 

No comments:

Post a Comment

Popular Posts